জেলা প্রতিনিধি মো: আরিফুল ইসলাম ভাঙ্গুড়া(পাবনা)
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ডলমোড়-নৌবাড়ীয়া চৌরাস্তা সড়কের দুই কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে চরমভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত পানি ও কাদায় ভরে গিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল কার্যত দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগী ও যানবাহন চালকদের মধ্যে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের অধিকাংশ স্থানে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই গভীর যে যানবাহন চলাচলের সময় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বৃষ্টির সময় পুরো রাস্তা কাদা ও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গর্ত চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান, রিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের চালকদের চরম ভোগানিÍ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, এই সড়কটি শুধু ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকার মানুষের জন্য নয়, বরং পুরো উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, ভাঙ্গুড়া থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ভাঙ্গুড়া হাটবাজারসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের প্রধান সড়ক এটি। এছাড়া খানমরিচ ও দিলপাশার ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করেন। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, রোগী ও সাধারণ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি রোগী পরিবহনেও সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা। অনেক সময় যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হয়। বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা কাদায় ঢেকে যায়, কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা বোঝা যায় না। শিশু, বয়স্ক ও নারী সবাই চরম দুর্ভোগে পড়েন। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অটোরিকশাচালক আব্দুল মালেক বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়েূ যাত্রী নিয়ে চলাচল করি। গর্ত এড়িয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। গাড়ির চাকা, সাসপেনশনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। এতে আয় কমে যাচ্ছে, কিন্তু খরচ বেড়েই চলেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. শাহীন আলম বলেন ভাঙ্গুড়া হাটবাজারে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্য আসে। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে এবং সময়মতো পণ্য পৌঁছানো যায় না। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা দ্রুত সড়কটির টেকসই সংস্কার চাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, সড়কটির অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংস্কার কাজ শুরু হবে।