ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

সনদ নিয়ে প্রশ্ন, বিএনপি নেতার বাধায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন



সনদ নিয়ে প্রশ্ন, বিএনপি নেতার বাধায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন
সনদ নিয়ে প্রশ্ন, বিএনপি নেতার বাধায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন

জামালপুরের বকশীগঞ্জে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা (গার্ড অব অনার) দিতে বাধা দেওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন মাস্টারের (৮৫) দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জানাজা শেষে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের মদনেরচর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও নিন্দার ঝর বইছে।

দেলোয়ার হোসেন সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ বাড়িতে তাঁর জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ার হোসেনকে গার্ড অব অনার দিতে পুলিশ নিয়ে মদনেরচর এলাকায় যাচ্ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা। পথে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও উপজেলা বিএনপির মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক নওশেদ আলীসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা তাঁর পথরোধ করেন।

এ সময় তাঁরা দাবি করেন, দেলোয়ার হোসেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। জাল সনদের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ কারণে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

ভিডিওতে নওশেদ আলীকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে বাধা দেওয়ার কথা বলেন। পরে বাধার মুখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফিরে আসেন। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দেলোয়ার হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়।

দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শামীম মিয়া বলেন, ‘আমার বাবা ২০১৫ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধার সব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছেন। একটি মহল বাবার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করলে হাইকোর্ট ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে বাবাকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাবার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে কেন বাধা দেওয়া হলো, তা বুঝতে পারছি না।’

তবে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নওশেদ আলী বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। নিয়মবহির্ভূতভাবে তাঁর নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা না হওয়ায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে বাধা দিয়েছি।’

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়ে আমরা মদনেরচর গ্রামে যাচ্ছিলাম। পথে নওশেদ আলীসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানান। তাঁদের বাধার মুখে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।।

বুড়িগঙ্গা

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


সনদ নিয়ে প্রশ্ন, বিএনপি নেতার বাধায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


জামালপুরের বকশীগঞ্জে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা (গার্ড অব অনার) দিতে বাধা দেওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন মাস্টারের (৮৫) দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জানাজা শেষে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের মদনেরচর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও নিন্দার ঝর বইছে।

দেলোয়ার হোসেন সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ বাড়িতে তাঁর জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ার হোসেনকে গার্ড অব অনার দিতে পুলিশ নিয়ে মদনেরচর এলাকায় যাচ্ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা। পথে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও উপজেলা বিএনপির মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক নওশেদ আলীসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা তাঁর পথরোধ করেন।

এ সময় তাঁরা দাবি করেন, দেলোয়ার হোসেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। জাল সনদের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ কারণে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

ভিডিওতে নওশেদ আলীকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে বাধা দেওয়ার কথা বলেন। পরে বাধার মুখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফিরে আসেন। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দেলোয়ার হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়।

দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শামীম মিয়া বলেন, ‘আমার বাবা ২০১৫ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধার সব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছেন। একটি মহল বাবার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করলে হাইকোর্ট ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে বাবাকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাবার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে কেন বাধা দেওয়া হলো, তা বুঝতে পারছি না।’

তবে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নওশেদ আলী বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। নিয়মবহির্ভূতভাবে তাঁর নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা না হওয়ায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে বাধা দিয়েছি।’

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়ে আমরা মদনেরচর গ্রামে যাচ্ছিলাম। পথে নওশেদ আলীসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানান। তাঁদের বাধার মুখে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
সনদ নিয়ে প্রশ্ন, বিএনপি নেতার বাধায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন
0:00 0:00
1.0x