ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তঘেঁষা হরিপুর উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য আবারও সামনে এনেছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার করুণ বাস্তবতা। মৃত মাকে শেষ বিদায় জানাতে স্বজনদের বুকসমান পানি ভেঙে খাটিয়ায় করে নিয়ে যেতে হয়েছে জানাজার মাঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও মুহূর্তেই আলোড়ন তোলে জেলাজুড়ে।
জানা যায়, উপজেলার ফালডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী মফিজান বিবি বৃহস্পতিবার ভোরে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। বিকেলে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বকুয়া ইউনিয়নের রহমান হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে। কিন্তু বাড়ি থেকে জানাজার স্থানে পৌঁছাতে স্বজনদের পাড়ি দিতে হয় প্রায় আড়াই কিলোমিটার জলাবদ্ধ পথ। পথে কোথাও কোমর, কোথাও বুকসমান পানির মধ্যে দিয়েই মরদেহ বহন করতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফালডাঙ্গী-নোনা সংযোগ সড়কে এখনো কোনো স্থায়ী ব্রিজ নির্মিত হয়নি। ফলে বর্ষা এলেই সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং চলাচল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হলে প্রায় ছয় কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়, যা জরুরি পরিস্থিতিতে আরও বড় দুর্ভোগ তৈরি করে।
দোস্তমপুর, ফালডাঙ্গীসহ আশপাশের চার গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার মুখোমুখি। এলাকাবাসীর ভাষ্য, নির্বাচনের সময় নানা প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। সম্প্রতি স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে একটি কাঁচা রাস্তা তৈরি করেছিলেন, কিন্তু কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতেই সেটি পানিতে ডুবে যায়।
বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারেন না এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, আধুনিক যুগে বসবাস করলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে তারা এখনো পিছিয়ে রয়েছে।
এলাকাবাসী দ্রুত ফালডাঙ্গী-নোনা সড়কে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ এবং রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, আর কত দিন এমন কষ্টের মধ্য দিয়ে মানুষকে প্রিয়জনের মরদেহ বহন করতে হবে? ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।