পরিশ্রম,মেধা ও পেশাগত নিষ্ঠা—এই তিনটির সমন্বয়ে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তন এনেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি। প্রশাসনিক দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ইতোমধ্যে অর্জন করেছেন সাধারণ চাষীদের আস্থা ও সম্মান। তাঁর দূরদর্শী দিক-নির্দেশনা ও নিরলস পরিশ্রমে উপজেলার কৃষি অর্থনীতি আজ নতুন এক সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে চলেছে। কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি কেবল দাপ্তরিক প্রশাসনিক কাজের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। প্রতিদিনের রুটিন কাজের বাইরেও উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেন তিনি। ফসলের মাঠ পরিদর্শন,সরজমিনে রোগবালাই পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক সমাধান নিশ্চিত করতে তাঁর মাঠ পর্যায়ের তৎপরতা প্রশংসনীয়। নিয়মিত উঠান বৈঠক ও মাঠ দিবসের মাধ্যমে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সুফল তিনি পৌঁছে দিচ্ছেন প্রান্তিক চাষীদের ঘরে ঘরে। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে উপজেলায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। পার্চিং পদ্ধতি,সেচ ফেরোমন ট্র্যাপ,বিষমুক্ত সবজি চাষ এবং জলবায়ু-সহনশীল শস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে তিনি কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। সেচের অপচয় রোধ,সুষম সারের ব্যবহার এবং সরকারি কৃষি প্রণোদনা ও সার-বীজ সরাসরি প্রকৃত কৃষকদের হাতে স্বচ্ছতার সাথে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে—এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন এবং পতিত জমিতে উচ্চমূল্যের ফসল ও ফল চাষে জোর দিয়েছেন। এতে করে গ্রামীণ পরিবারের পুষ্টির চাহিদাও যেমন মিটেছে, তেমনি কৃষকদের আত্মকর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে,সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমির কর্মদক্ষতা ও আন্তরিক পরামর্শের কারণে তাঁরা ফসলের ফলন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে সক্ষম হচ্ছেন। যেকোনো সমস্যায় তাঁকে সহজেই পাশে পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। একঝাঁক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টায় উল্লাপাড়া উপজেলাকে একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক মডেল কৃষি উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি। তাঁর এই কর্মস্পৃহা ও কৃষিবান্ধব পদক্ষেপ প্রশংসিত হচ্ছে সর্বমহলে।