ঢাকা    শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

ঈশ্বরগঞ্জে বিদ্যুৎ বন্ধ করে রাতের আঁধারে খুঁটি স্থানান্তর



ঈশ্বরগঞ্জে বিদ্যুৎ বন্ধ করে রাতের আঁধারে খুঁটি স্থানান্তর

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে রাতের আঁধারে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তর করতে গিয়ে জনতার ধাওয়া খেয়ে নিজেদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও খুঁটি অপসারণ সামগ্রী ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় একটি চক্রের সদস্যরা।

শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বড়জোড়া গ্রামের ধ্বংসের মোড় এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও খুঁটি অপসারণ সামগ্রী জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।

উপজেলার বড়জোড়া গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৮) জানান, তার বাড়ির সামনে খলি জায়গার একটি পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরের জন্য গত ৪মাস পূর্বে ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে যোগাযোগ করেন। তখন বিদ্যুৎ অফিস থেকে তাকে আবেদন করতে বলা হয়।

পরবর্তীতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইলেক্টটিশিয়ান তছলিম (আইডি নং ৬০১০) এর মাধ্যমে খুঁটি স্থানান্তরের বিষয়ে কথা হয়। তসলিম তাকে বলেন, অফিসে আবেদন করে খুঁটি স্থানান্তর করলে ৬/৭ মাস সময় লাগবে এবং ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হবে। তবে তাকে বিশ হাজার টাকা দিলে অফিস ম্যানেজ করে কাজটি দ্রুত করে দিতে পারবেন বলে জানায়। পরে আনোয়ার খুঁটি সরানোর চুক্তিতে দুই কিস্তিতে তছলিমকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন।  টাকা পাওয়ার পর তছলিম শুক্রবার বিকেলে ৮/১০ জন লোক নিয়ে রাতের আঁধারে চুপিসারে এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বন্ধ করে খুঁটি স্থানান্তরের কাজে শুরু করেন।

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বড়জোড়া গ্রামের বাসিন্দা ফখরউদ্দিন ভুঁইয়ার সন্ধার পর বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে বিদ্যুৎ বন্ধের বিষয়টি জানান। পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের কারণ উদঘাটনের জন্য অফিস থেকে লাইনম্যান মাসুদ রানা ও লাইন টেকনিশিয়ান মৃদুল জোয়ারদারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে একটি বিদ্যুতের খুঁটি কে বা কাহারা স্থানান্তর করছে। পরে বিষয়টি অফিসকে অবহিত করে ঘটনাস্থল থেকে পুনরায় অফিসে ফিরে আসে।

ঘটনাটি স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহ সৃষ্টি হলে সাংবাদিকদের জানানো হয়। পরে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্ধকারের মধ্যে বিদ্যুৎ খুঁটি স্থানান্তর কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। ওই সময় খুঁটিতে থাকা ওই চক্রের নুরুজ্জামান নামের এক সদস্য আটকা পড়ে। তার পরিচয় জানতে চাইলে সে গৌরীপুর উপজেলার চরশ্রীরামপুর গ্রামের হাতেম ক্বারীর ছেলে নুরুজ্জামান বলে জানায়। সে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ঠিকাদারদের ফ্লোরম্যান হিসেবে কাজ করে। সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদে সে আরো জানায়, তাকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের রুহুল আমিন তাকে এই কাজে নিয়ে আসে। তার কাজের বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে নুরুজ্জামান সন্তোষজনক কোন উত্তর দিতে পারেনি। একপর্যায়ে সে দৌড়ে অন্ধকারে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইলেক্টটিশিয়ান পরিচয়দানকারী দালাল রুহুল আমিন জানান, ইলেক্টটিশিয়ান তছলিম তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেছেন। পরে আমি ওখানে গিয়ে দেখি কাজটি সম্পূর্ণ অবৈধ। ওই সময় কারা যেন ঘটনাস্থলে আসছে টের পেয়ে মানহানির ভয়ে আমিও পালিয়ে আসি।

ইলেক্টটিশিয়ান তছলিম বলেন, তাকে ওই কাজে রুহুল আমিন নিয়ে যায়। এবং আনোয়ারের সাথে টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন আনোয়ার সরাসরি নুরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করেছে। আমি এব্যাপারে কিছুই জানিনা। 

এবিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম কাউসার মোহাম্মদ উমর ফারুককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ এই চক্রের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও কাজের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি আইনসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম অনিতা বর্ধন জানান, ছুটির দিন থাকায় আমি কর্মস্থলে ছিলাম না। ঘটনাটি শুনেছি। এব্যাপারে জিএম স্যারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জিএম নূর মোহাম্মদ জানান, এঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেন পাওয়ার পর যথাযত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বুড়িগঙ্গা

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


ঈশ্বরগঞ্জে বিদ্যুৎ বন্ধ করে রাতের আঁধারে খুঁটি স্থানান্তর

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে রাতের আঁধারে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তর করতে গিয়ে জনতার ধাওয়া খেয়ে নিজেদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও খুঁটি অপসারণ সামগ্রী ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় একটি চক্রের সদস্যরা।

শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বড়জোড়া গ্রামের ধ্বংসের মোড় এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও খুঁটি অপসারণ সামগ্রী জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।

উপজেলার বড়জোড়া গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৮) জানান, তার বাড়ির সামনে খলি জায়গার একটি পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরের জন্য গত ৪মাস পূর্বে ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে যোগাযোগ করেন। তখন বিদ্যুৎ অফিস থেকে তাকে আবেদন করতে বলা হয়।

পরবর্তীতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইলেক্টটিশিয়ান তছলিম (আইডি নং ৬০১০) এর মাধ্যমে খুঁটি স্থানান্তরের বিষয়ে কথা হয়। তসলিম তাকে বলেন, অফিসে আবেদন করে খুঁটি স্থানান্তর করলে ৬/৭ মাস সময় লাগবে এবং ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হবে। তবে তাকে বিশ হাজার টাকা দিলে অফিস ম্যানেজ করে কাজটি দ্রুত করে দিতে পারবেন বলে জানায়। পরে আনোয়ার খুঁটি সরানোর চুক্তিতে দুই কিস্তিতে তছলিমকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন।  টাকা পাওয়ার পর তছলিম শুক্রবার বিকেলে ৮/১০ জন লোক নিয়ে রাতের আঁধারে চুপিসারে এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বন্ধ করে খুঁটি স্থানান্তরের কাজে শুরু করেন।

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বড়জোড়া গ্রামের বাসিন্দা ফখরউদ্দিন ভুঁইয়ার সন্ধার পর বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে বিদ্যুৎ বন্ধের বিষয়টি জানান। পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের কারণ উদঘাটনের জন্য অফিস থেকে লাইনম্যান মাসুদ রানা ও লাইন টেকনিশিয়ান মৃদুল জোয়ারদারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে একটি বিদ্যুতের খুঁটি কে বা কাহারা স্থানান্তর করছে। পরে বিষয়টি অফিসকে অবহিত করে ঘটনাস্থল থেকে পুনরায় অফিসে ফিরে আসে।

ঘটনাটি স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহ সৃষ্টি হলে সাংবাদিকদের জানানো হয়। পরে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্ধকারের মধ্যে বিদ্যুৎ খুঁটি স্থানান্তর কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। ওই সময় খুঁটিতে থাকা ওই চক্রের নুরুজ্জামান নামের এক সদস্য আটকা পড়ে। তার পরিচয় জানতে চাইলে সে গৌরীপুর উপজেলার চরশ্রীরামপুর গ্রামের হাতেম ক্বারীর ছেলে নুরুজ্জামান বলে জানায়। সে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ঠিকাদারদের ফ্লোরম্যান হিসেবে কাজ করে। সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদে সে আরো জানায়, তাকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের রুহুল আমিন তাকে এই কাজে নিয়ে আসে। তার কাজের বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে নুরুজ্জামান সন্তোষজনক কোন উত্তর দিতে পারেনি। একপর্যায়ে সে দৌড়ে অন্ধকারে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইলেক্টটিশিয়ান পরিচয়দানকারী দালাল রুহুল আমিন জানান, ইলেক্টটিশিয়ান তছলিম তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেছেন। পরে আমি ওখানে গিয়ে দেখি কাজটি সম্পূর্ণ অবৈধ। ওই সময় কারা যেন ঘটনাস্থলে আসছে টের পেয়ে মানহানির ভয়ে আমিও পালিয়ে আসি।

ইলেক্টটিশিয়ান তছলিম বলেন, তাকে ওই কাজে রুহুল আমিন নিয়ে যায়। এবং আনোয়ারের সাথে টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন আনোয়ার সরাসরি নুরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করেছে। আমি এব্যাপারে কিছুই জানিনা। 

এবিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম কাউসার মোহাম্মদ উমর ফারুককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ এই চক্রের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও কাজের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি আইনসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম অনিতা বর্ধন জানান, ছুটির দিন থাকায় আমি কর্মস্থলে ছিলাম না। ঘটনাটি শুনেছি। এব্যাপারে জিএম স্যারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জিএম নূর মোহাম্মদ জানান, এঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেন পাওয়ার পর যথাযত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
ঈশ্বরগঞ্জে বিদ্যুৎ বন্ধ করে রাতের আঁধারে খুঁটি স্থানান্তর
0:00 0:00
1.0x