ঢাকা    রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল নয়, দিন শুরু হোক নিজের মতো


প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল নয়, দিন শুরু হোক নিজের মতো


সকালে ঘুম ভাঙার পর চোখ পুরোপুরি খোলার আগেই মোবাইল হাতে নেওয়া—বর্তমান সময়ে অনেকের কাছেই এটি যেন স্বাভাবিক একটি অভ্যাস। অ্যালার্ম বন্ধ করার পরই শুরু হয় নোটিফিকেশন দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুঁ মারা, মেসেজের উত্তর দেওয়া কিংবা রাতের জমে থাকা বিভিন্ন আপডেট দেখা। কয়েক মিনিটের এই অভ্যাস কখনো কখনো দিনের শুরুতেই দীর্ঘ সময় কেড়ে নেয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ঘুম থেকে ওঠার পর দিনের প্রথম মনোযোগটি নিজের প্রয়োজনের বদলে অন্যদের পোস্ট, খবর ও নোটিফিকেশনের পেছনে চলে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুটা কীভাবে হচ্ছে, তার সঙ্গে সারাদিনের কাজের ধরন ও মানসিক প্রস্তুতির একটি সম্পর্ক রয়েছে। তাই ঘুম থেকে উঠেই মোবাইলের পর্দায় চোখ না রেখে নিজের শরীর ও মনের দিকে একটু মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে সকালটা যেমন গোছানো হয়, তেমনি দিনের কাজ নিয়েও তৈরি হয় স্বস্তিদায়ক প্রস্তুতি।

সকালের প্রথম কয়েক মিনিট কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর ধীরে ধীরে সক্রিয় অবস্থায় ফিরে আসে। এই সময়টাতে হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদ, ভিডিও বা নানা ধরনের তথ্যের মধ্যে ঢুকে পড়লে মস্তিষ্ককে একসঙ্গে অনেক তথ্য সামলাতে হয়। বিশেষ করে কোনো নেতিবাচক খবর বা বিরক্তিকর পোস্ট চোখে পড়লে দিনের শুরুতেই মন খারাপ হয়ে যেতে পারে।

তাই ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকা ভালো অভ্যাস হতে পারে। অ্যালার্ম বন্ধ করার পর ফোনটি পাশে রেখে জানালা খুলে দেওয়া, ঘরের পর্দা সরিয়ে দিনের আলো নেওয়া, এক গ্লাস পানি পান করা কিংবা কয়েক মিনিট চুপচাপ বসে থাকার মতো সহজ কাজ দিয়ে সকাল শুরু করা যায়।

এক গ্লাস পানি দিয়ে শুরু হতে পারে সকাল

রাতের দীর্ঘ সময় ঘুমানোর পর সকালে পানি পান করা অনেকের জন্য স্বস্তিদায়ক একটি অভ্যাস। ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই চা বা কফির বদলে পানি পান করার অভ্যাস করা যেতে পারে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সকালের নাশতা ও দিনের অন্যান্য খাবারের পরিকল্পনা করা যায়।

সকালের খাবার নিয়েও তাড়াহুড়া না করে পুষ্টিকর ও পরিমিত খাবারের দিকে নজর দেওয়া ভালো। দিনের শুরুতে কী খাবেন, সেটি আগের রাতেই ঠিক করে রাখলে সকালে অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা কমে যায়।

বিছানা গুছিয়ে নিন

ঘুম থেকে ওঠার পর বিছানা গুছিয়ে নেওয়ার মতো ছোট একটি কাজও সকালকে গোছানো অনুভূতি দিতে পারে। এতে ঘর পরিচ্ছন্ন থাকে এবং দিনের প্রথম কাজটি সম্পন্ন করার একটা মানসিক তৃপ্তি তৈরি হয়। এরপর পোশাক, পড়াশোনা বা অফিসের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

অনেকেই সকালে সময়ের অভাবে সবকিছু এলোমেলো রেখে বেরিয়ে যান। ফলে দিনের পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজতে গিয়ে সময় নষ্ট হয়। আগের রাতেই প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখলে সকালটা আরও স্বচ্ছন্দ হতে পারে।

সকালের আলো ও একটু হাঁটা

সকালে সম্ভব হলে কিছু সময় বাইরে বা বারান্দায় কাটানো যেতে পারে। দিনের আলো নেওয়া এবং হালকা হাঁটাহাঁটি শরীরকে ঘুমের অবস্থা থেকে স্বাভাবিক দৈনন্দিন ছন্দে ফিরতে সহায়তা করতে পারে। খুব কঠিন কোনো ব্যায়াম দিয়ে দিন শুরু করার প্রয়োজন নেই। কয়েক মিনিট হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং কিংবা স্বাভাবিকভাবে শরীর নড়াচড়া করাও যথেষ্ট।

তবে কারও শারীরিক অসুবিধা থাকলে নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী চলা উচিত। শরীরকে চাপ দিয়ে ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই।

দিনের কাজের ছোট তালিকা

সকালে মোবাইলে অন্যদের জীবন দেখার বদলে নিজের দিনের কাজের দিকে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। একটি ছোট নোটবুকে বা কাগজে দিনের তিন-চারটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ লিখে রাখা সহজ একটি কৌশল।

যেমন—

  • পড়াশোনার নির্দিষ্ট একটি অধ্যায় শেষ করা

  • অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা

  • পরিবারের প্রয়োজনীয় কোনো কাজ করা

  • কিছু সময় নিজের পছন্দের কাজে দেওয়া

তালিকাটি খুব বড় না করাই ভালো। অনেক কাজ একসঙ্গে লিখে রাখলে বরং চাপ তৈরি হতে পারে। দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া বেশি কার্যকর।

ঘুম থেকে উঠেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেন এড়িয়ে চলবেন?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে একটি পোস্ট থেকে আরেকটি পোস্ট, একটি ভিডিও থেকে আরেকটি ভিডিওতে চলে যাওয়া খুব সহজ। ফলে সকালে যে সময়টুকু নিজের জন্য ব্যবহার করা যেত, সেটি অজান্তেই চলে যায়।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন, সাফল্য বা নানা ধরনের মতামত দেখে নিজের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতাও তৈরি হতে পারে। দিনের শুরুতেই এমন তুলনা বা অতিরিক্ত তথ্যের মধ্যে না গিয়ে নিজের পরিকল্পনা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ সকাল তৈরি করতে পারে।

এর মানে অবশ্যই মোবাইল পুরোপুরি বাদ দিতে হবে এমন নয়। জরুরি ফোন, পরিবারের যোগাযোগ বা প্রয়োজনীয় তথ্য অবশ্যই দেখা যাবে। মূল বিষয় হলো—ঘুম থেকে উঠেই বিনা কারণে স্ক্রল করার অভ্যাসটি কমানো।

রাত থেকেই শুরু করুন সকালের প্রস্তুতি

সকাল সুন্দর করতে হলে শুধু সকালেই কাজ করলে হবে না। আগের রাতের কিছু প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমানোর আগে পরদিনের পোশাক ঠিক করে রাখা, ব্যাগ গুছিয়ে রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এক জায়গায় রাখা এবং সকালে কী কী করতে হবে তা মনে করে রাখা—এসব কাজ সকালে তাড়াহুড়া কমাতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঘুমের সময় ঠিক রাখা। রাত জেগে দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার করে সকালে তাড়াতাড়ি ওঠার চেষ্টা করলে স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্তি থাকতে পারে। তাই ভালো সকালের জন্য আগের রাতের ঘুমের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সকালটা হোক নিজের নিয়ন্ত্রণে

দিনের শুরুতে অন্যের পোস্ট, নোটিফিকেশন বা ব্যস্ততার বদলে নিজের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া খুব কঠিন কোনো কাজ নয়। ঘুম থেকে উঠে কয়েক মিনিট ফোন দূরে রাখা, পানি পান করা, ঘর গুছিয়ে নেওয়া, কিছুটা হাঁটা এবং দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ঠিক করে নেওয়া—এই ছোট অভ্যাসগুলোই ধীরে ধীরে সকালের রুটিন বদলে দিতে পারে।

শেষ পর্যন্ত সুন্দর সকাল মানে খুব ভোরে উঠতেই হবে, কঠিন ব্যায়াম করতেই হবে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম মেনে চলতেই হবে—এমন নয়। সুন্দর সকাল হলো এমন একটি শুরু, যেখানে দিনের প্রথম সময়টুকু অযথা স্ক্রলিংয়ে নয়, নিজের প্রয়োজন ও পরিকল্পনায় দেওয়া যায়। দিনটি কীভাবে কাটবে, তা পুরোপুরি সকালের ওপর নির্ভর করে না; তবে ভালোভাবে শুরু করার অভ্যাস পুরো দিনটিকে আরও গোছানো করে তুলতে পারে।

বুড়িগঙ্গা

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল নয়, দিন শুরু হোক নিজের মতো

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image


সকালে ঘুম ভাঙার পর চোখ পুরোপুরি খোলার আগেই মোবাইল হাতে নেওয়া—বর্তমান সময়ে অনেকের কাছেই এটি যেন স্বাভাবিক একটি অভ্যাস। অ্যালার্ম বন্ধ করার পরই শুরু হয় নোটিফিকেশন দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুঁ মারা, মেসেজের উত্তর দেওয়া কিংবা রাতের জমে থাকা বিভিন্ন আপডেট দেখা। কয়েক মিনিটের এই অভ্যাস কখনো কখনো দিনের শুরুতেই দীর্ঘ সময় কেড়ে নেয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ঘুম থেকে ওঠার পর দিনের প্রথম মনোযোগটি নিজের প্রয়োজনের বদলে অন্যদের পোস্ট, খবর ও নোটিফিকেশনের পেছনে চলে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুটা কীভাবে হচ্ছে, তার সঙ্গে সারাদিনের কাজের ধরন ও মানসিক প্রস্তুতির একটি সম্পর্ক রয়েছে। তাই ঘুম থেকে উঠেই মোবাইলের পর্দায় চোখ না রেখে নিজের শরীর ও মনের দিকে একটু মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে সকালটা যেমন গোছানো হয়, তেমনি দিনের কাজ নিয়েও তৈরি হয় স্বস্তিদায়ক প্রস্তুতি।

সকালের প্রথম কয়েক মিনিট কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর ধীরে ধীরে সক্রিয় অবস্থায় ফিরে আসে। এই সময়টাতে হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদ, ভিডিও বা নানা ধরনের তথ্যের মধ্যে ঢুকে পড়লে মস্তিষ্ককে একসঙ্গে অনেক তথ্য সামলাতে হয়। বিশেষ করে কোনো নেতিবাচক খবর বা বিরক্তিকর পোস্ট চোখে পড়লে দিনের শুরুতেই মন খারাপ হয়ে যেতে পারে।

তাই ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকা ভালো অভ্যাস হতে পারে। অ্যালার্ম বন্ধ করার পর ফোনটি পাশে রেখে জানালা খুলে দেওয়া, ঘরের পর্দা সরিয়ে দিনের আলো নেওয়া, এক গ্লাস পানি পান করা কিংবা কয়েক মিনিট চুপচাপ বসে থাকার মতো সহজ কাজ দিয়ে সকাল শুরু করা যায়।

এক গ্লাস পানি দিয়ে শুরু হতে পারে সকাল

রাতের দীর্ঘ সময় ঘুমানোর পর সকালে পানি পান করা অনেকের জন্য স্বস্তিদায়ক একটি অভ্যাস। ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই চা বা কফির বদলে পানি পান করার অভ্যাস করা যেতে পারে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সকালের নাশতা ও দিনের অন্যান্য খাবারের পরিকল্পনা করা যায়।

সকালের খাবার নিয়েও তাড়াহুড়া না করে পুষ্টিকর ও পরিমিত খাবারের দিকে নজর দেওয়া ভালো। দিনের শুরুতে কী খাবেন, সেটি আগের রাতেই ঠিক করে রাখলে সকালে অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা কমে যায়।

বিছানা গুছিয়ে নিন

ঘুম থেকে ওঠার পর বিছানা গুছিয়ে নেওয়ার মতো ছোট একটি কাজও সকালকে গোছানো অনুভূতি দিতে পারে। এতে ঘর পরিচ্ছন্ন থাকে এবং দিনের প্রথম কাজটি সম্পন্ন করার একটা মানসিক তৃপ্তি তৈরি হয়। এরপর পোশাক, পড়াশোনা বা অফিসের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

অনেকেই সকালে সময়ের অভাবে সবকিছু এলোমেলো রেখে বেরিয়ে যান। ফলে দিনের পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজতে গিয়ে সময় নষ্ট হয়। আগের রাতেই প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখলে সকালটা আরও স্বচ্ছন্দ হতে পারে।

সকালের আলো ও একটু হাঁটা

সকালে সম্ভব হলে কিছু সময় বাইরে বা বারান্দায় কাটানো যেতে পারে। দিনের আলো নেওয়া এবং হালকা হাঁটাহাঁটি শরীরকে ঘুমের অবস্থা থেকে স্বাভাবিক দৈনন্দিন ছন্দে ফিরতে সহায়তা করতে পারে। খুব কঠিন কোনো ব্যায়াম দিয়ে দিন শুরু করার প্রয়োজন নেই। কয়েক মিনিট হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং কিংবা স্বাভাবিকভাবে শরীর নড়াচড়া করাও যথেষ্ট।

তবে কারও শারীরিক অসুবিধা থাকলে নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী চলা উচিত। শরীরকে চাপ দিয়ে ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই।

দিনের কাজের ছোট তালিকা

সকালে মোবাইলে অন্যদের জীবন দেখার বদলে নিজের দিনের কাজের দিকে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। একটি ছোট নোটবুকে বা কাগজে দিনের তিন-চারটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ লিখে রাখা সহজ একটি কৌশল।

যেমন—

  • পড়াশোনার নির্দিষ্ট একটি অধ্যায় শেষ করা

  • অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা

  • পরিবারের প্রয়োজনীয় কোনো কাজ করা

  • কিছু সময় নিজের পছন্দের কাজে দেওয়া

তালিকাটি খুব বড় না করাই ভালো। অনেক কাজ একসঙ্গে লিখে রাখলে বরং চাপ তৈরি হতে পারে। দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া বেশি কার্যকর।

ঘুম থেকে উঠেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেন এড়িয়ে চলবেন?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে একটি পোস্ট থেকে আরেকটি পোস্ট, একটি ভিডিও থেকে আরেকটি ভিডিওতে চলে যাওয়া খুব সহজ। ফলে সকালে যে সময়টুকু নিজের জন্য ব্যবহার করা যেত, সেটি অজান্তেই চলে যায়।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন, সাফল্য বা নানা ধরনের মতামত দেখে নিজের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতাও তৈরি হতে পারে। দিনের শুরুতেই এমন তুলনা বা অতিরিক্ত তথ্যের মধ্যে না গিয়ে নিজের পরিকল্পনা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ সকাল তৈরি করতে পারে।

এর মানে অবশ্যই মোবাইল পুরোপুরি বাদ দিতে হবে এমন নয়। জরুরি ফোন, পরিবারের যোগাযোগ বা প্রয়োজনীয় তথ্য অবশ্যই দেখা যাবে। মূল বিষয় হলো—ঘুম থেকে উঠেই বিনা কারণে স্ক্রল করার অভ্যাসটি কমানো।

রাত থেকেই শুরু করুন সকালের প্রস্তুতি

সকাল সুন্দর করতে হলে শুধু সকালেই কাজ করলে হবে না। আগের রাতের কিছু প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমানোর আগে পরদিনের পোশাক ঠিক করে রাখা, ব্যাগ গুছিয়ে রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এক জায়গায় রাখা এবং সকালে কী কী করতে হবে তা মনে করে রাখা—এসব কাজ সকালে তাড়াহুড়া কমাতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঘুমের সময় ঠিক রাখা। রাত জেগে দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার করে সকালে তাড়াতাড়ি ওঠার চেষ্টা করলে স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্তি থাকতে পারে। তাই ভালো সকালের জন্য আগের রাতের ঘুমের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সকালটা হোক নিজের নিয়ন্ত্রণে

দিনের শুরুতে অন্যের পোস্ট, নোটিফিকেশন বা ব্যস্ততার বদলে নিজের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া খুব কঠিন কোনো কাজ নয়। ঘুম থেকে উঠে কয়েক মিনিট ফোন দূরে রাখা, পানি পান করা, ঘর গুছিয়ে নেওয়া, কিছুটা হাঁটা এবং দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ঠিক করে নেওয়া—এই ছোট অভ্যাসগুলোই ধীরে ধীরে সকালের রুটিন বদলে দিতে পারে।

শেষ পর্যন্ত সুন্দর সকাল মানে খুব ভোরে উঠতেই হবে, কঠিন ব্যায়াম করতেই হবে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম মেনে চলতেই হবে—এমন নয়। সুন্দর সকাল হলো এমন একটি শুরু, যেখানে দিনের প্রথম সময়টুকু অযথা স্ক্রলিংয়ে নয়, নিজের প্রয়োজন ও পরিকল্পনায় দেওয়া যায়। দিনটি কীভাবে কাটবে, তা পুরোপুরি সকালের ওপর নির্ভর করে না; তবে ভালোভাবে শুরু করার অভ্যাস পুরো দিনটিকে আরও গোছানো করে তুলতে পারে।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল নয়, দিন শুরু হোক নিজের মতো
0:00 0:00
1.0x