আইনগতভাবে জমি এওয়াজ-বদল (পারস্পরিক বিনিময়) সম্পন্ন করার পরও চুক্তিকৃত জমি জবরদখল করার অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি আইনগত সুরক্ষা চেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর ঈশ্বরদীয়া এলাকায়। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে মঞ্জুরুল হকের পথরোধ করে হামলা চালায় অভিযুক্তরা।
ভুক্তভোগী মঞ্জুরুল হক জানান, গত ১৪ এপ্রিল ১৯৯০ ইং তারিখে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও দুই পক্ষের সম্মতিক্রমে মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে প্রতিপক্ষ আব্দুর রহমান, আব্দুল করিম ও আব্দুল খালেক এর মা শহর বানুর সাথে ফজরউদ্দীনের ২০ শতাংশ জমি এওয়াজ-বদল করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষই যার যার নির্ধারিত জমিতে দখল বুঝিয়ে নেয় এবং প্রায় ৩৫ বছর ধরে তা ভোগদখল করে আসছিল। তবে সম্প্রতি প্রতিপক্ষ আব্দুল করিম, আব্দুল খালেক ও তার লোকজন উজ্জ্বল, মোতালেব, নাইম, কাছম আলী ও আজহার পূর্বের চুক্তি অমান্য করে অন্যায়ভাবে জমিটি পুনর্দখল করার পাঁয়তারা শুরু করেছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৬ জুলাই প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে সীমানা প্রাচীর করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীর ৫ শতাধিক কলা গাছ কেটে নষ্ট করে। মঞ্জুরুল হকের ক্রয়কৃত ৩৪ শতাংশ জমির উপর জোরপূর্বক বালু ফেলার চেষ্টা করে এবং তাকে হুমকি-ধামকি দেয়। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তার জায়গা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ভুক্তভোগী মঞ্জুরুল হক বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিয়ম মেনেই এওয়াজ-বদল করেছি। এতদিন পর তারা গায়ের জোরে আমাদের ভোগদখলীয় জমি ছিনিয়ে নিতে চাইছে এবং পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রতিপক্ষ আব্দুল করিম ও আব্দুল খালেক-এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী বুলবুল আহমেদ ও মাসুদুর রহমান জানান, জমিটি এওয়াজ-বদল হওয়ার বিষয়টি সর্বজনবিদিত। বর্তমানে একপক্ষের জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্টের কারণ হতে পারে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে জিলা ময়মনসিংহের বিজ্ঞ ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোকদ্দমা নং ০১/২০২৬ (অন্য প্রকার) ও সদর মোকদ্দমা নং ৮৯৩/২০২৬ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জমিটির এসএ খতিয়ান ১৩১৯, বিআরএস খতিয়ান ১৫১৫, সাবেক দাগ নং ৫৩, বিআরএস দাগ ১৪৭। এ দাগে মোট জমি ১ একর ১৭ শতাংশ, যার মধ্যে এওয়াজ-বদলের ২০ শতাংশ জমিকে ঘিরে বিরোধ চলছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশরাফুল করিম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।