ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

পাঁচ মাসে ২৫০টির বেশি অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ করেছে সরকার



পাঁচ মাসে ২৫০টির বেশি অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ করেছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে লাইসেন্সবিহীন ও মানহীন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে সরকার। গত পাঁচ মাসে সারা দেশে আড়াই শতাধিক অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করা এবং এ খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে গত ২৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, অভিযানের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন ও পরিদর্শকদের নজরদারি চালানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

তিনি আরও জানান, অভিযানের মাধ্যমে ২৫০টিরও বেশি অনুমোদনহীন ক্লিনিক সিলগালা ও বন্ধ করার পাশাপাশি প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটি সংশোধনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

ডা. মো. নূরুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, কড়াকড়ির কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ছয় হাজার ক্লিনিক লাইসেন্স নবায়ন করেছে এবং আরও ২ থেকে ৩ হাজার নতুন আবেদন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ১ হাজার ২৮৫টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪১৫টি প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিভাগে অবস্থিত। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে ময়মনসিংহে ২৫২, চট্টগ্রামে ২৪০, খুলনায় ১৫৬, রংপুরে ১১১, রাজশাহীতে ৫৫, বরিশালে ৪৮ এবং সিলেটে ৮টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত হয়।

ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক বন্ধের তালিকায় ঢাকার ২৫টি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, শরীয়তপুর, নরসিংদী, পাবনা, মানিকগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও রাজশাহীর জেলা-উপজেলা পর্যায়ের একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

অভিযানের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চিকিৎসার সর্বনিম্ন মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এতে কোনো ধরনের ছাড় বা আপস করা হবে না।’

মন্ত্রী আরও বলেছেন, রাজধানী কেন্দ্রিক এ তদারকি কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত জোরদার করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, লাইসেন্স যাচাইয়ের পাশাপাশি চিকিৎসাকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামের মান, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসকদের বৈধ সনদপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অভিযানের লক্ষ্য কেবল অবকাঠামোগত অনিয়ম দূর করা নয়; ভুয়া চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াও এই কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য।’

বিষয় : স্বাস্থ্য অভিযান জনস্বাস্থ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

বুড়িগঙ্গা

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


পাঁচ মাসে ২৫০টির বেশি অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ করেছে সরকার

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে লাইসেন্সবিহীন ও মানহীন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে সরকার। গত পাঁচ মাসে সারা দেশে আড়াই শতাধিক অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করা এবং এ খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে গত ২৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, অভিযানের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন ও পরিদর্শকদের নজরদারি চালানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

তিনি আরও জানান, অভিযানের মাধ্যমে ২৫০টিরও বেশি অনুমোদনহীন ক্লিনিক সিলগালা ও বন্ধ করার পাশাপাশি প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটি সংশোধনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

ডা. মো. নূরুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, কড়াকড়ির কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ছয় হাজার ক্লিনিক লাইসেন্স নবায়ন করেছে এবং আরও ২ থেকে ৩ হাজার নতুন আবেদন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ১ হাজার ২৮৫টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪১৫টি প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিভাগে অবস্থিত। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে ময়মনসিংহে ২৫২, চট্টগ্রামে ২৪০, খুলনায় ১৫৬, রংপুরে ১১১, রাজশাহীতে ৫৫, বরিশালে ৪৮ এবং সিলেটে ৮টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত হয়।

ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক বন্ধের তালিকায় ঢাকার ২৫টি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, শরীয়তপুর, নরসিংদী, পাবনা, মানিকগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও রাজশাহীর জেলা-উপজেলা পর্যায়ের একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

অভিযানের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চিকিৎসার সর্বনিম্ন মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এতে কোনো ধরনের ছাড় বা আপস করা হবে না।’

মন্ত্রী আরও বলেছেন, রাজধানী কেন্দ্রিক এ তদারকি কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত জোরদার করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, লাইসেন্স যাচাইয়ের পাশাপাশি চিকিৎসাকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামের মান, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসকদের বৈধ সনদপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অভিযানের লক্ষ্য কেবল অবকাঠামোগত অনিয়ম দূর করা নয়; ভুয়া চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াও এই কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য।’


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
পাঁচ মাসে ২৫০টির বেশি অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ করেছে সরকার
0:00 0:00
1.0x