ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

নিজের অপকর্ম ঢাকতে ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ


প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

নিজের অপকর্ম ঢাকতে ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নিজের অবৈধ কর্মকাণ্ড আড়াল করতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে হিমেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। হিমেল এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন এবং পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।  ওই চিকিৎসকের নাম মোশারফ হোসাইন। তিনি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের প্রফেসর ও আইসিইউ-এর প্রধান এবং পুরান ঢাকার মিটফোর্ডে অবস্থিত মেডি এইড হাসপাতালের পরিচালক। ভুক্তভোগী ডাক্তার মোশারফ নিজেকে ড্যাবের সদস্য এ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বলে দাবি করেছেন। অভিযোগের ব্যাপারে মেহেদী হাসান হিমেল জানান, ‘ডা. হারিস আমার মামা হন, তার সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক। আমাদের বাড়িও পাশাপাশি। আমার মামার সাথে অন্যায় হচ্ছে, এটা শোনার পর আমি ঘটনার খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম। উভয়পক্ষের সাথে কথা বলেছি, সমাধানের জন্য দিন তারিখ ঠিক করা হয়েছে। তিনি আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির যেই অভিযোগ এনেছেন এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি কারো চাপে পড়ে আমার রাজনৈতিক সুনাম নষ্ট করতে আমার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন। তিনি নিজের অপকর্ম ঢাকতে আমার উপর দোষ চাপাচ্ছেন।’ ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে হিমেল জানান, তার মামা ডাক্তার হারিসসহ আরও দুইজন চিকিৎসক ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাজধানীর মিটফোর্ড টাওয়ারের তৃতীয় তলা (বর্তমানে মেডিলাইফ হাসপাতাল) ল্যান্ডস্কেপ কোম্পানির কাছ থেকে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তারা উক্ত ফ্লোরটি মেডিলাইফ হাসপাতাল নামে ভাড়া দেন, যেখানে ডাক্তার মোশাররফও শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত হন। এর পূর্বে, ডাক্তার হারিসসহ মোট ছয়জন চিকিৎসক ‘এভার হেলথ হাসপাতাল’ নামে একই ফ্লোরে একটি প্রাইভেট হাসপাতাল পরিচালনা করতেন। সেই সময়কার কিছু চিকিৎসা সরঞ্জামের যৌথ মালিকানা বিষয়টি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয় এবং ডাক্তার মোশাররফ তার অংশের মালামাল বুঝে নেন। কিন্তু ২০২৫ সালের ১ মার্চ ডাক্তার মোশাররফ ফ্লোরে তালা দেন এবং ৫ মার্চ ভোরে ফ্লোরে থাকা সকল চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মালামাল বেআইনিভাবে লুট করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন মালিক পক্ষ। এমনকি ফ্লোরে ভাংচুর ও নতুন করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটান। অথচ ডাক্তার মোশাররফ ওই ফ্লোরের বৈধ মালিক নন বলে জানিয়েছেন হিমেল। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মালিকপক্ষ হিমেলকে বিষয়টি জানান এবং তিনি স্বশরীরে মালিক ডাক্তারগণসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেন। দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলাকালীন, আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়, মঙ্গলবার দুপুর ২টায় ল্যান্ডস্কেপ কোম্পানির সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে এবং বুধবার দুই পক্ষ বসে মীমাংসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন। হিমেল বলেন, “আমি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে এক টাকাও দাবি করিনি। বরং একজন আত্মীয় ও একজন সচেতন ছাত্রনেতা হিসেবে আমি একটি অবৈধ দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে সহযোগিতা করেছি। একজন চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েও যদি কেউ আইন অমান্য করে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক তালা লাগায়, সম্পত্তি দখল করে নেয়, তাহলে সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি, যেভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা পুরো ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়।” এবিষয়ে ড. হারিস জানিয়েছেন, “আমরা মিডফোর্ড টাওয়ারের তৃতীয় তলা কিনে মেডি লাইফকে ভাড়া দিয়েছি। তবে সরকার পরিবর্তনের পর ৫ আগস্ট বিকেলে ডা. মোশাররফ একবার তালা লাগান, যা আমরা সেনাবাহিনীর সহায়তায় খুলি। পরে ১ মার্চ ওয়ারীর কমিশনার আবুল বাশারের সহায়তায় পুনরায় তালা লাগানো হয়। পরবর্তীতে আইনগত সহায়তা নিতে থানায় গেলে বিভিন্ন জায়গায় আবুল বাশারের প্রভাবে তাদের সহযোগিতা করতে নিষেধ করা হয়। তাই বিষয়টি তিনি যেহেতু রাজনৈতিক প্রভাবের জায়গাতে নিয়ে গিয়েছে আমরাও পলিটিক্যালি সমাধানের চেষ্টা করেছি। তিনি আরও জানান, শুরুতে বিষয়টি হিমেলকে ঈদের সময় তাকে অবগত করি। এরপর গত পরশু আমরা মেডি লাইফের চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে ডা. মোশাররফের কাছে যাই। তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি এই ফ্লোরের মালিক? তিনি জানান, না, তিনি মালিক নন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপগুলো কমিশনার আবুল বাশার নিয়েছেন।” তিনি অভিযোগ করেন, সেখান থেকে বেরিয়ে ডা. মোশাররফ থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেন যে, তারা নাকি তার কাছে বিশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে, যা সম্পূর্ণ বানোয়াট। এই অভিযোগ সত্য কিনা মেডি লাইফের চেয়ারম্যান বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারবেন। ইতিমধ্যে আমরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। অপর মালিক ডা: মুর্শিদা পারভীন বলেন, ‘মোশাররফ আওয়ামী আমলে ফারুক খানের ভাতিজি জামাই পরিচয় দিয়ে আমাদের অত্যাচার করেছে এবং ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এ মেডিকেল অফিসার থেকে প্রফেসর প্লাস হেড অফ ডিপার্টমেন্ট হয়েছে।এখন আবার বিএনপির নাম ভাঙিয়ে আমার ফ্লোর জোর করে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। আমরা তার অত্যাচারের কাছে অসহায়।’ ডা: রাজিব বলেন, ‘আমি ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একই ডিপার্টমেন্ট চাকরি করার কারণে আমার বিরুদ্ধে ডিরেক্টর, ডেপুটি ডিরেক্টর উনাদের কাছে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করে আমাকে হেনস্তা করে। সাথে আমার ফ্লোর জোরপূর্বক দখল করে রেখে আমাদেরকেই মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। যারা আমাদের বিপদে পাশে দাঁড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও মিথ্যে অভিযোগ আনছে।’ আরেকজন মালিক ডা: মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ওর মতো ভূমিদস্যুদের হাত থেকে আইনগত বা সামাজিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তার মত লোক দেশের জন্য ক্ষতিকর, আমরা চাইনা পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার কোন দোসর পুনরায় আর কারো সম্পদ দখল করুক।’ ডা. মোশাররফ হোসেনের লুটপাটের কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ এই প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। দেখা যাচ্ছে তিনি ট্রাকে করে হাসপাতালের মালামাল সরাচ্ছেন। এরইমাঝে গত রোববার ডা. মোশাররফ হোসেন জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল-এর বিরুদ্ধে দলবল নিয়ে তার ক্লিনিকে যেয়ে হেনস্তা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনেন। এই ব্যাপারে ডা. মোশারফের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বুড়িগঙ্গা

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


নিজের অপকর্ম ঢাকতে ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৫

featured Image
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নিজের অবৈধ কর্মকাণ্ড আড়াল করতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে হিমেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। হিমেল এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন এবং পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।  ওই চিকিৎসকের নাম মোশারফ হোসাইন। তিনি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের প্রফেসর ও আইসিইউ-এর প্রধান এবং পুরান ঢাকার মিটফোর্ডে অবস্থিত মেডি এইড হাসপাতালের পরিচালক। ভুক্তভোগী ডাক্তার মোশারফ নিজেকে ড্যাবের সদস্য এ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বলে দাবি করেছেন। অভিযোগের ব্যাপারে মেহেদী হাসান হিমেল জানান, ‘ডা. হারিস আমার মামা হন, তার সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক। আমাদের বাড়িও পাশাপাশি। আমার মামার সাথে অন্যায় হচ্ছে, এটা শোনার পর আমি ঘটনার খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম। উভয়পক্ষের সাথে কথা বলেছি, সমাধানের জন্য দিন তারিখ ঠিক করা হয়েছে। তিনি আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির যেই অভিযোগ এনেছেন এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি কারো চাপে পড়ে আমার রাজনৈতিক সুনাম নষ্ট করতে আমার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন। তিনি নিজের অপকর্ম ঢাকতে আমার উপর দোষ চাপাচ্ছেন।’ ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে হিমেল জানান, তার মামা ডাক্তার হারিসসহ আরও দুইজন চিকিৎসক ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাজধানীর মিটফোর্ড টাওয়ারের তৃতীয় তলা (বর্তমানে মেডিলাইফ হাসপাতাল) ল্যান্ডস্কেপ কোম্পানির কাছ থেকে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তারা উক্ত ফ্লোরটি মেডিলাইফ হাসপাতাল নামে ভাড়া দেন, যেখানে ডাক্তার মোশাররফও শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত হন। এর পূর্বে, ডাক্তার হারিসসহ মোট ছয়জন চিকিৎসক ‘এভার হেলথ হাসপাতাল’ নামে একই ফ্লোরে একটি প্রাইভেট হাসপাতাল পরিচালনা করতেন। সেই সময়কার কিছু চিকিৎসা সরঞ্জামের যৌথ মালিকানা বিষয়টি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয় এবং ডাক্তার মোশাররফ তার অংশের মালামাল বুঝে নেন। কিন্তু ২০২৫ সালের ১ মার্চ ডাক্তার মোশাররফ ফ্লোরে তালা দেন এবং ৫ মার্চ ভোরে ফ্লোরে থাকা সকল চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মালামাল বেআইনিভাবে লুট করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন মালিক পক্ষ। এমনকি ফ্লোরে ভাংচুর ও নতুন করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটান। অথচ ডাক্তার মোশাররফ ওই ফ্লোরের বৈধ মালিক নন বলে জানিয়েছেন হিমেল। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মালিকপক্ষ হিমেলকে বিষয়টি জানান এবং তিনি স্বশরীরে মালিক ডাক্তারগণসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেন। দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলাকালীন, আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়, মঙ্গলবার দুপুর ২টায় ল্যান্ডস্কেপ কোম্পানির সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে এবং বুধবার দুই পক্ষ বসে মীমাংসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন। হিমেল বলেন, “আমি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে এক টাকাও দাবি করিনি। বরং একজন আত্মীয় ও একজন সচেতন ছাত্রনেতা হিসেবে আমি একটি অবৈধ দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে সহযোগিতা করেছি। একজন চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েও যদি কেউ আইন অমান্য করে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক তালা লাগায়, সম্পত্তি দখল করে নেয়, তাহলে সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি, যেভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা পুরো ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়।” এবিষয়ে ড. হারিস জানিয়েছেন, “আমরা মিডফোর্ড টাওয়ারের তৃতীয় তলা কিনে মেডি লাইফকে ভাড়া দিয়েছি। তবে সরকার পরিবর্তনের পর ৫ আগস্ট বিকেলে ডা. মোশাররফ একবার তালা লাগান, যা আমরা সেনাবাহিনীর সহায়তায় খুলি। পরে ১ মার্চ ওয়ারীর কমিশনার আবুল বাশারের সহায়তায় পুনরায় তালা লাগানো হয়। পরবর্তীতে আইনগত সহায়তা নিতে থানায় গেলে বিভিন্ন জায়গায় আবুল বাশারের প্রভাবে তাদের সহযোগিতা করতে নিষেধ করা হয়। তাই বিষয়টি তিনি যেহেতু রাজনৈতিক প্রভাবের জায়গাতে নিয়ে গিয়েছে আমরাও পলিটিক্যালি সমাধানের চেষ্টা করেছি। তিনি আরও জানান, শুরুতে বিষয়টি হিমেলকে ঈদের সময় তাকে অবগত করি। এরপর গত পরশু আমরা মেডি লাইফের চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে ডা. মোশাররফের কাছে যাই। তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি এই ফ্লোরের মালিক? তিনি জানান, না, তিনি মালিক নন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপগুলো কমিশনার আবুল বাশার নিয়েছেন।” তিনি অভিযোগ করেন, সেখান থেকে বেরিয়ে ডা. মোশাররফ থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেন যে, তারা নাকি তার কাছে বিশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে, যা সম্পূর্ণ বানোয়াট। এই অভিযোগ সত্য কিনা মেডি লাইফের চেয়ারম্যান বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারবেন। ইতিমধ্যে আমরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। অপর মালিক ডা: মুর্শিদা পারভীন বলেন, ‘মোশাররফ আওয়ামী আমলে ফারুক খানের ভাতিজি জামাই পরিচয় দিয়ে আমাদের অত্যাচার করেছে এবং ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এ মেডিকেল অফিসার থেকে প্রফেসর প্লাস হেড অফ ডিপার্টমেন্ট হয়েছে।এখন আবার বিএনপির নাম ভাঙিয়ে আমার ফ্লোর জোর করে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। আমরা তার অত্যাচারের কাছে অসহায়।’ ডা: রাজিব বলেন, ‘আমি ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একই ডিপার্টমেন্ট চাকরি করার কারণে আমার বিরুদ্ধে ডিরেক্টর, ডেপুটি ডিরেক্টর উনাদের কাছে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করে আমাকে হেনস্তা করে। সাথে আমার ফ্লোর জোরপূর্বক দখল করে রেখে আমাদেরকেই মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। যারা আমাদের বিপদে পাশে দাঁড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও মিথ্যে অভিযোগ আনছে।’ আরেকজন মালিক ডা: মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ওর মতো ভূমিদস্যুদের হাত থেকে আইনগত বা সামাজিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তার মত লোক দেশের জন্য ক্ষতিকর, আমরা চাইনা পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার কোন দোসর পুনরায় আর কারো সম্পদ দখল করুক।’ ডা. মোশাররফ হোসেনের লুটপাটের কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ এই প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। দেখা যাচ্ছে তিনি ট্রাকে করে হাসপাতালের মালামাল সরাচ্ছেন। এরইমাঝে গত রোববার ডা. মোশাররফ হোসেন জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল-এর বিরুদ্ধে দলবল নিয়ে তার ক্লিনিকে যেয়ে হেনস্তা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনেন। এই ব্যাপারে ডা. মোশারফের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
নিজের অপকর্ম ঢাকতে ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x