প্রতিদিনের সাধারণ দুপুরের খাবারের পরিবর্তে টানা দুই মাস শুধু পুষ্টিকর সালাদ খেয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এক ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। তার দাবি, এই খাদ্যাভ্যাস অপ্রয়োজনীয় খাবারের লোভ কমিয়েছে, সারাদিনের শক্তি বাড়িয়েছে এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।
পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) ও হরমোনজনিত সমস্যায় ভোগা এই ইনফ্লুয়েন্সার জানান, তার লক্ষ্য দ্রুত ওজন কমানো নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে অনুসরণ করা যায় এমন একটি টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা।
সালাদে যা থাকত
তিনি সালাদকে শুধু শাকপাতায় সীমাবদ্ধ রাখেননি। এতে যুক্ত করতেন—
সবজি ও ফল: শসা, টমেটো, পেঁয়াজ, গাজর, ক্যাপসিকাম, আভোকাডো, ডালিম ও কাঁচা আম।
শস্য ও ডাল: অঙ্কুরিত মুগ ডাল, কুইনোয়া, ছোলা ও বার্লি।
প্রোটিন: গ্রিলড পনির বা সয়াবিন।
স্বাদের জন্য: লবণ, গোলমরিচ, লেবুর রস বা ভিনেগার।
প্রথম ২০ দিন একই ধরনের সালাদ খাওয়ার পর একঘেয়েমি এড়াতে তিনি বিভিন্ন নতুন উপকরণ ও স্বাদের সংযোজন করেন।
যে পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করেছেন
দুই মাস এই অভ্যাস অনুসরণের পর তিনি কয়েকটি ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানান—
জাঙ্ক ফুড ও অপ্রয়োজনীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমেছে।
ফাইবার ও প্রোটিনসমৃদ্ধ সালাদ খাওয়ায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকত।
দুপুরের খাবারের পর অলসতা বা ঘুমঘুম ভাব দূর হয়েছে।
সারাদিন কর্মক্ষমতা ও শক্তির মাত্রা বেড়েছে।
শরীরের গঠনে পরিবর্তন আসায় আগের পোশাক আরও ভালোভাবে ফিট হতে শুরু করেছে।
তবে PCOS-এর কারণে ওজন নিয়মিত ওঠানামা করায় ঠিক কতটা ওজন কমেছে, তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি।
ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসই মূল
ইনফ্লুয়েন্সারের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য প্রিয় সব খাবার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া প্রয়োজন নেই। তিনি এখনো পরিমিত পরিমাণে পিৎজা, রুটি, সবজি ও রাইতার মতো খাবার খান এবং এগুলোকে ‘চিট মিল’ হিসেবে দেখেন না।
তার মতে, কঠোর ডায়েটের চেয়ে খাদ্যতালিকায় সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাই সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠি।