ঢাকা, ৫ নভেম্বর ২০২৬: আত্মহত্যা প্রতিরোধ, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার কৌশল নিয়ে রাজধানীর আজিমপুরের নিউ পল্টন লেনের ইরাকি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মনের যত্ন সবার আগে’ শীর্ষক কর্মশালা।
মাইন্ডরিডার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শহীদ মানিক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয়বারের মতো এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা, মানসিক অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ, মানসিক চাপ মোকাবিলা, সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ এবং প্রয়োজনের সময় পেশাদার সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮–১৯ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮–৯৯ বছর বয়সীদের ১৮.৭ শতাংশ এবং ৭–১৭ বছর বয়সী শিশুদের ১২.৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত। অথচ আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ৯২.৩ শতাংশ এবং শিশুদের ৯৪.৫ শতাংশ প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেননি।
এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের গণমাধ্যমভিত্তিক পর্যবেক্ষণে ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে যথাক্রমে ৫১৩, ৩১০ ও ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এসব পরিসংখ্যান সরকারি জাতীয় মৃত্যুহার নয়; তবে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
কর্মশালাটি একমুখী আলোচনার পরিবর্তে অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। তিন ঘণ্টাব্যাপী আয়োজনে দলীয় কার্যক্রম, প্রশ্নোত্তর ও বিভিন্ন ইন্টারেক্টিভ পর্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের বোঝানো হয়, মানসিক সমস্যায় পড়া কোনো দুর্বলতা নয় এবং প্রয়োজনে সহায়তা নেওয়া লজ্জার বিষয়ও নয়।
মাইন্ডরিডার ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ‘মনের যত্ন সবার আগে’ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ঢাকা ও আশপাশের ৯০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যও রয়েছে তাদের।
কর্মশালায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি শেখ রিফাদ মাহমুদ।
প্রকল্পের তৃতীয় কর্মশালাটি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন প্রজেক্ট ম্যানেজার রুবাইয়া আমিন অর্পা। এ সময় প্রকল্পের সদস্য রাজিয়া সুলতানা ঝুমুর, সুখী আক্তার লামিয়া, নুরুন্নাহার আক্তার, উম্মে স্মিতা শান্তু ও আফরোজা আক্তার মনি উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা মনে করেন, মানসিক স্বাস্থ্যকে শুধু অসুস্থতার পর চিকিৎসার বিষয় হিসেবে নয়, বরং সুস্থতা বজায় রাখা, ঝুঁকি কমানো, প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার সহায়তা গ্রহণের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।