ঢাকা    শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

জন্মসূত্রে নাগরিকত্বে বিধিনিষেধ আনতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ জারি 

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের বিধান আরও সীমিত করার লক্ষ্যে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে এ-সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশ আদালতে টেকেনি। এবার তিনি দুটি নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন, যার একটি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ কমানোর এবং অন্যটি ‘বার্থ ট্যুরিজম’ রোধের উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর আওতায়, বাবা-মা উভয়ই অ-নাগরিক হলে এবং তাদের একজন বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, বিদেশি সরকারের কর্মকর্তা, নাগরিকত্ব পেতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন অথবা এমন কোনো মার্কিন ভূখণ্ডে বসবাস করেন, যেখানে ফেডারেল আইনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি নেই-তাহলে ওই শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে না। হোয়াইট হাউসে আদেশে স্বাক্ষর করার সময় ট্রাম্প বলেন, এই পরিবর্তন অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল এবং তার প্রশাসন এখন সেটি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।  একই সঙ্গে তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের সমালোচনাও করেন। দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।  ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অনেক বিদেশি নাগরিক পর্যটকের পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেন, যাতে সেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করে। হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি–বিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার বলেন, এই প্রক্রিয়ায় জন্ম নেওয়া শিশুরা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত বিভিন্ন অধিকার ও সুবিধা ভোগ করতে পারে।  তার মতে, বিদ্যমান অভিবাসন আইনের অধীনেই প্রেসিডেন্টের এমন ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে।  তবে নির্দলীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইমিগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট’-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর এভাবে প্রায় ২২ থেকে ২৬ হাজার শিশুর জন্ম হয়।  এছাড়া সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে বিদেশি ঠিকানাসম্পন্ন মায়েদের কাছ থেকে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ হাজার ৬০০। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্দেশ্যে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন।  তবে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে যায় এবং আদালত রায় দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বহাল থাকবে। বিদেশিদের ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের কিছু ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের থাকতে পারে বলে মনে করেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস আইনবিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল চিন। তবে তিনি বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক অধিকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর মোট জন্মের তুলনায় ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর ঘটনা অত্যন্ত নগণ্য।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্বে বিধিনিষেধ আনতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ জারি