ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দূর করবে ডিটক্স পানীয়
স্থূলতার হাত ধরে যেসব রোগ শরীরে বাসা বাঁধে, তার মধ্যে একটি হলো ফ্যাটি লিভার। অনিয়মিত খাওয়াদাওয়ার ফলে লিভারে মেদ জমা হতে হতে এ সমস্যা আরও বড় আকার ধারণ করে থাকে।
লিভার সাধারণত ৫-৬ শতাংশ চর্বি শোষণ করতে পারে। এর চেয়ে বেশি চর্বি জমা হতে থাকলেই তা আরও বিপজ্জনক। আর তাতে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা পরে লিভারের ক্ষত বা লিভার সিরোসিসে গড়াতে পারে। তাই ফ্যাটি লিভারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাওয়াদাওয়া সঠিক নিয়মে করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, এমন কিছু ডিটক্স পানীয় আছে, যা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলে লিভারের রোগ সেরে যায়। লিভারে মেদ জমে না। আর এ পানীয় তৈরি করে নিতে পারেন ঘরে বসেই।
কীভাবে ডিটক্স পানীয় পান করলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দূর করা সম্ভব—
শসা তরমুজ ও জিরার স্মুদি
শসাতে ফ্যাট নেই। শরীর ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি আছে। ক্যালোরির পরিমাণও কম। যারা দ্রুত ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য শসা ভীষণ উপকারী। এ ছাড়া শসায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা বিপাকহার বাড়িয়ে ওজন ঝরাতে সহায়তা করে থাকে।
তরমুজও কম ক্যালোরিযুক্ত ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে পানি রয়েছে, যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। জিরা আপনার শরীরের হজমশক্তি বৃদ্ধি করে এবং খিদে মেটায়। তাই ওজন ঝরাতে এ স্মুদি খুবই কার্যকর।
কাঠবাদাম-ডুমুরের স্মুদি
৫-৬টি কাঠবাদাম ভিজিয়ে রাখুন। সঙ্গে একটি শুকনো ডুমুর, ১ কাপ দুধ কিংবা কাঠবাদামের দুধ, ১ চামচ চিয়া বীজ, আধ চামচ দারুচিনি এবং ১ চামচ মধু। সব উপকরণ মিশিয়ে ব্লেন্ডারে মিশ্রণ করুন। এরপর মিহি মিশ্রণ তৈরি হবে। সেটি ফ্রিজে ঘণ্টা দুয়েক রেখে দিন। এবার স্মুদি নিয়ম করে খেলে আপনার শরীরে ক্যালশিয়ামের অভাব পূরণ হবে। সেই সঙ্গে পেশির জোরও বাড়বে।
হলুদ ও আনারসের স্মুদি
হলুদের কারকিউমিন ও আনারসে প্রদাহনাশক উপাদান ব্রোমালিন লিভারের সমস্যা কমাতে সহায়ক। আপনার শরীরের প্রদাহ নাশ করে। সেই সঙ্গে অম্বলের সমস্যা দূর করতে পারে। হলুদ ও আনারসের স্মুদি বানাতে প্রয়োজন এক কাপের মতো আনারসের টুকরো, আধ চামচ হলুদগুঁড়ো, ১ ইঞ্চি কাঁচা হলুদ, আধ ইঞ্চি আদা, আধ কাপ নারকেলের জল, ১ চামচ লেবুর রস, এক চিমটি গোলমরিচের গুঁড়ো। সমস্ত উপকরণ ব্লেন্ডারে মিশিয়ে নিতে হবে। রোজ সকালে বা বিকালে পান করলে লিভার ভাল থাকবে।