দেয়াল হুমায়ূন আহমেদ বুক রিভিউ[/caption]
উপন্যাসের দ্বিতীয় আখ্যানে দেখানো হয় মেজর ফারুকের বঙ্গবন্ধু হ*ত্যা*র পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে খন্দকার মোশতাক, মেজর রশীদ, মেজর জিয়া, কর্নেল ওসমানী সহ সবার সংশ্লিষ্টতা। এর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুন প্রভাষক হুমায়ূন আহমেদের আর্থিক দূরাবস্থা, বাকশালে যোগ দিতে চাপ প্রয়োগ, রক্ষীবাহিনীর অ*ত্যা*চার সহ তৎকালীন সময় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন তিনি।
অবন্তির শিক্ষক শফিক রাধানাথ নামে এক রহস্যময়ী লোকের সাথে পরিচিত ছিলেন।
তিনি খু*ন হবার আগে তার "আদর্শ লিপি প্রেস" নামে ছাপাখানা ও বিশাল সম্পদ শফিকের নামে লিখে দিয়ে যান। "নীলহাতি" বইয়ের প্রচ্ছদ শিল্পী খুঁজতে হুমায়ূন আহমেদের পরিচয় হয় শফিকের সাথে। শফিকের প্রেসে হুমায়ূন আহমেদের দেখা হয় অবন্তির সাথে।
'৭৫ এর পট পরিবর্তন ও পরপর সামরিক অ*ভ্যু*ত্থানের গল্প বলে যাওয়ার পাশাপাশি লেখক খালেদ মোশারফ ও কর্নেল তাহেরের সাহসীকতা ও মেজর জিয়ার আর্থিক সততার প্রসংশা করেন। পাশাপাশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কর্নেল তাহেরের ফাঁ*সি ও সামরিক আদালতে ১১'শ এর বেশি সৈনিক কে ফাঁ*সিতে ঝুলানোর কথাও উঠে আসে। মেজর ফারুক, রশীদদের চক্রান্ত রুখে দিয়ে ক্ষমতার মনসদে টিকে থাকা মেজর জিয়ার চট্টগ্রামে করুন পরীনতির কথাও দ্রুত বলে যান হুমায়ূন আহমেদ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কলিগ আনোয়ারের সাথে যেদিন কর্নেল তাহেরের সাথে দেখা করার কথা ছিল হুমায়ূন আহমেদের সেদিন-ই ধরা পড়ে যান তাহের! সৌভাগ্য ক্রমে বেঁচে যান হুমায়ূন আহমেদ নয়তো রাষ্ট্র দ্রোহের মামলার বেড়াজালে ফেসে যেতেন তিনি। জাসদের লিফলেট ছাপানোর অপরাধে শফিক কে গ্রেফতার হতে হয় এবং তাহের পরিবারের সাথে পরিচয় থাকায় তাকে রাজস্বাক্ষী হওয়ার জন্য নির্যাতন করা হয়। নিজেকে ভীতু বলে পরিচয় দেওয়া শফিক রাজস্বাক্ষী না হয়ে সাহসীকতার পরিচয় দেন যেমনটা বঙ্গবন্ধু কে হ*ত্যা*র পর রাজপথে একা মিছিল বের করে সাহসীকতার পরিচয় দিয়েছিলেন।
অবন্তীর সাথে সেনা অফিসার ও শফিকের সম্পর্ক আবার শফিকের সাথে হুমায়ূন আহমেদ ও তাহের পরিবারের সম্পর্ক উপন্যাসের দুটি আখ্যান কে সম্পর্কযুক্ত করেছে। ইতিহাস কেন্দ্রিক উপন্যাস হলেও নিজের কথার জাদুতে পাঠকদের বেঁধে রাখতে ভুলেন নি হুমায়ূন আহমেদ।
যেমন:
"এই পৃথীবিতে মূল্যবান শুধু মানুষের জীবন, আর সবই মূল্যহীন।"
"কিছু বিদ্যা মানুষের ভেতরে থাকে, সে নিজেও তা জানে না।"
"যে লাঠি দিয়ে অন্ধ মানুষ পথ চলে, সেই লাঠি দিয়ে মানুষ ও খু*ন করা যায়।"
"মানবজাতির স্বভাব হচ্ছে সে সত্যের চেয়ে মিথ্যার আশ্রয়ে নিজেকে নিরাপদ মনে করে।"
দেশের ইতিহাস নিয়ে প্রকাশিত যেকোন বই-ই বির্তকিত হয়েছে। দেয়াল ও তার ব্যতিক্রম নয় এবং বইটি আদালত পর্যন্ত ও গড়িয়েছে। তবুও বইটি বরাবরের মতো পাঠক সমাদৃত হয়েছে। এখনও কেউ "দেয়াল" পড়ে না থাকলে পড়ে ফেলুন। হুমায়ূন স্যার কোন দিন হতাশ করেন নি এবার ও আপনাকে হতাশ হতে হবে না…
( কৃতজ্ঞ =বই পর্যালোচনা,শোয়েব আখতার, বইয়ের নাম:দেয়াল , লেখক:হুমায়ূন আহমেদ)

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪
দেয়াল হুমায়ূন আহমেদ বুক রিভিউ[/caption]
উপন্যাসের দ্বিতীয় আখ্যানে দেখানো হয় মেজর ফারুকের বঙ্গবন্ধু হ*ত্যা*র পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে খন্দকার মোশতাক, মেজর রশীদ, মেজর জিয়া, কর্নেল ওসমানী সহ সবার সংশ্লিষ্টতা। এর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুন প্রভাষক হুমায়ূন আহমেদের আর্থিক দূরাবস্থা, বাকশালে যোগ দিতে চাপ প্রয়োগ, রক্ষীবাহিনীর অ*ত্যা*চার সহ তৎকালীন সময় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন তিনি।
অবন্তির শিক্ষক শফিক রাধানাথ নামে এক রহস্যময়ী লোকের সাথে পরিচিত ছিলেন।
তিনি খু*ন হবার আগে তার "আদর্শ লিপি প্রেস" নামে ছাপাখানা ও বিশাল সম্পদ শফিকের নামে লিখে দিয়ে যান। "নীলহাতি" বইয়ের প্রচ্ছদ শিল্পী খুঁজতে হুমায়ূন আহমেদের পরিচয় হয় শফিকের সাথে। শফিকের প্রেসে হুমায়ূন আহমেদের দেখা হয় অবন্তির সাথে।
'৭৫ এর পট পরিবর্তন ও পরপর সামরিক অ*ভ্যু*ত্থানের গল্প বলে যাওয়ার পাশাপাশি লেখক খালেদ মোশারফ ও কর্নেল তাহেরের সাহসীকতা ও মেজর জিয়ার আর্থিক সততার প্রসংশা করেন। পাশাপাশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কর্নেল তাহেরের ফাঁ*সি ও সামরিক আদালতে ১১'শ এর বেশি সৈনিক কে ফাঁ*সিতে ঝুলানোর কথাও উঠে আসে। মেজর ফারুক, রশীদদের চক্রান্ত রুখে দিয়ে ক্ষমতার মনসদে টিকে থাকা মেজর জিয়ার চট্টগ্রামে করুন পরীনতির কথাও দ্রুত বলে যান হুমায়ূন আহমেদ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কলিগ আনোয়ারের সাথে যেদিন কর্নেল তাহেরের সাথে দেখা করার কথা ছিল হুমায়ূন আহমেদের সেদিন-ই ধরা পড়ে যান তাহের! সৌভাগ্য ক্রমে বেঁচে যান হুমায়ূন আহমেদ নয়তো রাষ্ট্র দ্রোহের মামলার বেড়াজালে ফেসে যেতেন তিনি। জাসদের লিফলেট ছাপানোর অপরাধে শফিক কে গ্রেফতার হতে হয় এবং তাহের পরিবারের সাথে পরিচয় থাকায় তাকে রাজস্বাক্ষী হওয়ার জন্য নির্যাতন করা হয়। নিজেকে ভীতু বলে পরিচয় দেওয়া শফিক রাজস্বাক্ষী না হয়ে সাহসীকতার পরিচয় দেন যেমনটা বঙ্গবন্ধু কে হ*ত্যা*র পর রাজপথে একা মিছিল বের করে সাহসীকতার পরিচয় দিয়েছিলেন।
অবন্তীর সাথে সেনা অফিসার ও শফিকের সম্পর্ক আবার শফিকের সাথে হুমায়ূন আহমেদ ও তাহের পরিবারের সম্পর্ক উপন্যাসের দুটি আখ্যান কে সম্পর্কযুক্ত করেছে। ইতিহাস কেন্দ্রিক উপন্যাস হলেও নিজের কথার জাদুতে পাঠকদের বেঁধে রাখতে ভুলেন নি হুমায়ূন আহমেদ।
যেমন:
"এই পৃথীবিতে মূল্যবান শুধু মানুষের জীবন, আর সবই মূল্যহীন।"
"কিছু বিদ্যা মানুষের ভেতরে থাকে, সে নিজেও তা জানে না।"
"যে লাঠি দিয়ে অন্ধ মানুষ পথ চলে, সেই লাঠি দিয়ে মানুষ ও খু*ন করা যায়।"
"মানবজাতির স্বভাব হচ্ছে সে সত্যের চেয়ে মিথ্যার আশ্রয়ে নিজেকে নিরাপদ মনে করে।"
দেশের ইতিহাস নিয়ে প্রকাশিত যেকোন বই-ই বির্তকিত হয়েছে। দেয়াল ও তার ব্যতিক্রম নয় এবং বইটি আদালত পর্যন্ত ও গড়িয়েছে। তবুও বইটি বরাবরের মতো পাঠক সমাদৃত হয়েছে। এখনও কেউ "দেয়াল" পড়ে না থাকলে পড়ে ফেলুন। হুমায়ূন স্যার কোন দিন হতাশ করেন নি এবার ও আপনাকে হতাশ হতে হবে না…
( কৃতজ্ঞ =বই পর্যালোচনা,শোয়েব আখতার, বইয়ের নাম:দেয়াল , লেখক:হুমায়ূন আহমেদ)

আপনার মতামত লিখুন