ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

২০ বছরের সাধনায় তিনটি বই, প্রতিটি শব্দই শুরু ‘ক’ বর্ণে


প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

২০ বছরের সাধনায় তিনটি বই, প্রতিটি শব্দই শুরু ‘ক’ বর্ণে
ব্রাক্ষ্মণবাডিয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের লেখক এস এম নাজমুল কবির ইকবাল, ছদ্মনাম ইসমোনাক, বাংলা সাহিত্যে এক বিরল ও অভিনব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জীবনের দুই যুগেরও বেশি সময় সাহিত্য সাধনায় কাটিয়ে তিনি রচনা করেছেন তিনটি ব্যতিক্রমধর্মী গ্রন্থ— ‘কেষ্ট কবি’, ‘কেষ্ট কবির কনফারেন্স’ এবং ‘কেষ্ট কবির কষ্টগুলো’, যেগুলোর প্রতিটি শব্দই শুরু হয়েছে ‘ক’ বর্ণ দিয়ে। এই তিনটি গল্পগ্রন্থে রয়েছে ২৭ হাজার শব্দ। বিস্ময়কর হলেও সত্য, প্রতিটি শব্দই 'ক' বর্ণ দিয়ে শুরু—যা বাংলা সাহিত্য তো বটেই, বিশ্ব সাহিত্যেও এক অনন্য উদাহরণ। জীবনের কঠিন বাস্তবতা, নিপীড়িত মানুষের দুঃখ-কষ্ট, হাসি-কান্না ফুটে উঠেছে এসব গল্পে। পাঠকদের অনেকেই এই সৃষ্টি পড়ে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন। ১৯৬৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জন্ম ইসমোনাকের। শিক্ষার সূচনা গ্রামের মক্তবে, আর ইতি ঘটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের মধ্য দিয়ে। জীবনের নানা চড়াই-উৎরাই পার করে আজ তিনি ভাইদের সহায়তায় ছোট একটি কক্ষে জীবনযাপন করছেন। সাহিত্য সাধনার জন্য হারিয়েছেন চাকরি, পরিবার, এমনকি স্ত্রী-সন্তানও। ইসমোনাক জানান, "একটি বর্ণকে কেন্দ্র করে সাহিত্য রচনা সম্ভব কি না—এই প্রশ্ন থেকেই আমার সাহিত্যযাত্রা শুরু। শব্দ সংগ্রহে আমি প্রায় এক যুগ গবেষণা করেছি। ক বর্ণে সবচেয়ে বেশি শব্দ পাওয়া যায় বলে এটিকে বেছে নিয়েছি। প্রতিটি শব্দ যেন গল্পের কাব্যরস ও ভাব প্রকাশে উপযুক্ত হয়, সেজন্য পাঁচ বছর পরিশ্রম করেছি। এমনকি একটি শব্দ খুঁজতে গিয়ে আট মাস বিভিন্ন গ্রন্থাগারে ঘুরেছি।" এই গ্রন্থগুলো প্রকাশিত হয় একুশে বইমেলায় যথাক্রমে ২০১০, ২০১৩ ও ২০১৬ সালে। কিন্তু সাহিত্যসাধনার পেছনে সর্বস্ব হারানো এই লেখকের গর্ব—তিনি বাংলা সাহিত্যে এমন একটি নতুন উদ্ভাবন রাখতে পেরেছেন, যা বিশ্বে বাংলা ভাষার সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য গৌরবের বিষয় হতে পারে। ইসমোনাক বলেন, "আমার সৃষ্টিকর্মটি যেন ৪০ কোটি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে পৌঁছায়, এই চাওয়াটাই এখন বেঁচে থাকার মূল প্রেরণা। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে সফল হইনি। এখন চাই, রাষ্ট্র ও সমাজ যেন পাশে দাঁড়ায়।" এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসাইন বলেন, “ইসমোনাকের সাহিত্যকর্ম একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। পৃথিবীর ইতিহাসেও এ রকম নজির খুঁজে পাওয়া কঠিন। উপজেলা প্রশাসন তার

বুড়িগঙ্গা

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


২০ বছরের সাধনায় তিনটি বই, প্রতিটি শব্দই শুরু ‘ক’ বর্ণে

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৫

featured Image
ব্রাক্ষ্মণবাডিয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের লেখক এস এম নাজমুল কবির ইকবাল, ছদ্মনাম ইসমোনাক, বাংলা সাহিত্যে এক বিরল ও অভিনব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জীবনের দুই যুগেরও বেশি সময় সাহিত্য সাধনায় কাটিয়ে তিনি রচনা করেছেন তিনটি ব্যতিক্রমধর্মী গ্রন্থ— ‘কেষ্ট কবি’, ‘কেষ্ট কবির কনফারেন্স’ এবং ‘কেষ্ট কবির কষ্টগুলো’, যেগুলোর প্রতিটি শব্দই শুরু হয়েছে ‘ক’ বর্ণ দিয়ে। এই তিনটি গল্পগ্রন্থে রয়েছে ২৭ হাজার শব্দ। বিস্ময়কর হলেও সত্য, প্রতিটি শব্দই 'ক' বর্ণ দিয়ে শুরু—যা বাংলা সাহিত্য তো বটেই, বিশ্ব সাহিত্যেও এক অনন্য উদাহরণ। জীবনের কঠিন বাস্তবতা, নিপীড়িত মানুষের দুঃখ-কষ্ট, হাসি-কান্না ফুটে উঠেছে এসব গল্পে। পাঠকদের অনেকেই এই সৃষ্টি পড়ে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন। ১৯৬৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জন্ম ইসমোনাকের। শিক্ষার সূচনা গ্রামের মক্তবে, আর ইতি ঘটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের মধ্য দিয়ে। জীবনের নানা চড়াই-উৎরাই পার করে আজ তিনি ভাইদের সহায়তায় ছোট একটি কক্ষে জীবনযাপন করছেন। সাহিত্য সাধনার জন্য হারিয়েছেন চাকরি, পরিবার, এমনকি স্ত্রী-সন্তানও। ইসমোনাক জানান, "একটি বর্ণকে কেন্দ্র করে সাহিত্য রচনা সম্ভব কি না—এই প্রশ্ন থেকেই আমার সাহিত্যযাত্রা শুরু। শব্দ সংগ্রহে আমি প্রায় এক যুগ গবেষণা করেছি। ক বর্ণে সবচেয়ে বেশি শব্দ পাওয়া যায় বলে এটিকে বেছে নিয়েছি। প্রতিটি শব্দ যেন গল্পের কাব্যরস ও ভাব প্রকাশে উপযুক্ত হয়, সেজন্য পাঁচ বছর পরিশ্রম করেছি। এমনকি একটি শব্দ খুঁজতে গিয়ে আট মাস বিভিন্ন গ্রন্থাগারে ঘুরেছি।" এই গ্রন্থগুলো প্রকাশিত হয় একুশে বইমেলায় যথাক্রমে ২০১০, ২০১৩ ও ২০১৬ সালে। কিন্তু সাহিত্যসাধনার পেছনে সর্বস্ব হারানো এই লেখকের গর্ব—তিনি বাংলা সাহিত্যে এমন একটি নতুন উদ্ভাবন রাখতে পেরেছেন, যা বিশ্বে বাংলা ভাষার সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য গৌরবের বিষয় হতে পারে। ইসমোনাক বলেন, "আমার সৃষ্টিকর্মটি যেন ৪০ কোটি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে পৌঁছায়, এই চাওয়াটাই এখন বেঁচে থাকার মূল প্রেরণা। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে সফল হইনি। এখন চাই, রাষ্ট্র ও সমাজ যেন পাশে দাঁড়ায়।" এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসাইন বলেন, “ইসমোনাকের সাহিত্যকর্ম একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। পৃথিবীর ইতিহাসেও এ রকম নজির খুঁজে পাওয়া কঠিন। উপজেলা প্রশাসন তার

বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
২০ বছরের সাধনায় তিনটি বই, প্রতিটি শব্দই শুরু ‘ক’ বর্ণে
0:00 0:00
1.0x