ঢাকা    রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

করাচির রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন করছে রোবিয়া ও জোজো

পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচির একটি রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশনে কাজ করছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রোবট। রেস্তোরাঁয় আসা কাস্ট টেবিলে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে রোবট ওয়েট্রেস ‘রোবিয়া’ ও তার সহকারী ‘জোজো’। দেশটিতে রোবটের এমন ব্যবহার বিরল হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিভিন্ন দেশের তৈরি মানবাকৃতির রোবট নিয়ে আলোচনা বাড়লেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে রেস্তোরাঁয় রোবট কর্মীর উপস্থিতি এখনো খুব একটা দেখা যায় না। সেই বাস্তবতায় করাচির খাবারের জগতে প্রযুক্তির নতুন সংযোজন এনেছেন পাকিস্তানি প্রকৌশলী সৈয়দ ওসামা আজিজ। নিয়ন আলোয় সাজানো ‘দ্য সিসিলিয়ান’ নামের রেস্তোরাঁয় রোবট দুটি খাবার পরিবেশন করছে। গ্রাহকদের সামনে এসে ইলেকট্রনিক কণ্ঠে রোবিয়া বলে, ‘সিসিলিয়ানে স্বাগতম। আমার নাম রোবিয়া।’ এ সময় তার মাথার লাল এলইডি চোখ জ্বলতে থাকে। রোবিয়া ও জোজোর মাথা গোলাকার ও সাদা। মুখের অংশে রয়েছে মোটরসাইকেলের হেলমেটের মতো কালো ভিসর। আঞ্চলিক নারীদের পরিধেয় ওড়না বা দোপাট্টার আদলে তাদের গলায় কালো শালও রয়েছে। রেস্তোরাঁটির প্রতিষ্ঠাতা আজিজ নিজেই রোবট দুটি তৈরি করেছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নিজের গবেষণাগারে রোবটগুলোর সার্কিট বোর্ড তৈরি ও প্রোগ্রামিং করেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপিকে আজিজ বলেন, ‘রোবট তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম এখানে সহজে পাওয়া যায় না। তাই আমাদের সেগুলো সংগ্রহ করতে হয়েছে।’ তার প্রতিষ্ঠিত রোবোটিকস প্রতিষ্ঠান কোবটের মাধ্যমে বন্ধুদের সহযোগিতা এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা কিছু ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে রোবট দুটি তৈরি করা হয়েছে। রেস্তোরাঁয় রোবটগুলো গ্রাহকদের টেবিলে খাবার পৌঁছে দিলেও ট্রে থেকে খাবার নামিয়ে নিতে হয় গ্রাহকদেরই। অন্যথায় এ কাজে সহায়তা করেন রেস্তোরাঁর কর্মীরা। পাকিস্তানের মধ্যাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতানে রোবট তৈরির কর্মশালা রয়েছে আজিজের। ভবিষ্যতে রোবটগুলোকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। আজিজ বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হলো ক্যামেরাভিত্তিক প্রযুক্তি ও ছবি শনাক্ত করার সক্ষমতা যুক্ত করা। এতে রোবট কাউকে দেখেই চিনতে পারবে। এমনকি আগেরবার তিনি কী খাবার অর্ডার করেছিলেন, সেটিও মনে রাখতে পারবে। সেই অনুযায়ী আরও ভালো খাবারের পরামর্শ দিতে পারবে।’ বর্তমানে রোবট দুটি রেস্তোরাঁয় আসা পরিবারগুলোর কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এগুলোর কার্যক্রম দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। রেস্তোরাঁর এক গ্রাহক আহমের জামির এএফপিকে বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, রোবটটি নিজেই নিজের পরিচয় দেয়। পাশাপাশি কী কী খাবার অর্ডার করা যাবে, সে সম্পর্কেও জানায়।’ রেস্তোরাঁর কর্মীরা জানিয়েছেন, রোবটের উপস্থিতিতে গ্রাহকসংখ্যা বেড়েছে। এমনকি শহরের দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ আসছেন রোবট দুটি দেখতে। রেস্তোরাঁর কর্মী হেলেন বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা বেড়েছে। মানুষ অনেক দূর থেকে এখানে আসছেন। অনেকেই জীবনে প্রথমবারের মতো এখানে রোবট দেখেছেন। এগুলো দেখতে সবাই বেশ উচ্ছ্বসিত।’ বিডি প্রতিদিন/ আনাই

করাচির রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন করছে রোবিয়া ও জোজো