নিজস্ব প্রতিনিধি, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ৪নং লেহেম্বা ইউনিয়নের পাটগাঁও গ্রামের বিশ্বাস পীর মাঠ এক সময় ছিল শিশুদের খেলার প্রাণকেন্দ্র। গ্রামের অনেকের শৈশব কেটেছে এই মাঠে। কিন্তু আজ সেই মাঠই পরিণত হয়েছে দুর্ভোগ ও আতঙ্কের প্রতীকে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায় পুরো মাঠজুড়ে, আর পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন অন্তত ১০০টি পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই মাঠের ওপর দিয়েই তাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা। বৃষ্টি নামলেই কাদাপানি ও ভাঙাচোরা পথে চলাফেরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য পরিস্থিতি হয়ে ওঠে ভয়াবহ। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
“বৃষ্টি হলেই মাঠটা ছোটখাটো পুকুরে পরিণত হয়। সুস্থ মানুষের চলাফেরাই কঠিন, সেখানে বাচ্চা আর বৃদ্ধরা কীভাবে চলবে?”
— নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা
গ্রামবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই অবস্থা থাকলেও মাঠ সংস্কার বা পানি নিষ্কাশনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, তাদের দুর্ভোগ যেন কারও চোখেই পড়ে না।
আরেক বাসিন্দা বলেন, “বিশ্বাস পীর মাঠ এখন আমাদের জন্য আতঙ্কের ফাঁদ। একটু বৃষ্টি হলেই ঘর থেকে বের হওয়া দায় হয়ে পড়ে। নির্বাচনের সময় অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে আর কেউ খোঁজ নেয় না।”
এলাকাবাসীর দাবি
বিশ্বাস পীর মাঠের দ্রুত সংস্কার,
স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা,
ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামত,
শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, এক সময় এই মাঠে গ্রামীণ খেলাধুলা, ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মাঠটি এখন জলাবদ্ধ ও বিপজ্জনক এলাকায় পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসীর আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিলে পাটগাঁওয়ের মানুষ আবারও তাদের পুরোনো মাঠকে নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় ফিরে পাবে। অন্যথায় সামান্য বৃষ্টিতেই এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।