ভারী বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, তলিয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং ভেসে গেছে অসংখ্য পুকুরের মাছ।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে কলমাকান্দা উপজেলার খারনই, রংছাতি ও লেঙ্গুরা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, মহাদেও, গণেশ্বরী ও মংলেশ্বরী নদী দিয়ে প্রবল বেগে পাহাড়ি ঢলের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। খারনই ইউনিয়ন থেকে উপজেলা সদরে যাওয়ার প্রধান সড়কের অন্তত ২০টি স্থান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। নেতাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকায় পুকুরের পাড় তলিয়ে গিয়ে মাছ ভেসে যাওয়ায় খামারিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
খারনই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক বলেন, গভীর রাত থেকে নদী-নালা দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। বাড়িঘর ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন রংছাতি ও লেঙ্গুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরাও।
দুর্গাপুরের গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, নেতাই নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দিনের মধ্যেই আরও বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাখওয়াত হোসেন জানান, অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কলমাকান্দার উবদাখালী নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নেতাই নদীর পানিও বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্গাপুরের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
কলমাকান্দার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামসুজ্জামান আসিফ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে প্রশাসনের টিম কাজ করছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে।