ঢাকা    সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

জনবহুল ইউনিয়ন পরিষদ বিভাজনের দাবি জোরালো, নামকরণে বিভ্রান্তি না চায় টেকনাফবাসী



জনবহুল ইউনিয়ন পরিষদ বিভাজনের দাবি জোরালো, নামকরণে বিভ্রান্তি না চায় টেকনাফবাসী

 

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে টেকনাফের জনবহুল ইউনিয়ন পরিষদগুলো বিভাজনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে সম্ভাব্য নতুন ইউনিয়নের নামকরণ ও সীমানা নির্ধারণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে জনমতকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার জনবহুল ইউনিয়ন পরিষদগুলো বিভাজনের সম্ভাব্য উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক চাপের কারণে বর্তমান ইউনিয়ন কাঠামোতে নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বৃহৎ ইউনিয়নগুলোকে ভাগ করে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠন করা হলে জনসেবা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনে জনসংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় চেয়ারম্যান, সদস্য, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও গ্রাম পুলিশের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সেবা প্রদান বিলম্বিত হচ্ছে। ইউনিয়ন বিভাজনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বের ভার কমবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত সেবা পাবেন।

সচেতন মহলের মতে, বর্তমানে কয়েকটি ইউনিয়নে ৪০ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে। এ অবস্থায় প্রশাসনিক সুবিধা ও স্থানীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ইউনিয়ন বিভাজন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও টেকনাফ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোরশেদ বলেন, "সরকার জনগণের কল্যাণে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। প্রতিষ্ঠান বাড়লে উন্নয়ন ও জনসেবা আরও সহজ হবে।"

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মীর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ইউনিয়ন বিভাজনের সুফলের পাশাপাশি কিছু প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। তবে পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে জনগণ উপকৃত হবে।

হ্নীলা ইউনিয়ন দক্ষিণ শাখা বিএনপির সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী বলেন, প্রায় দুই দশক আগে ইউনিয়নের ভোটার ছিল প্রায় ১৮ হাজার, বর্তমানে তা দ্বিগুণ হয়েছে। তাই ইউনিয়ন বিভাজন হলে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।

হ্নীলা ইউপির সাবেক সদস্য ও টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আলী আহমদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ বিভাজন দীর্ঘদিনের দাবি। এটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মুফিজুর রহমান বলেন, লেদা ও মৌলভীবাজার নামে নতুন ইউনিয়নের আলোচনা থাকলেও বৃহত্তর হ্নীলা অক্ষুণ্ন রেখে হ্নীলা প্রপার ও আশপাশের এলাকা নিয়ে পৌরসভা গঠন করলে সেটি আরও কার্যকর উদ্যোগ হবে।

হ্নীলা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি জসীমউদ্দিন রনি বলেন, জনসংখ্যা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাড়লেও প্রশাসনিক কাঠামো সেই অনুপাতে সম্প্রসারিত হয়নি। তাই ইউনিয়ন বিভাজন সময়ের দাবি।

তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ত্যাগী মূল্যায়ন পরিষদের কক্সবাজার জেলা শাখার সদস্য সচিব মুরাদ হোসেন চৌধুরী এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে বলেন, এটি জনগণের স্বার্থবিরোধী হতে পারে এবং সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

হ্নীলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল হুদা বলেন, জনগণের সুবিধা নিশ্চিত হলে ইউনিয়ন বিভাজনে তার কোনো আপত্তি নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ নুর বলেন, ইউনিয়ন বিভাজনের ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা ও জন্মনিবন্ধন নিয়ে সাময়িক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে সরকারের যথাযথ উদ্যোগে এসব সমস্যা সহজেই সমাধান সম্ভব।

 

বুড়িগঙ্গা

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


জনবহুল ইউনিয়ন পরিষদ বিভাজনের দাবি জোরালো, নামকরণে বিভ্রান্তি না চায় টেকনাফবাসী

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

 

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে টেকনাফের জনবহুল ইউনিয়ন পরিষদগুলো বিভাজনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে সম্ভাব্য নতুন ইউনিয়নের নামকরণ ও সীমানা নির্ধারণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে জনমতকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার জনবহুল ইউনিয়ন পরিষদগুলো বিভাজনের সম্ভাব্য উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক চাপের কারণে বর্তমান ইউনিয়ন কাঠামোতে নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বৃহৎ ইউনিয়নগুলোকে ভাগ করে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠন করা হলে জনসেবা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনে জনসংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় চেয়ারম্যান, সদস্য, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও গ্রাম পুলিশের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সেবা প্রদান বিলম্বিত হচ্ছে। ইউনিয়ন বিভাজনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বের ভার কমবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত সেবা পাবেন।

সচেতন মহলের মতে, বর্তমানে কয়েকটি ইউনিয়নে ৪০ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে। এ অবস্থায় প্রশাসনিক সুবিধা ও স্থানীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ইউনিয়ন বিভাজন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও টেকনাফ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোরশেদ বলেন, "সরকার জনগণের কল্যাণে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। প্রতিষ্ঠান বাড়লে উন্নয়ন ও জনসেবা আরও সহজ হবে।"

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মীর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ইউনিয়ন বিভাজনের সুফলের পাশাপাশি কিছু প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। তবে পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে জনগণ উপকৃত হবে।

হ্নীলা ইউনিয়ন দক্ষিণ শাখা বিএনপির সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী বলেন, প্রায় দুই দশক আগে ইউনিয়নের ভোটার ছিল প্রায় ১৮ হাজার, বর্তমানে তা দ্বিগুণ হয়েছে। তাই ইউনিয়ন বিভাজন হলে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।

হ্নীলা ইউপির সাবেক সদস্য ও টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আলী আহমদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ বিভাজন দীর্ঘদিনের দাবি। এটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মুফিজুর রহমান বলেন, লেদা ও মৌলভীবাজার নামে নতুন ইউনিয়নের আলোচনা থাকলেও বৃহত্তর হ্নীলা অক্ষুণ্ন রেখে হ্নীলা প্রপার ও আশপাশের এলাকা নিয়ে পৌরসভা গঠন করলে সেটি আরও কার্যকর উদ্যোগ হবে।

হ্নীলা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি জসীমউদ্দিন রনি বলেন, জনসংখ্যা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাড়লেও প্রশাসনিক কাঠামো সেই অনুপাতে সম্প্রসারিত হয়নি। তাই ইউনিয়ন বিভাজন সময়ের দাবি।

তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ত্যাগী মূল্যায়ন পরিষদের কক্সবাজার জেলা শাখার সদস্য সচিব মুরাদ হোসেন চৌধুরী এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে বলেন, এটি জনগণের স্বার্থবিরোধী হতে পারে এবং সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

হ্নীলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল হুদা বলেন, জনগণের সুবিধা নিশ্চিত হলে ইউনিয়ন বিভাজনে তার কোনো আপত্তি নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ নুর বলেন, ইউনিয়ন বিভাজনের ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা ও জন্মনিবন্ধন নিয়ে সাময়িক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে সরকারের যথাযথ উদ্যোগে এসব সমস্যা সহজেই সমাধান সম্ভব।

 


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
জনবহুল ইউনিয়ন পরিষদ বিভাজনের দাবি জোরালো, নামকরণে বিভ্রান্তি না চায় টেকনাফবাসী
0:00 0:00
1.0x