নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর ওপর প্রস্তাবিত দুটি সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রকল্প পরিচালক মাসুম সারওয়ারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণস্থল ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান, নদীর বর্তমান অবস্থা, আশপাশের যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়।
প্রকল্প পরিচালক মাসুম সারওয়ার জানান, ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচটি সম্ভাব্য সেতু নির্মাণস্থলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে সোমেশ্বরী নদীর ওপর দুটি সেতুর স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে পর্যায়ক্রমে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে আইডিবি ৭০ শতাংশের বেশি অর্থায়ন করবে এবং অবশিষ্ট অর্থ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুর্গাপুর-কলমাকান্দা এলাকায় চারটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ একনেক সভায় চারটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রচেষ্টায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক সজিব, নির্বাহী প্রকৌশলী সাফায়াত, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফখরুল ইসলাম তুহিন, জেলা প্রকৌশলী ইলিয়াস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল ইসলাম আলম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার, পৌর বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক হারেজ গণি, সাংগঠনিক সম্পাদক করিম মিয়াসহ যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা বলেন, সেতু দুটি নির্মিত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পর্যটন খাতে যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে। দুর্গাপুরের সাদামাটি, কয়লা, সোমেশ্বরী নদীর লাল বালু ও কৃষিপণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে দুর্গাপুর-কলমাকান্দা এলাকায় চারটি বড় সেতু নির্মাণ অন্যতম। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুরের যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে।