টেক তরঙ্গ

বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে, বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আমাদের করণীয়

বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে, বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আমাদের করণীয়
বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে বাংলাদেশের ঐতিহ্য রক্ষার্থে এই নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ঢাকা নগরী ১৯১০ সালে বুড়িগঙ্গার তীরে গড়ে ওঠে, বুড়িগঙ্গা নদী বাংলাদেশের ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক নদী। বুড়িগঙ্গার পানি এখন কালো, দুর্গন্ধময় এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। প্রশ্ন হলো, কীভাবে এই নদী এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়লো? এই লেখায় বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে থাকা কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হবে এবং এর সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হবে।

বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে মুঘল আমলে ঢাকার বিকাশ শুরু হয়। নদী একটি দেশের প্রাণস্বরূপ। সভ্যতার সূচনা থেকে নদী মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।  এটি ধলেশ্বরী নদীর একটি শাখা হিসেবে জন্ম নিয়েছিল এবং পরে ঢাকার শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। এই নদীটি প্রাচীনকালে ঢাকার বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে বুড়িগঙ্গা নদী ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। একসময় এই নদী ছিল স্বচ্ছ, প্রাণবন্ত ও বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু আজ এই নদী তার সেই গৌরব হারিয়ে ফেলেছে।

জনপ্রিয় এই বুড়িগঙ্গা টিভি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ' বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে ' সম্পর্কে অল্প কথায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে পুরনো ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে আমাদের এই ওয়েবসাইটে রয়েছে তথ্যবহুল পর্যালোচনা, শিক্ষার্থীসহ নানা পেশা মানুষদের গবেষণাধর্মী লেখাগুলো প্রকাশিত করা হয়।
বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণের মূল কারণ
বুড়িগঙ্গার দূষণের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো শিল্পবর্জ্য, নগর বর্জ্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী দখল এবং জনসচেতনতার অভাব। ১. শিল্পবর্জ্যের অবাধ নিঃসরণ ঢাকার চারপাশে অসংখ্য ট্যানারি, গার্মেন্টস, ডাইং ফ্যাক্টরি, কেমিক্যাল ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অধিকাংশ কারখানার বর্জ্য পরিশোধন ছাড়াই সরাসরি বুড়িগঙ্গায় ফেলা হয়।
  • "প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার রাসায়নিক বর্জ্য বুড়িগঙ্গার জলে মিশে নদীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।"
  •  "শিল্পের বিকাশ অর্থনীতির জন্য ভালো, কিন্তু যদি তা পরিবেশ ধ্বংসের কারণ হয়, তবে তা ধ্বংসের শামিল।"
২. নগর বর্জ্য ও পলিথিনের দৌরাত্ম্য ঢাকা মহানগরীর বিশাল জনগোষ্ঠীর বর্জ্য নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও মার্কেটের বর্জ্য সরাসরি বুড়িগঙ্গায় ফেলা হয়। প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্যের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
  •  "নদীর পানির স্বচ্ছতা হারানোর মূল কারণ নগরবাসীর অসচেতনতা ও অব্যবস্থাপনা।"
  •  "একসময় যেখানে ছিল নৌকার সারি, আজ সেখানে পলিথিনের স্তূপ।"
৩. নদী দখল ও অবৈধ স্থাপনা নদীর দুই তীর জুড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। শিল্পপতি, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুরা নদীর বড় অংশ দখল করে বিভিন্ন নির্মাণকাজ চালাচ্ছে। এতে নদীর প্রশস্ততা কমে যাচ্ছে, পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দূষণ আরও বাড়ছে।
  •  "যে নদী একদিন ঢাকার প্রাণ ছিল, আজ তার বুক চেপে ধরে গড়ে উঠছে কংক্রিটের শহর।"
  •  "নদীর ভূমি রক্ষায় আইন থাকলেও, তা কার্যকর না হওয়ায় বুড়িগঙ্গা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।"
৪. অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ঢাকার অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে শহরের ড্রেন ও নর্দমার ময়লা সরাসরি বুড়িগঙ্গায় পড়ে। এতে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয় এবং নদী ক্রমশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
  • "নগর উন্নয়ন হওয়া উচিত পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, নদীর ক্ষতি করে নয়।"
  •  "বুড়িগঙ্গার জল দূষিত হতে হতে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এটি আর জীবনের প্রতীক নয়, বরং মৃত্যুর বার্তা বহন করে।"
[caption id="attachment_7011" align="alignnone" width="768"]বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে, বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আমাদের করণীয় বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে, বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আমাদের করণীয়[/caption]
বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আমাদের করণীয়
বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে হলে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। নদী রক্ষার জন্য আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। ১. কঠোর আইন প্রয়োগ ও শিল্পবর্জ্যের নিয়ন্ত্রণ সরকারকে কঠোরভাবে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন প্রয়োগ করতে হবে। শিল্পকারখানাগুলোর জন্য আধুনিক বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা (Effluent Treatment Plant - ETP) বাধ্যতামূলক করতে হবে।
  •  "শিল্পায়ন দরকার, কিন্তু পরিবেশ ধ্বংস করে নয়। আইন থাকলেই হবে না, সেটি কার্যকর করতে হবে।"
২. অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নদী পুনরুদ্ধার যারা নদীর জমি দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে।
  •  "নদী কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি প্রকৃতির দান। যারা দখল করেছে, তাদের শাস্তি পেতে হবে।"
৩. জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি নদী রক্ষায় জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে।
  • একটি জাতি তখনই উন্নত হয়, যখন তারা প্রকৃতিকে ভালোবাসে ও রক্ষা করে।"
৪. বিকল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও পরিকল্পিত করতে হবে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করা, কম্পোস্টিং এবং রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে।
  •  "বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলে পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ রক্ষা করতে পারি।"
আমরা যদি এখনই বুড়িগঙ্গাকে রক্ষায় পদক্ষেপ না নিই, তাহলে এটি একদিন শুধুই ইতিহাস হয়ে যাবে। তাই আমাদের উচিত সচেতন হওয়া, সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য করা এবং ব্যক্তিগত পর্যায়েও নদী সংরক্ষণে উদ্যোগী হওয়া।
  •  "যদি বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে চাই, তাহলে আমাদের নিজেদের অভ্যাস বদলাতে হবে। নদীকে ভালোবাসতে হবে, তার প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।"
  •  "প্রকৃতি আমাদের দিয়েছে অমূল্য উপহার, কিন্তু আমরা যদি তা রক্ষা না করি, তবে একদিন আমরা নিজেরাই ধ্বংস হব। বুড়িগঙ্গা বাঁচলে, ঢাকা বাঁচবে, আমরা বাঁচবো।"
বুড়িগঙ্গা শুধু একটি নদী নয়, এটি ঢাকার অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। একসময় এর বুকে নৌকা চলত, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র ছিল, মানুষের জীবন-জীবিকার অংশ ছিল। আজ সেই নদী মুমূর্ষু। দূষণের কবলে পড়ে বুড়িগঙ্গা তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও প্রাণশক্তি হারাচ্ছে।

শেষ কথা

বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে এই বিষয় সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী, বুড়িগঙ্গা নদী বর্তমানে দূষণের কারণে সংকটে পড়েছে। শহরের বর্জ্য, শিল্প কারখানার বর্জ্য এবং পলিথিন দূষণের প্রধান কারণ। তবুও, এই নদী ঢাকার মানুষদের জন্য একটি ঐতিহ্যের প্রতীক,নদীটিকে দূষণমুক্ত করার জন্য সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি পুনরুজ্জীবিত হয়ে আবারও ঢাকার অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে, বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আমাদের করণীয়
0:00 0:00
1.0x
টেক তরঙ্গ

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬


বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে, বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আমাদের করণীয়

প্রকাশের তারিখ : ২০ মার্চ ২০২৫

featured Image
বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে বাংলাদেশের ঐতিহ্য রক্ষার্থে এই নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ঢাকা নগরী ১৯১০ সালে বুড়িগঙ্গার তীরে গড়ে ওঠে, বুড়িগঙ্গা নদী বাংলাদেশের ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক নদী। বুড়িগঙ্গার পানি এখন কালো, দুর্গন্ধময় এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। প্রশ্ন হলো, কীভাবে এই নদী এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়লো? এই লেখায় বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে থাকা কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হবে এবং এর সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হবে।

বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে মুঘল আমলে ঢাকার বিকাশ শুরু হয়। নদী একটি দেশের প্রাণস্বরূপ। সভ্যতার সূচনা থেকে নদী মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।  এটি ধলেশ্বরী নদীর একটি শাখা হিসেবে জন্ম নিয়েছিল এবং পরে ঢাকার শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। এই নদীটি প্রাচীনকালে ঢাকার বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে বুড়িগঙ্গা নদী ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। একসময় এই নদী ছিল স্বচ্ছ, প্রাণবন্ত ও বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু আজ এই নদী তার সেই গৌরব হারিয়ে ফেলেছে।

জনপ্রিয় এই বুড়িগঙ্গা টিভি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ' বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে ' সম্পর্কে অল্প কথায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে পুরনো ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে আমাদের এই ওয়েবসাইটে রয়েছে তথ্যবহুল পর্যালোচনা, শিক্ষার্থীসহ নানা পেশা মানুষদের গবেষণাধর্মী লেখাগুলো প্রকাশিত করা হয়।
বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণের মূল কারণ
বুড়িগঙ্গার দূষণের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো শিল্পবর্জ্য, নগর বর্জ্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী দখল এবং জনসচেতনতার অভাব। ১. শিল্পবর্জ্যের অবাধ নিঃসরণ ঢাকার চারপাশে অসংখ্য ট্যানারি, গার্মেন্টস, ডাইং ফ্যাক্টরি, কেমিক্যাল ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অধিকাংশ কারখানার বর্জ্য পরিশোধন ছাড়াই সরাসরি বুড়িগঙ্গায় ফেলা হয়।
  • "প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার রাসায়নিক বর্জ্য বুড়িগঙ্গার জলে মিশে নদীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।"
  •  "শিল্পের বিকাশ অর্থনীতির জন্য ভালো, কিন্তু যদি তা পরিবেশ ধ্বংসের কারণ হয়, তবে তা ধ্বংসের শামিল।"
২. নগর বর্জ্য ও পলিথিনের দৌরাত্ম্য ঢাকা মহানগরীর বিশাল জনগোষ্ঠীর বর্জ্য নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও মার্কেটের বর্জ্য সরাসরি বুড়িগঙ্গায় ফেলা হয়। প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্যের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
  •  "নদীর পানির স্বচ্ছতা হারানোর মূল কারণ নগরবাসীর অসচেতনতা ও অব্যবস্থাপনা।"
  •  "একসময় যেখানে ছিল নৌকার সারি, আজ সেখানে পলিথিনের স্তূপ।"
৩. নদী দখল ও অবৈধ স্থাপনা নদীর দুই তীর জুড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। শিল্পপতি, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুরা নদীর বড় অংশ দখল করে বিভিন্ন নির্মাণকাজ চালাচ্ছে। এতে নদীর প্রশস্ততা কমে যাচ্ছে, পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দূষণ আরও বাড়ছে।
  •  "যে নদী একদিন ঢাকার প্রাণ ছিল, আজ তার বুক চেপে ধরে গড়ে উঠছে কংক্রিটের শহর।"
  •  "নদীর ভূমি রক্ষায় আইন থাকলেও, তা কার্যকর না হওয়ায় বুড়িগঙ্গা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।"
৪. অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ঢাকার অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে শহরের ড্রেন ও নর্দমার ময়লা সরাসরি বুড়িগঙ্গায় পড়ে। এতে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয় এবং নদী ক্রমশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
  • "নগর উন্নয়ন হওয়া উচিত পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, নদীর ক্ষতি করে নয়।"
  •  "বুড়িগঙ্গার জল দূষিত হতে হতে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এটি আর জীবনের প্রতীক নয়, বরং মৃত্যুর বার্তা বহন করে।"
[caption id="attachment_7011" align="alignnone" width="768"]বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে, বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আমাদের করণীয় বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে, বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আমাদের করণীয়[/caption]
বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আমাদের করণীয়
বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে হলে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। নদী রক্ষার জন্য আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। ১. কঠোর আইন প্রয়োগ ও শিল্পবর্জ্যের নিয়ন্ত্রণ সরকারকে কঠোরভাবে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন প্রয়োগ করতে হবে। শিল্পকারখানাগুলোর জন্য আধুনিক বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা (Effluent Treatment Plant - ETP) বাধ্যতামূলক করতে হবে।
  •  "শিল্পায়ন দরকার, কিন্তু পরিবেশ ধ্বংস করে নয়। আইন থাকলেই হবে না, সেটি কার্যকর করতে হবে।"
২. অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নদী পুনরুদ্ধার যারা নদীর জমি দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে।
  •  "নদী কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি প্রকৃতির দান। যারা দখল করেছে, তাদের শাস্তি পেতে হবে।"
৩. জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি নদী রক্ষায় জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে।
  • একটি জাতি তখনই উন্নত হয়, যখন তারা প্রকৃতিকে ভালোবাসে ও রক্ষা করে।"
৪. বিকল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও পরিকল্পিত করতে হবে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করা, কম্পোস্টিং এবং রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে।
  •  "বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলে পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ রক্ষা করতে পারি।"
আমরা যদি এখনই বুড়িগঙ্গাকে রক্ষায় পদক্ষেপ না নিই, তাহলে এটি একদিন শুধুই ইতিহাস হয়ে যাবে। তাই আমাদের উচিত সচেতন হওয়া, সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য করা এবং ব্যক্তিগত পর্যায়েও নদী সংরক্ষণে উদ্যোগী হওয়া।
  •  "যদি বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে চাই, তাহলে আমাদের নিজেদের অভ্যাস বদলাতে হবে। নদীকে ভালোবাসতে হবে, তার প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।"
  •  "প্রকৃতি আমাদের দিয়েছে অমূল্য উপহার, কিন্তু আমরা যদি তা রক্ষা না করি, তবে একদিন আমরা নিজেরাই ধ্বংস হব। বুড়িগঙ্গা বাঁচলে, ঢাকা বাঁচবে, আমরা বাঁচবো।"
বুড়িগঙ্গা শুধু একটি নদী নয়, এটি ঢাকার অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। একসময় এর বুকে নৌকা চলত, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র ছিল, মানুষের জীবন-জীবিকার অংশ ছিল। আজ সেই নদী মুমূর্ষু। দূষণের কবলে পড়ে বুড়িগঙ্গা তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও প্রাণশক্তি হারাচ্ছে।

শেষ কথা

বুড়িগঙ্গা দূষণের নেপথ্যে এই বিষয় সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী, বুড়িগঙ্গা নদী বর্তমানে দূষণের কারণে সংকটে পড়েছে। শহরের বর্জ্য, শিল্প কারখানার বর্জ্য এবং পলিথিন দূষণের প্রধান কারণ। তবুও, এই নদী ঢাকার মানুষদের জন্য একটি ঐতিহ্যের প্রতীক,নদীটিকে দূষণমুক্ত করার জন্য সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি পুনরুজ্জীবিত হয়ে আবারও ঢাকার অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।

টেক তরঙ্গ

সম্পাদক: সন্তোষ শর্মা । প্রকাশক: মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু । বিভাগীয় প্রধান (অনলাইন): পলাশ মাহমুদ


কপিরাইট © ২০২৬ টেক তরঙ্গ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত