ঢাকা    শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

হত্যাকান্ডের এক বছর পরও বাড়ি ফিরতে পারছেনা ২৮ সদস্যের পরিবার



হত্যাকান্ডের এক বছর পরও বাড়ি ফিরতে পারছেনা ২৮ সদস্যের পরিবার
হত্যাকাণ্ডের পর নিশ্চিহ্ন করে দেয়া প্রতিপক্ষের বাড়ি ঘরের চিহ্ন

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, হত্যা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল একবছর পূর্বে। সেই সংঘর্ষ সংঘাতের রেশ কাটেনি এখনো। তখন শতবর্ষী একটি বাগানবাড়ি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই নারকীয় হামলা লুটতরাজের পর থেকে ২৮ সদস্যের পরিবার হামলাকারীদের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি।

এই ২৮ সদস্যের পরিবারের মধ্যে ৭০ ঊর্ধ্ব বৃদ্ধা সহ স্কুল ও মাদ্রাসা পড়ুয়া ১০ জন শিক্ষার্থীও রয়েছে। দীর্ঘদিন বাড়িছাড়া থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ ঘটনাটি উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের কর্মা গ্রামের। 

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একই বাড়ির গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ও কছুম উদ্দিনের ছেলেদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ, চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধের স্থায়ী কোন সমাধান হয়নি।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কছুম উদ্দিনের ছেলেদের বিরুদ্ধে গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় গিয়াস উদ্দিনের বড় ছেলে মোসলেম উদ্দিনের বাম চোখে রামদার কোপ লাগে। এতে তার চোখটি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়। 

পরে ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। খোকন রাতে আহত হলেও তার সৎ মা ও সৎ ভাইয়েরা তাকে চিকিৎসা দিতে গড়িমসি করে। চিকিৎসাজনিত অবহেলাতেই কছুম উদ্দিনের ছেলে খোকন মিয়া নিহত হন বলে দাবি করেন এখলাছ উদ্দিন। ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। 

গিয়াস উদ্দিনের পরিবারের অভিযোগ, এরপর কছুম উদ্দিনের অন্য ছেলেরা লোকজন নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। চারটি হাফ বিল্ডিং ও পাঁচটি টিনের ঘর ভেঙে ফেলা হয়। ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল লুটের পাশাপাশি ঘরের ইট পর্যন্ত খুলে নেওয়া হয়। কেটে ফেলা হয় অর্ধশতাধিক গাছপালা।

ভুক্তভোগী মুফতি এখলাছ উদ্দিনের দাবি, হামলা ও ভাঙচুরে তাদের প্রায় আড়াই কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, বুলডোজার দিয়ে শতবর্ষী বাগান বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়ছিল। বাড়ির উঠানে গর্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে বসতভিটার কোনো চিহ্ন নেই।

এখলাছ উদ্দিনের অভিযোগ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তখন মামলা নেয়নি। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক বছর ধরে বাড়িছাড়া থাকতে হচ্ছে।

অন্যদিকে নিহত খোকন মিয়ার সৎ ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ভাইকে তারা ফিরিয়ে দিয়ে বাড়িতে আসুক, আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তাদের বাড়িঘর কারা ভাঙচুর করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উত্তেজিত এলাকাবাসী বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আজম জানান, মামলার আসামিরা যদি জামিনে থাকেন, তবে তাদের নিজ বাড়িতে থাকার আইনি অধিকার রয়েছে। আর যারা মামলার আসামি নন, তাদের ক্ষেত্রেও বাড়িতে থাকতে কোনো বাধা থাকার কথা নয়।

বুড়িগঙ্গা

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


হত্যাকান্ডের এক বছর পরও বাড়ি ফিরতে পারছেনা ২৮ সদস্যের পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, হত্যা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল একবছর পূর্বে। সেই সংঘর্ষ সংঘাতের রেশ কাটেনি এখনো। তখন শতবর্ষী একটি বাগানবাড়ি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই নারকীয় হামলা লুটতরাজের পর থেকে ২৮ সদস্যের পরিবার হামলাকারীদের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি।

এই ২৮ সদস্যের পরিবারের মধ্যে ৭০ ঊর্ধ্ব বৃদ্ধা সহ স্কুল ও মাদ্রাসা পড়ুয়া ১০ জন শিক্ষার্থীও রয়েছে। দীর্ঘদিন বাড়িছাড়া থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ ঘটনাটি উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের কর্মা গ্রামের। 

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একই বাড়ির গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ও কছুম উদ্দিনের ছেলেদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ, চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধের স্থায়ী কোন সমাধান হয়নি।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কছুম উদ্দিনের ছেলেদের বিরুদ্ধে গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় গিয়াস উদ্দিনের বড় ছেলে মোসলেম উদ্দিনের বাম চোখে রামদার কোপ লাগে। এতে তার চোখটি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়। 

পরে ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। খোকন রাতে আহত হলেও তার সৎ মা ও সৎ ভাইয়েরা তাকে চিকিৎসা দিতে গড়িমসি করে। চিকিৎসাজনিত অবহেলাতেই কছুম উদ্দিনের ছেলে খোকন মিয়া নিহত হন বলে দাবি করেন এখলাছ উদ্দিন। ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। 

গিয়াস উদ্দিনের পরিবারের অভিযোগ, এরপর কছুম উদ্দিনের অন্য ছেলেরা লোকজন নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। চারটি হাফ বিল্ডিং ও পাঁচটি টিনের ঘর ভেঙে ফেলা হয়। ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল লুটের পাশাপাশি ঘরের ইট পর্যন্ত খুলে নেওয়া হয়। কেটে ফেলা হয় অর্ধশতাধিক গাছপালা।

ভুক্তভোগী মুফতি এখলাছ উদ্দিনের দাবি, হামলা ও ভাঙচুরে তাদের প্রায় আড়াই কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, বুলডোজার দিয়ে শতবর্ষী বাগান বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়ছিল। বাড়ির উঠানে গর্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে বসতভিটার কোনো চিহ্ন নেই।

এখলাছ উদ্দিনের অভিযোগ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তখন মামলা নেয়নি। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক বছর ধরে বাড়িছাড়া থাকতে হচ্ছে।

অন্যদিকে নিহত খোকন মিয়ার সৎ ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ভাইকে তারা ফিরিয়ে দিয়ে বাড়িতে আসুক, আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তাদের বাড়িঘর কারা ভাঙচুর করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উত্তেজিত এলাকাবাসী বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আজম জানান, মামলার আসামিরা যদি জামিনে থাকেন, তবে তাদের নিজ বাড়িতে থাকার আইনি অধিকার রয়েছে। আর যারা মামলার আসামি নন, তাদের ক্ষেত্রেও বাড়িতে থাকতে কোনো বাধা থাকার কথা নয়।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
হত্যাকান্ডের এক বছর পরও বাড়ি ফিরতে পারছেনা ২৮ সদস্যের পরিবার
0:00 0:00
1.0x