ঢাকা    সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

সবার প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠল ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল স্কুল প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের তালে হাঁটার একটি ভিডিও ফেসবুকে দেন। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই একটি গোষ্ঠী তাঁকে নিয়ে ট্রল ও হেনস্তা শুরু করে। এমনকি চলতি বছর নির্বাচিত জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি ওঠে। তবে এর বিপরীতে ঘটল নজিরবিহীন ঘটনা। দেশজুড়ে হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সাধারণ মানুষ সংহতি জানিয়ে একই গানের সঙ্গে নিজেদের ভিডিও বানিয়ে বিউটির পাশে দাঁড়ান।  এই শ্রাবণ মাসের মতোই ১৯৮৭ সালের আরেক শ্রাবণে খুলনায় বসে এ গানটি লিখেছিলেন গীতিকার ও সুরকার আশরাফ বাবু। রোমান্টিক ধাঁচের গানটি এত বছর পর এই শ্রাবণে হয়ে উঠল সবার প্রতিবাদের ভাষা। কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল ফেসবুকে ওই শিক্ষিকার ছবি দিয়ে লেখেন, ‘সারাদেশ থেকে তাঁর সহকর্মীরা তো বটেই, আরও নানান শ্রেণিপেশার মানুষ নিজেদের ভিডিও প্রকাশ করছেন। দারুণ ব্যাপার! সম্মিলিত প্রতিবাদে ভেসে যাক ধর্মান্ধ ইতরদের তৈরি করা সমস্ত অচলায়তন।’ শিক্ষিকা দীপা মণ্ডল প্রশ্ন তোলেন, শাড়ি পরিহিত একজন শিক্ষক কীভাবে অশ্লীলতা প্রকাশ করতে পারেন? হুমায়ুন কবীর ঢালী নামে একজন লেখেন, শিক্ষকও রক্ত-মাংসের মানুষ, আনন্দ-বেদনা প্রকাশের অধিকার তাঁরও আছে। ইনসাদ হোসাইন নামে একজন লেখেন, শিক্ষিকা বিউটি পাল সংগীতের সুরে তাল মিলিয়ে এভাবেই হাঁটুন, দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। সমালোচনার জবাবে বিউটি রানী পাল বলেন, শিক্ষক হওয়ার আগে আমি একজন মানুষ, একজন নারী– তারও মন আছে, নিজের মতো বাঁচার অধিকার আছে। এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা সমকালকে বলেন, প্রধান শিক্ষিকার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পক্ষে-বিপক্ষে নানা কথা চলছে। এটা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা খতিয়ে দেখবেন, এই কনটেন্টটিতে সামাজিক কোনো ‘ভায়োলেন্স’ আছে কিনা।

 সবার প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠল ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’