চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের ভোট নিচ্ছে ফেনী বিএনপি
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে ফেনী বিএনপি। চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণে সরাসরি ভোটের আয়োজন করেছে দলটি। জেলার ছয় উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রথম ধাপে ফেনী সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে এ ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হলে দলীয় কোন্দল কমার পাশাপাশি নির্বাচনে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে এগিয়ে আনা সম্ভব হবে।
রবিবার সদর উপজেলার মোটবী, ফাজিলপুর ও ফরহাদনগর ইউনিয়নে ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে ১২টি ইউনিয়নে প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম শেষ হয়। এর আগে শর্শদি, পাঁচগাছিয়া, ধর্মপুর, কাজিরবাগ, কালিদহ, বালিগাঁও, ধলিয়া, লেমুয়া ও ছনুয়া ইউনিয়নে একই প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণ করা হয়।
সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে চেয়ারম্যান, সাধারণ ওয়ার্ডের সদস্য ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য পদে পৃথক তিনটি ব্যালট পেপারে ভোট নেওয়া হয়। প্রতিটি পদের জন্য সর্বোচ্চ তিনজনের নাম প্রস্তাব করার সুযোগ পান নির্ধারিত ডেলিগেট ভোটাররা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, জনপ্রিয়তা, দলের প্রতি ত্যাগ ও অবদান এবং নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পাশাপাশি দলীয় পরিচয়ের বাইরে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও বিবেচনায় রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মোটবী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন মানিক বলেন, ডেলিগেট ভোটাররা যাকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেবেন, তাকেই মেনে নেওয়া হবে। তবে ভোটগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই ফলাফল ঘোষণার দাবি জানান তিনি।
একই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী ফখরুল ইসলাম মাসুক বলেন, এ পদ্ধতিতে প্রার্থী বাছাই করা হলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দল ও নেতাকর্মীদের কাছে জবাবদিহিও বাড়বে।
চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে সদর উপজেলা বিএনপি ভোটের আগেই ভোটের আয়োজন করেছে। তিনি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিএনপি তৃণমূলকে গুরুত্ব দিয়েছে। তবে দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নেতাকর্মীদের অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে। সব বিষয় সমন্বয় করে প্রার্থী বাছাই করা প্রয়োজন।
ফাজিলপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে সদস্য পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী শেখ আবদুল গনি বলেন, ভোটে পরাজিত হলেও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন তিনি।
সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছাড়াও দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সরাসরি ভোটে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুলের মতে, নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে একক প্রার্থী নির্ধারণ করা গেলে নির্বাচনে দলের বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়বে।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন ও আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারও প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। শেখ ফরিদ বাহার বলেন, তৃণমূলের ভোটে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের পর জেলা ও বিভাগীয় কমিটি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
সদর উপজেলার বাইরে জেলার অন্য পাঁচ উপজেলার ৩১টি ইউনিয়নেও একই পদ্ধতিতে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রত্যাশা করছেন নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হলে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়নের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে মনোনয়ন নিয়ে বিরোধ কমিয়ে নির্বাচনের মাঠে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা সহজ হতে পারে।
বিডি প্রতিদিন/এআরএ