ঢাকা    বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্যের অবদান



হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়  বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্যের অবদান

হেলথকেয়ার খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ, SR পদে নিয়োগ দিচ্ছে Trust Healthcare BD

হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্যের অবদান

রায়পুরায় ৩টি হত্যাসহ ১০ মামলার আসামি হান্নান ও সন্ত্রাসী নুরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

শাহজাদপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ‎

শাহজাদপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ‎ ‎​মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী ‎সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ ‎ ‎সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে নানা আর্থিক অনিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ​এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে  উপজেলা মাধ্যমিক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তাকে। ‎​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,গত ৩১ আগস্ট তদন্তের অংশ হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র ও আর্থিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করেছেন। উল্লেখ্য,ওই দিনই ছিলো প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়ার কর্মজীবনের শেষ কর্মদিবস। ‎​তদন্তের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য প্রধান শিক্ষক ১০ দিনের সময় চেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে হিসাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ​অভিযোগকারীদের দাবি,সরেজমিনে যাচাইয়ের সময় বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নানা অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। বিষয় গুলো বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ​এই দিকে অবসরে যাওয়ার মুহূর্তে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে মোঃ গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। তবে ঠিক কোন কোন নথিপত্র নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থান কী এবং কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে—এই সব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ‎​তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোঃ গোলাম কিবরিয়া বলেছেন,"আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুলো সত্য নয়। আমি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব হিসাব- নিকাশ ও কাগজপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করব।" নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। ‎​বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ সাদিকুল ইসলাম বলেছেন,"আমরা মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। সে সময় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়া অন্য নথির কথা বলে তাঁর ছেলে ও আরো একজন কে সঙ্গে নিয়ে স্কুলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে গেছেন।"এই বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাইদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন,"অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। আর্থিক হিসাব-নিকাশ দাখিলের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক ১০ দিন সময় নিয়েছেন। পুরো হিসাব দাখিল না করায় তাঁকে এখনো চূড়ান্ত ছাড়পত্র অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।"​ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে,মোঃ গোলাম কিবরিয়া ২০১৩ সালে রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট ছিলো তাঁর কর্মজীবনের শেষ দিন। অবসর গ্রহণের ঠিক শেষ মুহূর্তে আর্থিক অনিয়ম ও নথি গায়েবের অভিযোগ ওঠায় পুরো এলাকা জুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন ও সৃষ্টি হয়েছে।

হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্যের অবদান

বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম, টেকনাফ

শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে একটি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই বিদ্যালয়কে ধীরে ধীরে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে প্রয়োজন নিষ্ঠা, শ্রম, ত্যাগ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা ও অগ্রযাত্রার সঙ্গে প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্যের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পাঠদানের অনুমতি, জমি রেজিস্ট্রেশন, অস্থায়ী ও স্থায়ী নিবন্ধন এবং পরবর্তীতে জাতীয়করণের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা বিদ্যালয়ের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অবদান

এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্য আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেন। তাঁর প্রচেষ্টা ও নিরলস শ্রমের মাধ্যমে এলাকার শিশুদের জন্য একটি স্থায়ী শিক্ষার পরিবেশ গড়ে ওঠে।

অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা

শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি একটি বিদ্যালয়ের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ ও বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমে নিবেদিতা ভট্টাচার্যের উদ্যোগ ও সহযোগিতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর ও কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

পাঠদানের অনুমতি ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া

বিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পাঠদানের অনুমতি অর্জন, জমি রেজিস্ট্রেশন এবং অস্থায়ী ও স্থায়ী নিবন্ধনের মতো প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করাও ছিল দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।

এসব কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্যের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

জাতীয়করণে ভূমিকা

বিদ্যালয়ের দীর্ঘ অগ্রযাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে জাতীয়করণ। জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও অস্তিত্বকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে যে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, তার সঙ্গেও প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্যের প্রচেষ্টা জড়িত বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।

জাতীয়করণের ফলে বিদ্যালয়টি সরকারি ব্যবস্থাপনার আওতায় আসে এবং এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য আরও স্থায়ী ও বিস্তৃত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে ভূমিকা

শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পাঠদানে মনোযোগ এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রেও প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্য কাজ করে আসছেন।

মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগের জন্য মনোনয়নসহ শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বিদ্যালয়টি শুধু পাঠদানের একটি স্থান নয়, বরং এলাকার শিশুদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

‘অদম্য নারী’ সম্মাননা

শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, শ্রম, সাহস ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘অদম্য নারী’ হিসেবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্মাননা লাভ তাঁর কর্মজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এই স্বীকৃতি তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি নারী নেতৃত্ব ও শিক্ষার প্রসারে নারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারও প্রতিফলন।

কমিটি নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি রাষ্ট্রীয় বিধি ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। কমিটিতে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও তারা জানান।

কমিটি গঠনের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও এ নিয়ে বিরোধ বা অসন্তোষ প্রকাশ পাওয়াকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এবং একজন অভিজ্ঞ প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন।

তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমানজনক বক্তব্য কিংবা যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অভিযোগ প্রচার না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ উত্থাপন করাই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

বিদ্যালয়ের সুনাম, শিক্ষার পরিবেশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে যেকোনো বিরোধের আইনসম্মত সমাধান করা প্রয়োজন।

সর্বোপরি

হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের ইতিহাসের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্যের দীর্ঘদিনের শ্রম, নিষ্ঠা ও প্রচেষ্টার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের কাছে স্মরণীয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, অবকাঠামো উন্নয়ন, পাঠদানের অনুমতি, জমি রেজিস্ট্রেশন, নিবন্ধন, জাতীয়করণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা মূল্যায়নের দাবি রাখে।

একটি বিদ্যালয় শুধু একটি ভবন নয়—এটি একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রতিষ্ঠান। তাই ব্যক্তিগত বিরোধ বা মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে বিদ্যালয়ের স্বার্থ, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষার পরিবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া সবার দায়িত্ব।

“একটি বিদ্যালয় একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ার কারখানা। সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে যারা শ্রম ও নিষ্ঠা দিয়ে কাজ করেন, তাঁদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও সংরক্ষণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”

বুড়িগঙ্গা

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্যের অবদান

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্যের অবদান

বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম, টেকনাফ

শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে একটি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই বিদ্যালয়কে ধীরে ধীরে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে প্রয়োজন নিষ্ঠা, শ্রম, ত্যাগ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা ও অগ্রযাত্রার সঙ্গে প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্যের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পাঠদানের অনুমতি, জমি রেজিস্ট্রেশন, অস্থায়ী ও স্থায়ী নিবন্ধন এবং পরবর্তীতে জাতীয়করণের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা বিদ্যালয়ের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অবদান

এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্য আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেন। তাঁর প্রচেষ্টা ও নিরলস শ্রমের মাধ্যমে এলাকার শিশুদের জন্য একটি স্থায়ী শিক্ষার পরিবেশ গড়ে ওঠে।

অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা

শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি একটি বিদ্যালয়ের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ ও বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমে নিবেদিতা ভট্টাচার্যের উদ্যোগ ও সহযোগিতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর ও কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

পাঠদানের অনুমতি ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া

বিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পাঠদানের অনুমতি অর্জন, জমি রেজিস্ট্রেশন এবং অস্থায়ী ও স্থায়ী নিবন্ধনের মতো প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করাও ছিল দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।

এসব কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্যের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

জাতীয়করণে ভূমিকা

বিদ্যালয়ের দীর্ঘ অগ্রযাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে জাতীয়করণ। জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও অস্তিত্বকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে যে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, তার সঙ্গেও প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্যের প্রচেষ্টা জড়িত বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।

জাতীয়করণের ফলে বিদ্যালয়টি সরকারি ব্যবস্থাপনার আওতায় আসে এবং এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য আরও স্থায়ী ও বিস্তৃত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে ভূমিকা

শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পাঠদানে মনোযোগ এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রেও প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্য কাজ করে আসছেন।

মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগের জন্য মনোনয়নসহ শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বিদ্যালয়টি শুধু পাঠদানের একটি স্থান নয়, বরং এলাকার শিশুদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

‘অদম্য নারী’ সম্মাননা

শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, শ্রম, সাহস ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘অদম্য নারী’ হিসেবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্মাননা লাভ তাঁর কর্মজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এই স্বীকৃতি তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি নারী নেতৃত্ব ও শিক্ষার প্রসারে নারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারও প্রতিফলন।

কমিটি নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি রাষ্ট্রীয় বিধি ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। কমিটিতে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও তারা জানান।

কমিটি গঠনের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও এ নিয়ে বিরোধ বা অসন্তোষ প্রকাশ পাওয়াকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এবং একজন অভিজ্ঞ প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন।

তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমানজনক বক্তব্য কিংবা যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অভিযোগ প্রচার না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ উত্থাপন করাই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

বিদ্যালয়ের সুনাম, শিক্ষার পরিবেশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে যেকোনো বিরোধের আইনসম্মত সমাধান করা প্রয়োজন।

সর্বোপরি

হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের ইতিহাসের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্যের দীর্ঘদিনের শ্রম, নিষ্ঠা ও প্রচেষ্টার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের কাছে স্মরণীয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, অবকাঠামো উন্নয়ন, পাঠদানের অনুমতি, জমি রেজিস্ট্রেশন, নিবন্ধন, জাতীয়করণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা মূল্যায়নের দাবি রাখে।

একটি বিদ্যালয় শুধু একটি ভবন নয়—এটি একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রতিষ্ঠান। তাই ব্যক্তিগত বিরোধ বা মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে বিদ্যালয়ের স্বার্থ, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষার পরিবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া সবার দায়িত্ব।

“একটি বিদ্যালয় একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ার কারখানা। সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে যারা শ্রম ও নিষ্ঠা দিয়ে কাজ করেন, তাঁদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও সংরক্ষণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে প্রধান শিক্ষক নিবেদিতা ভট্টাচার্যের অবদান
0:00 0:00
1.0x