নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগর ইউনিয়নের ফুলপুর গ্রামে এক মুদি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও নগদ দুই লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দোকান মালিক মো. জানু মিয়া ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় আছেন বলে জানান। মঙ্গলবার সকাল ১২ টার দিকে ঘটনার সরেজমিনে গিয়ে এমন করুণ চিত্র দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী জানু মিয়া ফুলপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে আব্দুল মতিনের ছেলে জামায়েত নেতা হেলিম (৩৫)-এর নেতৃত্বে সাইফুল, (৩৩)এরশাদ মিয়া (৩২),সাইদুল ইসলাম মেম্বার, আল মামুন (৩০)সহ অজ্ঞাতপরিচয় ৪০-৫০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর মুদি দোকানে হামলা চালান। এ সময় দোকানে ভাঙচুরের পাশাপাশি দুই লাখ নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ।
জানু মিয়ার দাবি, হামলাকারীরা দোকান থেকে আনুমানিক দুই লাখ টাকা নগদ লুট করে নিয়ে যান। এ ছাড়া দোকানের স্মার্ট টেলিভিশন সহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
হামলাকারীরা ওই সময় পরিবারের নারী সদস্যদের অশালীন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একই সঙ্গে তাঁদেরকে বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জানু মিয়ার ওই এলাকায় দুটি মুদি দোকান রয়েছে। হামলার ঘটনার পর তাঁর পরিবারে
আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে দাবি করেছেন স্বজনেরা।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য মুটোফোনে তাৎক্ষণিকভাবে জানতে চাইলে ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. জানু মিয়া বলেন, “হামলার ঘটনায় আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দোকানে হামলা-ভাঙচুর করে নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা চাই।”
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এরশাদ মিয়ার সাথে জানু মিয়ার ছেলের সাথে তর্ক হয়। এক পর্যায়ে এরশাদ জানু মিয়ার ছেলের গালে চর মারেন। এতে দুই পক্ষের মাঝে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এতে এরশাদ মিয়া আঘাত পান। ওই ঘটনার পর এরশাদ মিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসাও নেন।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার খবর আপনার মাধ্যমে অবহিত হলাম। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।”