ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

কোনো ধরনের চাপ দিয়ে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, কোনো ধরনের চাপ দিয়ে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না। একই সাথে বেসামরিক অবকাঠামো, খাদ্য সরবরাহ ও মানুষের জীবিকার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বারবার হামলার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জানায়, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি লড়াই হলে এক কথা। কিন্তু বেসামরিক অবকাঠামো, খাদ্য সরবরাহ ও মানুষের জীবিকার ওপর কেন হামলা চালানো হচ্ছে? তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি যোদ্ধা হয়, তাহলে আমাদের বীর সামরিক বাহিনীর মোকাবিলা করুক। বেসামরিক অবকাঠামো, খাদ্য সরবরাহ ও মানুষের জীবিকার ওপর কেন যুদ্ধ চালানো হচ্ছে?’ পেজেশকিয়ান মৌলিক প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার ওপর ওয়াশিংটনের আরোপিত বিধিনিষেধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘তারা যদি মানুষ হয়, তাহলে মানুষকে পানি, খাদ্য ও ওষুধ পাওয়ার সুযোগ থেকে কেন বঞ্চিত করছে?’ শেষে ইরানের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেন, চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে নতি স্বীকার করানো যাবে না। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের জনগণকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না। ইরান আত্মসমর্পণ করবে না।’ পেজেশকিয়ানের এসব বক্তব্য ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গে দেয়া। এর মধ্যে গত জুনে এবং চলতি বছরের শুরুর দিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো যুদ্ধও রয়েছে। এসব যুদ্ধে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক নিরপরাধ বেসামরিক মানুষও রয়েছেন। এ ছাড়া ওয়াশিংটনের কয়েক দশকের অর্থনৈতিক চাপের নীতির কথাও এতে উঠে এসেছে। খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশের মতো মানুষের জরুরি প্রয়োজনীয় পণ্য ও সরবরাহও ওই চাপের আওতায় পড়েছে। রক্তপাত, ধ্বংসযজ্ঞ ও অর্থনৈতিক চাপের এই দীর্ঘমেয়াদি প্রচারণার মুখে ইরানের কর্মকর্তারা বরাবরই দেশটির প্রতিরোধক্ষমতা, দৃঢ়তা এবং অযৌক্তিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার অবস্থানের কথা বলে আসছেন।

কোনো ধরনের চাপ দিয়ে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না