ঢাকা    শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

রাজনৈতিক ছায়া নাকি প্রশাসনিক জটিলতা? তালজাঙ্গা আর সি রায় উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নয়ন ও শিক্ষার অগ্রযাত্রা থমকে যাওয়ার অভিযোগ



রাজনৈতিক ছায়া নাকি প্রশাসনিক জটিলতা? তালজাঙ্গা আর সি রায় উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নয়ন ও শিক্ষার অগ্রযাত্রা থমকে যাওয়ার অভিযোগ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু ‎ ‎মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী ‎সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ ‎ ‎রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন বিসিক-এর যৌথ উদ্যোগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী ‘Entrepreneurship Development Training’ উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতারের দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টায় এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি,ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া,সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক ধারণা,ব্যবসা পরিচালনার কৌশল এবং উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করা হবে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুস সোবাহান এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের বিসিক পরিচালক বিটিআই ও জিএম পরিকল্পনা ও গবেষণা ড. মোঃ ফরহাদ আহমেদ। প্রশিক্ষনের কোর্স পরিচালক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ তানজিম হোসেন। এছাড়াও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ এর শিক্ষার্থী উদ‍্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষন কমিটির আহবায়ক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান জান্নাতুল মাওয়া মুন সহ উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ ও শিক্ষকবৃন্দ। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের বিসিক প্রশিক্ষকেরা পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা করেছেন,এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা ও দক্ষতা বিকশিত হবে এবং ভবিষ্যতে তারা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

ইনসাফের সমাজ ও উন্নত ইউনিয়ন গড়ার অঙ্গীকারে দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফেজ শাহ জাহান সিরাজ

রাণীশংকৈলে ধর্ষণ মামলার আসামি গাজীপুরে গ্রেপ্তার

সাদুল্লাপুরে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার: শাহ রফিকুজ্জামান মিথুন

কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তালজাঙ্গা আর সি রায় উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে হাজারো শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার গৌরব অর্জন করেছে। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়টিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

এলাকাবাসীর দাবি, বহুদিন ধরে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও নতুন কমিটি গঠন হয়নি। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—কেন নতুন কমিটি গঠনে এত দীর্ঘসূত্রতা? এর পেছনে কি রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে, নাকি প্রশাসনিক জটিলতা? নাকি অন্য কোনো অদৃশ্য শক্তির কারণে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে?

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়কে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে অভিযোগ ও বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীল পরিবেশ না থাকলে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিভাজন বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়লে সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হয় শিক্ষার্থীরা। কারণ বিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার কারখানা।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং একটি কার্যকর পরিচালনা কমিটি গঠনই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। তারা মনে করেন, অপ্রয়োজনীয় টানাপোড়েন ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য পরিচালনা কমিটি গঠন করা জরুরি।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় একসময় এলাকার অন্যতম সুনামধন্য এই বিদ্যালয় তার ঐতিহ্য ও শিক্ষার মান হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রেখে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটবে।

শাহজাদপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ‎ ‎​মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী ‎সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ ‎ ‎সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে নানা আর্থিক অনিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ​এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে  উপজেলা মাধ্যমিক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তাকে। ‎​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,গত ৩১ আগস্ট তদন্তের অংশ হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র ও আর্থিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করেছেন। উল্লেখ্য,ওই দিনই ছিলো প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়ার কর্মজীবনের শেষ কর্মদিবস। ‎​তদন্তের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য প্রধান শিক্ষক ১০ দিনের সময় চেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে হিসাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ​অভিযোগকারীদের দাবি,সরেজমিনে যাচাইয়ের সময় বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নানা অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। বিষয় গুলো বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ​এই দিকে অবসরে যাওয়ার মুহূর্তে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে মোঃ গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। তবে ঠিক কোন কোন নথিপত্র নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থান কী এবং কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে—এই সব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ‎​তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোঃ গোলাম কিবরিয়া বলেছেন,"আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুলো সত্য নয়। আমি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব হিসাব- নিকাশ ও কাগজপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করব।" নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। ‎​বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ সাদিকুল ইসলাম বলেছেন,"আমরা মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। সে সময় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়া অন্য নথির কথা বলে তাঁর ছেলে ও আরো একজন কে সঙ্গে নিয়ে স্কুলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে গেছেন।"এই বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাইদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন,"অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। আর্থিক হিসাব-নিকাশ দাখিলের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক ১০ দিন সময় নিয়েছেন। পুরো হিসাব দাখিল না করায় তাঁকে এখনো চূড়ান্ত ছাড়পত্র অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।"​ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে,মোঃ গোলাম কিবরিয়া ২০১৩ সালে রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট ছিলো তাঁর কর্মজীবনের শেষ দিন। অবসর গ্রহণের ঠিক শেষ মুহূর্তে আর্থিক অনিয়ম ও নথি গায়েবের অভিযোগ ওঠায় পুরো এলাকা জুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন ও সৃষ্টি হয়েছে।

শাহজাদপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ‎ ‎​মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী ‎সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ ‎ ‎সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে নানা আর্থিক অনিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ​এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে  উপজেলা মাধ্যমিক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তাকে। ‎​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,গত ৩১ আগস্ট তদন্তের অংশ হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র ও আর্থিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করেছেন। উল্লেখ্য,ওই দিনই ছিলো প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়ার কর্মজীবনের শেষ কর্মদিবস। ‎​তদন্তের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য প্রধান শিক্ষক ১০ দিনের সময় চেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে হিসাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ​অভিযোগকারীদের দাবি,সরেজমিনে যাচাইয়ের সময় বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নানা অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। বিষয় গুলো বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ​এই দিকে অবসরে যাওয়ার মুহূর্তে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে মোঃ গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। তবে ঠিক কোন কোন নথিপত্র নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থান কী এবং কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে—এই সব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ‎​তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোঃ গোলাম কিবরিয়া বলেছেন,"আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুলো সত্য নয়। আমি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব হিসাব- নিকাশ ও কাগজপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করব।" নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। ‎​বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ সাদিকুল ইসলাম বলেছেন,"আমরা মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। সে সময় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়া অন্য নথির কথা বলে তাঁর ছেলে ও আরো একজন কে সঙ্গে নিয়ে স্কুলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে গেছেন।"এই বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাইদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন,"অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। আর্থিক হিসাব-নিকাশ দাখিলের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক ১০ দিন সময় নিয়েছেন। পুরো হিসাব দাখিল না করায় তাঁকে এখনো চূড়ান্ত ছাড়পত্র অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।"​ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে,মোঃ গোলাম কিবরিয়া ২০১৩ সালে রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট ছিলো তাঁর কর্মজীবনের শেষ দিন। অবসর গ্রহণের ঠিক শেষ মুহূর্তে আর্থিক অনিয়ম ও নথি গায়েবের অভিযোগ ওঠায় পুরো এলাকা জুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন ও সৃষ্টি হয়েছে।

বুড়িগঙ্গা

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাজনৈতিক ছায়া নাকি প্রশাসনিক জটিলতা? তালজাঙ্গা আর সি রায় উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নয়ন ও শিক্ষার অগ্রযাত্রা থমকে যাওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

স্টাফ রিপোর্টার: শাহ রফিকুজ্জামান মিথুন


কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তালজাঙ্গা আর সি রায় উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে হাজারো শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার গৌরব অর্জন করেছে। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়টিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

এলাকাবাসীর দাবি, বহুদিন ধরে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও নতুন কমিটি গঠন হয়নি। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—কেন নতুন কমিটি গঠনে এত দীর্ঘসূত্রতা? এর পেছনে কি রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে, নাকি প্রশাসনিক জটিলতা? নাকি অন্য কোনো অদৃশ্য শক্তির কারণে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে?

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়কে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে অভিযোগ ও বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীল পরিবেশ না থাকলে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিভাজন বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়লে সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হয় শিক্ষার্থীরা। কারণ বিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার কারখানা।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং একটি কার্যকর পরিচালনা কমিটি গঠনই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। তারা মনে করেন, অপ্রয়োজনীয় টানাপোড়েন ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য পরিচালনা কমিটি গঠন করা জরুরি।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় একসময় এলাকার অন্যতম সুনামধন্য এই বিদ্যালয় তার ঐতিহ্য ও শিক্ষার মান হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রেখে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটবে।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
রাজনৈতিক ছায়া নাকি প্রশাসনিক জটিলতা? তালজাঙ্গা আর সি রায় উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নয়ন ও শিক্ষার অগ্রযাত্রা থমকে যাওয়ার অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x