ডিপ্রেশন ড. ইসমাইল আরাফাহ বুক রিভিউ[/caption]
আমাদের জগৎ যেসব আবেগ-অনুভূতি দিয়ে পূর্ণ, ল্যাক্রো সেদিকে গুরুত্ব প্রদান করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন কোম্পানির প্রচারণা বিভাগ ও এডভার্টাইজিং সাইটগুলো আমাদের অবসর যাপনের ওপর প্রভাব ফেলতে আমাদেরই আবেগকে পুঁজি করে! তারা আমাদের ভয়, আতঙ্ক, দুঃখ, ক্রোধ ও হাসি-আনন্দকে একটি মজার খেলা হিসেবে গ্রহণ করে!
সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্ক্সবাদী তারকার পতনের সাথেই শ্রেণি সংগ্রামের (Class conflict) ধারণার পতন হয়। আরব অঞ্চলে পরিবর্তনের জোয়ার ব্যর্থ হওয়ার পর আরব যুবকরা পরিবর্তন ও আন্দোলনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বিশ্বজগৎ যুবকদের আধিপত্যের সামনে নতি স্বীকার করতে অস্বীকার করে এবং সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক, সকল ক্ষেত্রেই পরাজয়ের পতাকা তাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়।
কিন্তু আশার কথা হলো, ল্যাক্রো আমাদের বলেন, ‘আমরা এখনো এমন স্থানে রয়েছি, যেখানে আমরা অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে পারব! যেভাবে মানুষ বাস্তব জগৎ থেকে পালিয়ে মাদক-জগতে চলে যায়, আমরাও সেভাবে ইমোশনাল এডভেঞ্চার কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নেশার দুনিয়ায় চলে যাই!’
এই কারণে আধুনিক মানুষগুলো অনুভূতির পূজা করতে শুরু করেছে। তারা আবেগকে বানিয়ে নিয়েছে সকল গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দু। তাদের গবেষণার বিষয় হয়ে উঠেছে অনুভূতি! কারণ আবেগ-অনুভূতি আত্মপূজায় নিমগ্ন একটি পূর্ণ জীবনের আদর্শকে রিপ্রেজেন্ট করে। তাই ব্যক্তিস্বাধীনতার চাবিকাঠির মতো এটিও তাদের আকর্ষণের মূল ফোকাস টেনে নিয়েছে।
ল্যাক্রো বলেছেন, ‘মানুষের প্রতিদিনকার ভাষা নিশ্চুপ অনুভূতিগুলোর চেয়ে বেশি আবেগময়। আমরা বর্তমানে অতিরঞ্জন করতে ভালোবাসি। বিনোদন, সংবাদ এবং বিজ্ঞাপনের শব্দগুলো আমাদের মানসিক অনুভূতিকে প্রচণ্ডভাবে উসকে দেয়। ঘুরেফিরে কয়েকটি শব্দ ও বাক্যেই তাদের মূল ফোকাস থাকে, ‘ইমোশনাল অভিযোগ, এটি একটি দুর্দান্ত গল্প, শিহরণ নিশ্চিত, দিস উইল শক ইউ, ইত্যাদি।’ সবগুলোই উত্তেজনাপূর্ণ শব্দ এবং উত্তেজনার অনুভূতির দ্বারাই এগুলো সিলেক্ট করা হয়েছে।’
ল্যাক্রো ইঙ্গিত করেছেন, এই ধরনের শব্দ ও বাক্যের ব্যবহার আমাদের চিন্তার ক্ষমতা ও দীর্ঘ সময় ধরে আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কেড়ে নেয়। কারণ, আমরা সর্বদা আরও বেশি উত্তেজনা ও আরও বেশি ক্রোধের তালাশে থাকি! অপরদিকে শান্ত মেজাজের চিন্তা ও স্থিতিশীল ভাবনার বিরুদ্ধাচরণ করি!
আমাদের স্বাভাবিক জীবন ও সংস্কৃতির দিকেই দেখুন না! তাড়াহুড়ো প্রবণতা, অস্থিরতা, শকিং ইফেক্টস, ধ্বংসাত্মক ভিডিও গেইমস, জমকালো কনসার্ট ও ফ্যাশন শো, ভয়ানক রেইস, উচ্ছৃঙ্খল জিম সেন্টার, লাগামহীন কার্যকলাপ, পাগলামিপূর্ণ অ্যাডভেঞ্চার, সহিংসতা, ক্ষণজন্মা ও ক্ষণজীবী চেতনা ইত্যাদি আমাদের স্বাভাবিক জীবনের সাথে মিশে গিয়েছে! এই যে আমরা নিরবচ্ছিন্ন ছুটে চলছি অনুভূতির পেছনে, বলুন তো, কীভাবে আমাদের মানসিক স্থিতিশীলতা আসবে?
এই উত্তেজনা ও অনুভূতির ধারণা সম্পর্কে সৌদি গবেষক বদর আল-সাওয়ি চমৎকার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘কিছুদিন আগে “একঘেয়েমির প্রতারণা” সম্পর্কে আমি এক বন্ধুকে পত্র লিখেছিলাম। একঘেয়েমি মূলত একটি নেয়ামত। কিন্তু না জানার কারণে আমরা আমাদের অনুভূতির জন্য অধিক পরিমাণে উত্তেজনা তালাশ করি। এই একঘেয়েমিই ধোঁকায় ফেলে আমাদের নিয়ে আসে কফিশপে! আমরা এখানে একঘেয়েমি কাটাতে আসি!
এই অনুভূতি ও উত্তেজনা থেকে আমরা যত দূরেই যাইনা কেন, আবার এখানেই ফিরে আসি! এটাই টেকনোলোজির কাজ। টেকনোলোজির লক্ষ্য হলো, আমরা যেন স্থায়ীভাবে অনুভূতির সাগরে ডুবে থাকি! এই অনুভূতি হতে পারে ভালোবাসা, তিরস্কার, গুরুত্ব কিংবা নিন্দা, কোনো সমস্যা নেই। মূল বিষয় হলো, অনুভূতি জেগে থাকা! একটি ফেইসবুক ফটো, কিংবা ইন্টারেক্টিভ পোস্ট, একজন মানুষের মনোযোগ ও চোখ টেনে ধরে রাখে! প্রতিক্রিয়া দেখতে তার হৃদয় অপেক্ষমাণ থাকে।
ডিভাইস থেকে দু-চোখ সরে না!’
যেমনটি মাইকেল ল্যাক্রো বলতে চেয়েছেন, অনুভূতির প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার কারণে শুধু আত্মসচেতনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং এর কারণে মানুষের ভেতরকার সম্পর্কগুলোও নড়বড়ে হয়ে যায়! বর্তমানে এর সবচেয়ে ভয়ানক ফল হলো বিবাহবিচ্ছেদ! বিয়ের সম্পর্কে বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবহেলিত হয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত অনুভূতি হয়ে উঠেছে চরম পূজনীয়!
( কৃতজ্ঞ =বই পর্যালোচনা,সাজ্জাদ হোসাইন , বইয়ের নামঃ ডিপ্রেশন, লেখকঃ ড. ইসমাইল আরাফাহ)

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪
ডিপ্রেশন ড. ইসমাইল আরাফাহ বুক রিভিউ[/caption]
আমাদের জগৎ যেসব আবেগ-অনুভূতি দিয়ে পূর্ণ, ল্যাক্রো সেদিকে গুরুত্ব প্রদান করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন কোম্পানির প্রচারণা বিভাগ ও এডভার্টাইজিং সাইটগুলো আমাদের অবসর যাপনের ওপর প্রভাব ফেলতে আমাদেরই আবেগকে পুঁজি করে! তারা আমাদের ভয়, আতঙ্ক, দুঃখ, ক্রোধ ও হাসি-আনন্দকে একটি মজার খেলা হিসেবে গ্রহণ করে!
সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্ক্সবাদী তারকার পতনের সাথেই শ্রেণি সংগ্রামের (Class conflict) ধারণার পতন হয়। আরব অঞ্চলে পরিবর্তনের জোয়ার ব্যর্থ হওয়ার পর আরব যুবকরা পরিবর্তন ও আন্দোলনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বিশ্বজগৎ যুবকদের আধিপত্যের সামনে নতি স্বীকার করতে অস্বীকার করে এবং সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক, সকল ক্ষেত্রেই পরাজয়ের পতাকা তাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়।
কিন্তু আশার কথা হলো, ল্যাক্রো আমাদের বলেন, ‘আমরা এখনো এমন স্থানে রয়েছি, যেখানে আমরা অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে পারব! যেভাবে মানুষ বাস্তব জগৎ থেকে পালিয়ে মাদক-জগতে চলে যায়, আমরাও সেভাবে ইমোশনাল এডভেঞ্চার কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নেশার দুনিয়ায় চলে যাই!’
এই কারণে আধুনিক মানুষগুলো অনুভূতির পূজা করতে শুরু করেছে। তারা আবেগকে বানিয়ে নিয়েছে সকল গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দু। তাদের গবেষণার বিষয় হয়ে উঠেছে অনুভূতি! কারণ আবেগ-অনুভূতি আত্মপূজায় নিমগ্ন একটি পূর্ণ জীবনের আদর্শকে রিপ্রেজেন্ট করে। তাই ব্যক্তিস্বাধীনতার চাবিকাঠির মতো এটিও তাদের আকর্ষণের মূল ফোকাস টেনে নিয়েছে।
ল্যাক্রো বলেছেন, ‘মানুষের প্রতিদিনকার ভাষা নিশ্চুপ অনুভূতিগুলোর চেয়ে বেশি আবেগময়। আমরা বর্তমানে অতিরঞ্জন করতে ভালোবাসি। বিনোদন, সংবাদ এবং বিজ্ঞাপনের শব্দগুলো আমাদের মানসিক অনুভূতিকে প্রচণ্ডভাবে উসকে দেয়। ঘুরেফিরে কয়েকটি শব্দ ও বাক্যেই তাদের মূল ফোকাস থাকে, ‘ইমোশনাল অভিযোগ, এটি একটি দুর্দান্ত গল্প, শিহরণ নিশ্চিত, দিস উইল শক ইউ, ইত্যাদি।’ সবগুলোই উত্তেজনাপূর্ণ শব্দ এবং উত্তেজনার অনুভূতির দ্বারাই এগুলো সিলেক্ট করা হয়েছে।’
ল্যাক্রো ইঙ্গিত করেছেন, এই ধরনের শব্দ ও বাক্যের ব্যবহার আমাদের চিন্তার ক্ষমতা ও দীর্ঘ সময় ধরে আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কেড়ে নেয়। কারণ, আমরা সর্বদা আরও বেশি উত্তেজনা ও আরও বেশি ক্রোধের তালাশে থাকি! অপরদিকে শান্ত মেজাজের চিন্তা ও স্থিতিশীল ভাবনার বিরুদ্ধাচরণ করি!
আমাদের স্বাভাবিক জীবন ও সংস্কৃতির দিকেই দেখুন না! তাড়াহুড়ো প্রবণতা, অস্থিরতা, শকিং ইফেক্টস, ধ্বংসাত্মক ভিডিও গেইমস, জমকালো কনসার্ট ও ফ্যাশন শো, ভয়ানক রেইস, উচ্ছৃঙ্খল জিম সেন্টার, লাগামহীন কার্যকলাপ, পাগলামিপূর্ণ অ্যাডভেঞ্চার, সহিংসতা, ক্ষণজন্মা ও ক্ষণজীবী চেতনা ইত্যাদি আমাদের স্বাভাবিক জীবনের সাথে মিশে গিয়েছে! এই যে আমরা নিরবচ্ছিন্ন ছুটে চলছি অনুভূতির পেছনে, বলুন তো, কীভাবে আমাদের মানসিক স্থিতিশীলতা আসবে?
এই উত্তেজনা ও অনুভূতির ধারণা সম্পর্কে সৌদি গবেষক বদর আল-সাওয়ি চমৎকার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘কিছুদিন আগে “একঘেয়েমির প্রতারণা” সম্পর্কে আমি এক বন্ধুকে পত্র লিখেছিলাম। একঘেয়েমি মূলত একটি নেয়ামত। কিন্তু না জানার কারণে আমরা আমাদের অনুভূতির জন্য অধিক পরিমাণে উত্তেজনা তালাশ করি। এই একঘেয়েমিই ধোঁকায় ফেলে আমাদের নিয়ে আসে কফিশপে! আমরা এখানে একঘেয়েমি কাটাতে আসি!
এই অনুভূতি ও উত্তেজনা থেকে আমরা যত দূরেই যাইনা কেন, আবার এখানেই ফিরে আসি! এটাই টেকনোলোজির কাজ। টেকনোলোজির লক্ষ্য হলো, আমরা যেন স্থায়ীভাবে অনুভূতির সাগরে ডুবে থাকি! এই অনুভূতি হতে পারে ভালোবাসা, তিরস্কার, গুরুত্ব কিংবা নিন্দা, কোনো সমস্যা নেই। মূল বিষয় হলো, অনুভূতি জেগে থাকা! একটি ফেইসবুক ফটো, কিংবা ইন্টারেক্টিভ পোস্ট, একজন মানুষের মনোযোগ ও চোখ টেনে ধরে রাখে! প্রতিক্রিয়া দেখতে তার হৃদয় অপেক্ষমাণ থাকে।
ডিভাইস থেকে দু-চোখ সরে না!’
যেমনটি মাইকেল ল্যাক্রো বলতে চেয়েছেন, অনুভূতির প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার কারণে শুধু আত্মসচেতনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং এর কারণে মানুষের ভেতরকার সম্পর্কগুলোও নড়বড়ে হয়ে যায়! বর্তমানে এর সবচেয়ে ভয়ানক ফল হলো বিবাহবিচ্ছেদ! বিয়ের সম্পর্কে বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবহেলিত হয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত অনুভূতি হয়ে উঠেছে চরম পূজনীয়!
( কৃতজ্ঞ =বই পর্যালোচনা,সাজ্জাদ হোসাইন , বইয়ের নামঃ ডিপ্রেশন, লেখকঃ ড. ইসমাইল আরাফাহ)

আপনার মতামত লিখুন