ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি ও প্রফেশনালদের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে সমালোচনার ঝড়



জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি ও প্রফেশনালদের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে সমালোচনার ঝড়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের রেজিষ্ট্রেশন ফি জবির প্রথম সমাবর্তন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় কয়েক হাজার টাকা বেশি নির্ধারণ এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফি বৃদ্ধি ও প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বইছে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও সমালোচনার ঝড়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি প্রকাশ করে রেজিষ্ট্রেশনের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৫,০০০ টাকা ও মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা মিলে সর্বমোট ৫,৫০০ টাকা; স্নাতকোত্তর ও এমবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৬,০০০ টাকা ও মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা মিলে সর্বমোট ৬,৫০০ টাকা; এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৬,৫০০ টাকা ও সনদ ফি ১,০০০ টাকা মিলে সর্বমোট ৭৫০০ এবং স্নাতকোত্তর প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৮,০০০ টাকা ও মূল সনদ ফি ৮০০ টাকা মিলে সর্বমোট ৮৮০০ ধার্য করা হয়েছে। এর সঙ্গে ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জও সংযোজিত হবে।

প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবার প্রায় প্রতিটি ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন ফি ২,০০০ টাকা এবং মূল সনদ ফি ১০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রথম সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের নিবন্ধন ফি ছিল যথাক্রমে ৩,০০০ টাকা ও ৪,০০০ টাকা এবং মূল সনদ ফি ছিল ৪০০ টাকা। এছাড়া প্রথম সমাবর্তনে সার্ভিস চার্জ ছিল মাত্র ১ শতাংশ। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তনে যেখানে ব্যাংক চার্জসহ মূল সনদ ও নিবন্ধন ফি বাবদ সর্বমোট ৩,৩২০ টাকা নেওয়া হয়েছিল, সেখানে জবিতে প্রায় দ্বিগুণ ফি ধার্য করায় শিক্ষার্থীরা একে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হিসেবে দেখছেন।

ফলে সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম স্মৃতিময় ও মর্যাদাপূর্ণ অর্জন হলেও অতিরিক্ত ফির কারণে অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফি অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রফেশনাল অর্থাৎ সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে সুযোগ দেওয়াকে সমাবর্তনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার সামিল বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।

উম্মে হাবিবা নামে এক জবি শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সম্ভবত একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যারা প্রফেশনাল বা ইভেনিংয়ের শিক্ষার্থীদেরও টাকা দরকার বলে সমাবর্তন দিচ্ছে। আমরা যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী, তাদের সাথে প্রফেশনালে ডিগ্রি কেনা শিক্ষার্থীদেরও একসাথে মিলিয়ে সমাবর্তন দিতে চাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সমাবর্তন গ্র্যাজুয়েটদের সম্মান, তা অপমান ডেকে আনুক আমরা চাই না। সংস্কার না আনলে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেবে না।”

আরেক শিক্ষার্থী ইব্রাহিম ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে লেখেন, “মনে হচ্ছে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সমাবর্তনের খরচা এবার বেশি। সমাবর্তনের টুপির জাহাজ আটকে গেছে, তাই টাকা বেশি লাগবে।”

এ বিষয়ে জবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন জানান, মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সেন্ট্রাল কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেন্ট্রাল কমিটির অনুমোদিত এই সিদ্ধান্ত হওয়ায় এটি আর পুনর্বিবেচনা বা ফি কমানোর কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

ফি বৃদ্ধি ও প্রফেশনালদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, “ছয় বছর আগের তুলনায় বর্তমানে সবকিছুর দাম ও সমাবর্তন আয়োজনের খরচ বহুগুণ বেড়েছে। একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট, ডিন ও চেয়ারম্যানদের সর্বসম্মত পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ২০০০ টাকা ফি বাড়ানো হয়েছে। এটি একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়।”

প্রফেশনালদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, “প্রথম সমাবর্তনেও প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল। এবার তাদের বাদ দিলে তা নিয়ে আলাদা বিতর্ক তৈরি হতে পারতো। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জবির দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

বুড়িগঙ্গা

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি ও প্রফেশনালদের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে সমালোচনার ঝড়

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের রেজিষ্ট্রেশন ফি জবির প্রথম সমাবর্তন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় কয়েক হাজার টাকা বেশি নির্ধারণ এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফি বৃদ্ধি ও প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বইছে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও সমালোচনার ঝড়।


বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি প্রকাশ করে রেজিষ্ট্রেশনের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়।


বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৫,০০০ টাকা ও মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা মিলে সর্বমোট ৫,৫০০ টাকা; স্নাতকোত্তর ও এমবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৬,০০০ টাকা ও মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা মিলে সর্বমোট ৬,৫০০ টাকা; এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৬,৫০০ টাকা ও সনদ ফি ১,০০০ টাকা মিলে সর্বমোট ৭৫০০ এবং স্নাতকোত্তর প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৮,০০০ টাকা ও মূল সনদ ফি ৮০০ টাকা মিলে সর্বমোট ৮৮০০ ধার্য করা হয়েছে। এর সঙ্গে ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জও সংযোজিত হবে।


প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবার প্রায় প্রতিটি ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন ফি ২,০০০ টাকা এবং মূল সনদ ফি ১০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রথম সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের নিবন্ধন ফি ছিল যথাক্রমে ৩,০০০ টাকা ও ৪,০০০ টাকা এবং মূল সনদ ফি ছিল ৪০০ টাকা। এছাড়া প্রথম সমাবর্তনে সার্ভিস চার্জ ছিল মাত্র ১ শতাংশ। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তনে যেখানে ব্যাংক চার্জসহ মূল সনদ ও নিবন্ধন ফি বাবদ সর্বমোট ৩,৩২০ টাকা নেওয়া হয়েছিল, সেখানে জবিতে প্রায় দ্বিগুণ ফি ধার্য করায় শিক্ষার্থীরা একে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হিসেবে দেখছেন।


ফলে সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম স্মৃতিময় ও মর্যাদাপূর্ণ অর্জন হলেও অতিরিক্ত ফির কারণে অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফি অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রফেশনাল অর্থাৎ সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে সুযোগ দেওয়াকে সমাবর্তনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার সামিল বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।


উম্মে হাবিবা নামে এক জবি শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সম্ভবত একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যারা প্রফেশনাল বা ইভেনিংয়ের শিক্ষার্থীদেরও টাকা দরকার বলে সমাবর্তন দিচ্ছে। আমরা যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী, তাদের সাথে প্রফেশনালে ডিগ্রি কেনা শিক্ষার্থীদেরও একসাথে মিলিয়ে সমাবর্তন দিতে চাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সমাবর্তন গ্র্যাজুয়েটদের সম্মান, তা অপমান ডেকে আনুক আমরা চাই না। সংস্কার না আনলে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেবে না।”


আরেক শিক্ষার্থী ইব্রাহিম ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে লেখেন, “মনে হচ্ছে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সমাবর্তনের খরচা এবার বেশি। সমাবর্তনের টুপির জাহাজ আটকে গেছে, তাই টাকা বেশি লাগবে।”


এ বিষয়ে জবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন জানান, মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সেন্ট্রাল কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেন্ট্রাল কমিটির অনুমোদিত এই সিদ্ধান্ত হওয়ায় এটি আর পুনর্বিবেচনা বা ফি কমানোর কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন।


ফি বৃদ্ধি ও প্রফেশনালদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, “ছয় বছর আগের তুলনায় বর্তমানে সবকিছুর দাম ও সমাবর্তন আয়োজনের খরচ বহুগুণ বেড়েছে। একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট, ডিন ও চেয়ারম্যানদের সর্বসম্মত পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ২০০০ টাকা ফি বাড়ানো হয়েছে। এটি একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়।”


প্রফেশনালদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, “প্রথম সমাবর্তনেও প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল। এবার তাদের বাদ দিলে তা নিয়ে আলাদা বিতর্ক তৈরি হতে পারতো। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”


উল্লেখ্য, জবির দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি ও প্রফেশনালদের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে সমালোচনার ঝড়
0:00 0:00
1.0x