আসিফ খান দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
আসন্ন চণ্ডিগড় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের সন্তান আলহাজ্ব মো. আতাউর রহমান। তিনি বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইউনিয়নবাসীর কাছে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন বলে দাবি তাঁর অনুসারীদের। নোয়াগাঁও গ্রামের মো. ফজলুর রহমানের ছেলে আতাউর রহমান রাজনীতির পাশাপাশি একজন ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত।
দলীয় রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিন নেত্রকোনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছেও তিনি পরিচিত মুখ বলে জানা গেছে।
আতাউর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে তাঁর অনুসারীরা দলের কঠিন সময়ে সক্রিয় থাকার বিষয়টি তুলে ধরছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি মাঠে ছিলেন। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে গ্রেপ্তারও হয়েছেন বলে জানান তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা। দলের কর্মসূচি সফল করতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকার অভিজ্ঞতাকে নিজের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।
এ ছাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন আতাউর রহমান। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন বলেও জানান তাঁর অনুসারীরা।
চণ্ডিগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আলহাজ্ব মো. আতাউর রহমান বলেন, “দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। জনগণের ভালোবাসা ও তৃণমূলের সমর্থন পেলে চণ্ডিগড় ইউনিয়নকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, মাদকমুক্ত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়েই একটি আধুনিক ইউনিয়ন গড়ে তোলা সম্ভব।”
আতাউর রহমান আরও বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে নির্বাচনী মাঠে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি। দলীয় মনোনয়ন পেলে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।