নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা ও ভোটারদের হিসাব-নিকাশ। বিশেষ করে বিরিশিরি ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক আদিবাসী ভোটারদের মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আনোয়ার হোসেন খানকে নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
বিরিশিরি ইউনিয়নে গারো, খ্রিস্টান, হিন্দু, ক্যাথলিক ও মুসলিমসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রায় ১৮ হাজার ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ভোটার আদিবাসী সম্প্রদায়ের।
স্থানীয় কয়েকজন ভোটারের ভাষ্য, এসব ভোটারের বড় একটি অংশ আনোয়ার হোসেন খানকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে আগ্রহী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং মানুষের পাশে থাকার কারণে আনোয়ার হোসেন খান বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেছেন।
বিশেষ করে গারো সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে তিনি গারো ভাষায় কথা বলায় তাদের মধ্যে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁর সমর্থকদের।
বড়দিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজনে তিনি স্থানীয় খ্রিস্টান ও গারো সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে থাকেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ কারণে সম্প্রদায়ভেদে তার সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে বলে মনে করছেন।
আনোয়ার হোসেন খান এর আগে তিনবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলেন ।
তার সমর্থকদের দাবি, দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তি হিসেবে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করায় এবারও তিনি ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন। বিশেষ করে হিন্দু ও গারো সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
বিরিশিরি ইউনিয়নের সাগরদিঘি গ্রামের আদিবাসী নেতা এন্ডু মিথুন রেমা ও জেমস রাংসা বলেন, “আনোয়ার হোসেন খান দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পাশে থেকেছেন। আমাদের ভাষায় কথা বলেন, আমাদের সমস্যার কথা শুনেন। এ কারণে আদিবাসী মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতি আলাদা আস্থা তৈরি হয়েছে।”
তেলুঞ্জিয়া গ্রামের সুজন সাংমা ও পলিশন সাংমা বলেন, “চেয়ারম্যান হিসেবে আমরা এমন একজনকে চাই, যিনি ইউনিয়নের সব মানুষের কথা শুনবেন। আনোয়ার হোসেন খান দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তাই তাঁকে নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে।”
স্বল্পকরুনিয়া গ্রামের এভট রাংসা বলেন, “তিনি শুধু নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে আসেন—এমন নয়। বিভিন্ন সময় মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। এ কারণেই তাঁর প্রতি আমাদের আলাদা প্রত্যাশা রয়েছে।”
গোহালিদেও এলাকার নুন রাংসা ও পিলিমন চাম্বুগং বলেন, “গারোসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমরা চাই, ইউনিয়ন পরিষদে এমন নেতৃত্ব আসুক, যে সবার জন্য সমানভাবে কাজ করবে।”
বারইপাড়া গ্রামের সলিল রাংসা ও মলিন মান্দা বলেন, “বিরিশিরিতে অনেক জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। সবার সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে পারেন—এমন প্রার্থীই আমাদের প্রয়োজন। আনোয়ার হোসেন খানের মধ্যে আমরা সেই গুণ দেখতে পাই।”
হারিয়াউন্দ গ্রামের মলয় রাংসা ও বিশখা রাংসার ভাষ্য, “আনোয়ার হোসেন খান মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশতে পারেন। বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। তাই তাঁকে নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা আছে।”
ভুলিগাঁও গ্রামের পলিন মাস্টার ও অমর রাংসা বলেন, “দল-মতের বাইরে গিয়ে ইউনিয়নের মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা থাকলে একজন চেয়ারম্যান সবার আস্থা অর্জন করতে পারেন। আনোয়ার হোসেন খানের মধ্যে আমরা সেই সম্ভাবনা দেখি।”
বনগাঁও গ্রামের দিপক রাংসা ও কাজল মারাক জানান, “আমরা চাই, ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকার মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন করা হোক। আনোয়ার হোসেন খান দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাই তাঁর প্রতি আমাদের প্রত্যাশা রয়েছে।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিরিশিরি ইউনিয়নে এবার ভোটের হিসাব শুধু দলীয় সমীকরণে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক, অতীতের কর্মকাণ্ড এবং ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কে কতটা জনপ্রিয়, তা নির্ধারণ হবে ভোটারদের সিদ্ধান্তেই। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থিতা, দলীয় সমর্থন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং ভোটারদের চূড়ান্ত মনোভাবের ওপরই বিরিশিরি ইউনিয়নের নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে।
বিরিশিরি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আশা প্রকাশ করে তিন বারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপির তুখোড় নেতা আনোয়ার হোসেন খান বলেন,আমি একজন মানুষ হিসেবে সবার সাথে সখ্যতা নিয়ে চলতে পছন্দ করি। কারো সাথে বৈরিতা ও বিমাতাসূলভ আচরণ একান্ত কাম্য নয়। এজন্য দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের একটি আস্তার জায়গা তৈরি করতে পেরেছি বলেই অনেকে আমার কাছে আসেন। আমি আমার আস্তার জায়গাটা ধরে রাখতে চাই। দোয়া চাই।