বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। আগামী ২৩ জুলাই ২০২৬ তিনি ভাইস অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভের পর আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আগামী তিন বছরের জন্য নৌবাহিনীর ১৮তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
গত ১৬ জুলাই আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
তাঁর নিয়োগের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি উঠেছে। এসব প্রচারণাকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পেশাগত সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেছেন।
দেশের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের মধ্যে নৈতিক বিচ্যুতি, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা আস্থার অপব্যবহারের কোনো নজির তাঁরা দেখেননি।
তাঁরা আরও উল্লেখ করেন, সরকারি ভ্রমণ ভাতা (টিএ/ডিএ) বা সরকারি গাড়ি ব্যবহারের মতো অভিযোগ অতীতেও অনেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তোলা হয়েছে। তাঁদের ভাষায়, "সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার পুরস্কার কখনো রুখে দেওয়া যায় না।"
রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম সম্প্রতি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল এবং বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্টসহ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেন।
তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পেশাগত দক্ষতা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি 'নৌবাহিনী পদক' এবং 'নৌ পারদর্শিতা পদক' লাভ করেছেন।
অন্যদিকে, বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান গত ১৬ জুলাই সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তিনি ২৪ জুলাই ২০২৩ থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
দ্রষ্টব্য: আপনার লেখার একটি অংশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখানে নেই, তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে নয়, বরং "দাবি", "অভিযোগ" বা "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য" হিসেবে উপস্থাপন করাই সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে অধিক উপযুক্ত।