ডেঙ্গু নাকি সাধারণ জ্বর? লক্ষণ বুঝে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় সাধারণ জ্বর ও ডেঙ্গু জ্বরের পার্থক্য বুঝে ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাদের মতে, জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যাসপিরিনজাতীয় ওষুধ সেবন না করে প্রথমে লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।চিকিৎসকদের ভাষ্য, সাধারণ জ্বর হলে শুধু প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে। তবে জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, সারা শরীর ও গিঁটে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা শরীরে লালচে র্যাশ দেখা দিলে তা ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডেঙ্গু সন্দেহ হলে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনজাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একইভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবনও অনুচিত।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, জ্বর হলে শুধু প্যারাসিটামল খাওয়া নিরাপদ। নিজের সিদ্ধান্তে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া উচিত। তিনি শিশুদের পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি ও তরল খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি বাইরে গেলে ফুলহাতা জামা, ফুলপ্যান্ট ও মোজা পরানোর পরামর্শ দেন।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গুর পাশাপাশি করোনা ও ডায়রিয়াসহ একাধিক ভাইরাসজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সরকার ও জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এডিস মশা পরিষ্কার ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ফুলের টব, ছাদ, বারান্দা, টায়ার বা বিভিন্ন পাত্রে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। সূর্যোদয়ের পরের দুই ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগের দুই থেকে তিন ঘণ্টা এডিস মশা সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। এ সময় বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, বর্তমানে ডেন-৩ (DENV-3) সেরোটাইপ বেশি শনাক্ত হওয়ায় ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো জটিলতার ঝুঁকিও বেড়েছে। তাই জ্বরকে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ৫৯টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১২ হাজার ২০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে ১০ হাজার ৯১১ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।