উনচিপ্রাং ক্যাম্পে হেড মাঝির বিরুদ্ধে নারীর অভিযোগ
বিয়ে ও স্বর্ণালংকারের প্রলোভন, ব্ল্যাকমেইল ও রাতে বসতঘরে গিয়ে হুমকির অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি ,টেকনাফ কক্সবাজার
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ২২ নম্বর উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে মোহাম্মদ রফিক (৪৩) নামে এক হেড মাঝির বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ব্ল্যাকমেইল, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পের বাসিন্দা তাহেরা (২৭) ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগে তাহেরা উল্লেখ করেন, তিনি ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ২২ নম্বর উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়, মোহাম্মদ রফিকের কোনো সন্তান না থাকায় তাহেরার ছোট সন্তান রাহাতকে দত্তক নেওয়ার বিষয়ে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে তাহেরা এতে সম্মত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, সন্তান দত্তক দেওয়ার সূত্র ধরে রফিকের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ চলতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার দেওয়ার পাশাপাশি তার আরও পাঁচ সন্তানসহ পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তাহেরা।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই আশ্বাসের ওপর বিশ্বাস করে প্রায় ১০ মাস আগে তাহেরা তার স্বামীকে তালাক দেন। কিন্তু পরবর্তীতে রফিক তাকে বিয়ে না করে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তাহেরার অভিযোগ, তিনি বিষয়টি পরিবারের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের জানানোর উদ্যোগ নিলে রফিক তাকে ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানি শুরু করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রফিক তার ব্যক্তিগত কিছু ভিডিও ও অডিও রেকর্ড করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করার পর গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে রফিক তার বসতঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি পুলিশকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, রফিক দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পের অসহায় নারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের সঙ্গে ভিডিও ধারণের একটি মেমোরি কার্ড সংযুক্ত করা হয়েছে বলে লিখিত আবেদনে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারী তাহেরা বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইপূর্বক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ রফিকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযুক্ত করা হবে।