সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নদীভাঙন এলাকায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। যমুনা নদীর ভয়াবহ ও তীব্র ভাঙনে বসতভিটাসহ সর্বস্ব হারানো শতবর্ষী বৃদ্ধা রহিতন নেছার প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন।
জানা যায়,সম্প্রতি যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যায় উপজেলার দূরবর্তী সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের শতবর্ষী রহিতন নেছার শেষ সম্বল ও বসতবাড়ি। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে তিনি যখন চরম অনিশ্চয়তা ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন,ঠিক তখনই খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছে যায় উপজেলা প্রশাসন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন শতবর্ষী রহিতন নেছার সার্বিক শারীরিক ও পারিবারিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এই সময়ে তিনি বৃদ্ধার হাতে সমাজসেবা বিভাগের আওতায় সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বয়স্ক ভাতাকার্ড, তাৎক্ষণিক জরুরি প্রয়োজন মেটাতে নগদ অর্থ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। একই সাথে পরবর্তীতে তাঁর পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস ও দিয়েছেন।
সহায়তা প্রদানকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেছেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট অত্যন্ত কষ্টদায়ক। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও অসহায় মানুষের এমন দুরবস্থায় প্রশাসন নীরব থাকতে পারে না। রহিতন নেছাকে দেওয়া এই সহায়তা তাঁর মৌলিক চাহিদা পূরণে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলোর প্রকৃত দুস্থদের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে সকল প্রকার সরকারি সাহায্য পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
মানবিক এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনাকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল মামুনসহ স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন,দুর্গম চরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর পাশে এই ভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে। এই সহায়তা প্রদানকালে শতবর্ষী রহিতন নেছা শেষ জীবনে এসে সরকারি সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সারমিনের জন্য প্রাণভরে দোয়া করেছেন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।