দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভাইস চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে দক্ষিণ নাওদার গ্রামের প্রগতিশীল আলেম ও সমাজসেবক মাওলানা মিজানুর রহমানের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
ধর্মীয় ও শিক্ষিত পরিবারে বেড়ে ওঠা মিজানুর রহমানের পিতা হাফেজ খলিলুর রহমান। গ্রামের মক্তব থেকে তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু। পরে গ্রামের পাঠশালা ও ঝানজাইল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ঝানজাইল জামিয়া শাহিদিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখান থেকে ধাপে ধাপে তাইসির জামাত ও দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। দাওরায়ে হাদিসের মাধ্যমে মাস্টার্স সমমানের ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন মাওলানা মিজানুর রহমান। জামিয়া দারুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের পর শিক্ষা সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন।
ছাত্রজীবন থেকেই জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। ২০২৫ সালে দুর্গাপুর উপজেলা যুব জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ২৪ জুলাই ২০২৬ তাকে নেত্রকোনা জেলা যুব জমিয়তের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে মাওলানা মিজানুর রহমানের। হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন, ২০১৩ সালের ঐতিহাসিক লংমার্চসহ শানে সালাত কর্মসূচিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
এ ছাড়া বিএনপি-জমিয়ত জোটের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এবং নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে তাঁর অনুসারীরা জানান।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, ধর্মীয় শিক্ষা, শিক্ষকতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে মাওলানা মিজানুর রহমানের নিজ এলাকায় একটি পরিচিতি রয়েছে। এসব বিষয়কে সামনে রেখে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনা বাড়ছে।
তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না এবং দলীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত আসে কি না—তা এখনো চূড়ান্ত নয়। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় তাঁর নাম আসায় দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাচনের মাঠে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।