ঢাকা    শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

সাগরদাঁড়ি পর্যটন কেন্দ্রের মূল ফটক এখন কাঠের আড়ৎ, নষ্ট হচ্ছে নান্দনিকতা



সাগরদাঁড়ি পর্যটন কেন্দ্রের মূল ফটক এখন কাঠের আড়ৎ, নষ্ট হচ্ছে নান্দনিকতা
পর্যটন কেন্দ্রের মূল ফটক জুড়ে কাঠের আড়ৎ


যশোরের কেশবপুর উপজেলার মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমি সাগরদাঁড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সাগরদাঁড়ি পর্যটন কেন্দ্রের মূল ফটক এখন যেন কাঠের আড়তে পরিণত হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রের প্রধান গেটের দুই পাশে কাঠের স্তূপ করে রাখায় দূর থেকে এটি পর্যটন কেন্দ্র না হয়ে একটি কাঠ ব্যবসায়ীর গুদাম বলেই মনে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটন কেন্দ্রের কেয়ারটেকার বাবর আলী ব্যক্তিগত কাঠের ব্যবসার কাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ফটকের দুই পাশ ব্যবহার করছেন। এছাড়া কাটাতারের বেড়া আগাছায় ঢেকে গেছে, ভবনের বাইরের অংশও অপরিচ্ছন্ন ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে কেন্দ্রটির সৌন্দর্য ও আকর্ষণ অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের দেয়ালের রং বহুদিন ধরে নবায়ন করা হয়নি। বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার খসে পড়ছে। ভেতরের কক্ষগুলোর অবস্থাও বেহাল। পর্যটন কেন্দ্রের ডাইনিং ও রেস্টুরেন্ট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। অনেক দরজা-জানালা নষ্ট হয়ে গেছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও প্রায় অচল।

পর্যটন কেন্দ্রের ম্যানেজার (ইনচার্জ) হারুন অর রশীদ জানান, তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এখানে যোগদান করেছেন। গত পাঁচ মাসে মাত্র তিনজন পর্যটক কেন্দ্রটিতে অবস্থান করেছেন। তাঁর ভাষ্য, পর্যটকের অভাবে কেন্দ্রটি দিন দিন লোকসানের মুখে পড়ছে। কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেয়ারটেকার বাবর আলী পর্যটন কেন্দ্রের পুকুরে মাছ চাষ, আঙিনায় হলুদ চাষ এবং কেন্দ্রের নারিকেল, ডাব ও কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এছাড়া উত্তর ও পূর্ব পাশের সীমানা ঘেঁষে মাছ, ফল, পান-সুপারি ও বিভিন্ন দোকান বসে যাওয়ায় মূল ভবনটি প্রায় আড়াল হয়ে গেছে।

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটন কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে রাখা কাঠ ছাঁটাইয়ের কাজ চলছিল। এ সময় ম্যানেজার ইনচার্জ উপস্থিত থাকলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পর্যটন কেন্দ্রের ভেতর ও আশপাশে কাঠ সংরক্ষণ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ফলে ধুলাবালি, কাঠের বর্জ্য ও যানবাহনের চলাচল বেড়ে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। একই সঙ্গে পর্যটন এলাকার নান্দনিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক দর্শনার্থী পরিচ্ছন্ন পরিবেশের প্রত্যাশায় এসে কাঠের স্তূপ দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে সাগরদাঁড়ি পর্যটন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন।

বুড়িগঙ্গা

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬


সাগরদাঁড়ি পর্যটন কেন্দ্রের মূল ফটক এখন কাঠের আড়ৎ, নষ্ট হচ্ছে নান্দনিকতা

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

featured Image


যশোরের কেশবপুর উপজেলার মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমি সাগরদাঁড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সাগরদাঁড়ি পর্যটন কেন্দ্রের মূল ফটক এখন যেন কাঠের আড়তে পরিণত হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রের প্রধান গেটের দুই পাশে কাঠের স্তূপ করে রাখায় দূর থেকে এটি পর্যটন কেন্দ্র না হয়ে একটি কাঠ ব্যবসায়ীর গুদাম বলেই মনে হয়।


স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটন কেন্দ্রের কেয়ারটেকার বাবর আলী ব্যক্তিগত কাঠের ব্যবসার কাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ফটকের দুই পাশ ব্যবহার করছেন। এছাড়া কাটাতারের বেড়া আগাছায় ঢেকে গেছে, ভবনের বাইরের অংশও অপরিচ্ছন্ন ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে কেন্দ্রটির সৌন্দর্য ও আকর্ষণ অনেকটাই হারিয়ে গেছে।


সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের দেয়ালের রং বহুদিন ধরে নবায়ন করা হয়নি। বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার খসে পড়ছে। ভেতরের কক্ষগুলোর অবস্থাও বেহাল। পর্যটন কেন্দ্রের ডাইনিং ও রেস্টুরেন্ট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। অনেক দরজা-জানালা নষ্ট হয়ে গেছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও প্রায় অচল।


পর্যটন কেন্দ্রের ম্যানেজার (ইনচার্জ) হারুন অর রশীদ জানান, তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এখানে যোগদান করেছেন। গত পাঁচ মাসে মাত্র তিনজন পর্যটক কেন্দ্রটিতে অবস্থান করেছেন। তাঁর ভাষ্য, পর্যটকের অভাবে কেন্দ্রটি দিন দিন লোকসানের মুখে পড়ছে। কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


স্থানীয়দের অভিযোগ, কেয়ারটেকার বাবর আলী পর্যটন কেন্দ্রের পুকুরে মাছ চাষ, আঙিনায় হলুদ চাষ এবং কেন্দ্রের নারিকেল, ডাব ও কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এছাড়া উত্তর ও পূর্ব পাশের সীমানা ঘেঁষে মাছ, ফল, পান-সুপারি ও বিভিন্ন দোকান বসে যাওয়ায় মূল ভবনটি প্রায় আড়াল হয়ে গেছে।


বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটন কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে রাখা কাঠ ছাঁটাইয়ের কাজ চলছিল। এ সময় ম্যানেজার ইনচার্জ উপস্থিত থাকলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।


স্থানীয়দের ভাষ্য, পর্যটন কেন্দ্রের ভেতর ও আশপাশে কাঠ সংরক্ষণ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ফলে ধুলাবালি, কাঠের বর্জ্য ও যানবাহনের চলাচল বেড়ে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। একই সঙ্গে পর্যটন এলাকার নান্দনিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক দর্শনার্থী পরিচ্ছন্ন পরিবেশের প্রত্যাশায় এসে কাঠের স্তূপ দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।


উল্লেখ্য, তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে সাগরদাঁড়ি পর্যটন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
সাগরদাঁড়ি পর্যটন কেন্দ্রের মূল ফটক এখন কাঠের আড়ৎ, নষ্ট হচ্ছে নান্দনিকতা
0:00 0:00
1.0x