ঢাকা    বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

দুর্গাপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তৃণমূলের আলোচনায় অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান



দুর্গাপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তৃণমূলের আলোচনায় অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান
অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এরই মধ্যে দীর্ঘ শিক্ষকতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক অধ্যক্ষ ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘শহীদ খান’ নামেও পরিচিত।

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে বলে দাবি তাঁর অনুসারীদের। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততাকে সম্ভাব্য প্রার্থিতার অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান ১৯৫৭ সালের ৩০ জুন দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের ঝানজাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম আব্দুস সাত্তার খান কাকৈরগড়া ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শহীদুল্লাহ খান ঢাকা বোর্ড থেকে এসএসসি ও এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস (অনার্স) ও এমএসএস (সমাজকল্যাণ) সম্পন্ন করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়ে ১৯৮৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া কলেজে সমাজকল্যাণ বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। পরে ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পূর্বধলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি ঝানজাইল টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ ও ঝানজাইল উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকার কথা তাঁর জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ রয়েছে।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে শহীদুল্লাহ খানের। ময়মনসিংহের বিভিন্ন নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা, আবৃত্তিশিল্পী ও উপস্থাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮২ সালে ময়মনসিংহে মুকাভিনয় (মাইম) প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়।

রাজনীতিতে তাঁর সম্পৃক্ততাও দীর্ঘদিনের। ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বলে জানান তিনি।

দুর্গাপুরে ফিরে বিএনপির রাজনীতিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দুর্গাপুর থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি, ২০১৪ সালে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এবং ২০১৬ সালে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য।

এর আগে ১৯৯০ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শহীদুল্লাহ খান। ওই নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ওই নির্বাচনে তাঁকে ৩৪ ভোটের ব্যবধান দেখিয়ে পরাজিত করা হয়েছিল। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো নথি বা যাচাইযোগ্য তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

এবারের সম্ভাব্য প্রার্থিতা প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বলেন, “দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা ও মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকার মানসিকতাই আমার বড় শক্তি। তবে দলীয় সিদ্ধান্তই আমার কাছে চূড়ান্ত। বিএনপি যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবো। অন্যথায় দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে, তাঁর পক্ষেই কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শিক্ষকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে শহীদুল্লাহ খানকে এলাকার অনেক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চেনেন। মানুষের সমস্যা নিয়ে কথা বলা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ততার কারণে তাঁর প্রতি একটি আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে দুর্গাপুরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। দলীয় মনোনয়ন, স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ ও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে চেয়ারম্যান পদে কার অবস্থান কতটা শক্তিশালী। এর মধ্যেই দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতার কারণে অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান তৃণমূলের আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।

বুড়িগঙ্গা

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


দুর্গাপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তৃণমূলের আলোচনায় অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এরই মধ্যে দীর্ঘ শিক্ষকতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক অধ্যক্ষ ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘শহীদ খান’ নামেও পরিচিত।

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে বলে দাবি তাঁর অনুসারীদের। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততাকে সম্ভাব্য প্রার্থিতার অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান ১৯৫৭ সালের ৩০ জুন দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের ঝানজাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম আব্দুস সাত্তার খান কাকৈরগড়া ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শহীদুল্লাহ খান ঢাকা বোর্ড থেকে এসএসসি ও এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস (অনার্স) ও এমএসএস (সমাজকল্যাণ) সম্পন্ন করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়ে ১৯৮৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া কলেজে সমাজকল্যাণ বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। পরে ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পূর্বধলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি ঝানজাইল টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ ও ঝানজাইল উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকার কথা তাঁর জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ রয়েছে।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে শহীদুল্লাহ খানের। ময়মনসিংহের বিভিন্ন নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা, আবৃত্তিশিল্পী ও উপস্থাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮২ সালে ময়মনসিংহে মুকাভিনয় (মাইম) প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়।

রাজনীতিতে তাঁর সম্পৃক্ততাও দীর্ঘদিনের। ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বলে জানান তিনি।

দুর্গাপুরে ফিরে বিএনপির রাজনীতিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দুর্গাপুর থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি, ২০১৪ সালে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এবং ২০১৬ সালে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য।

এর আগে ১৯৯০ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শহীদুল্লাহ খান। ওই নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ওই নির্বাচনে তাঁকে ৩৪ ভোটের ব্যবধান দেখিয়ে পরাজিত করা হয়েছিল। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো নথি বা যাচাইযোগ্য তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

এবারের সম্ভাব্য প্রার্থিতা প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বলেন, “দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা ও মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকার মানসিকতাই আমার বড় শক্তি। তবে দলীয় সিদ্ধান্তই আমার কাছে চূড়ান্ত। বিএনপি যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবো। অন্যথায় দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে, তাঁর পক্ষেই কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শিক্ষকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে শহীদুল্লাহ খানকে এলাকার অনেক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চেনেন। মানুষের সমস্যা নিয়ে কথা বলা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ততার কারণে তাঁর প্রতি একটি আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে দুর্গাপুরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। দলীয় মনোনয়ন, স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ ও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে চেয়ারম্যান পদে কার অবস্থান কতটা শক্তিশালী। এর মধ্যেই দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতার কারণে অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান তৃণমূলের আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
দুর্গাপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তৃণমূলের আলোচনায় অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান
0:00 0:00
1.0x