গাজীপুর প্রতিনিধি
সংসার সুখের হবে—এই বুকভরা আশা নিয়ে ১০ বছর আগে মোঃ মিরাজুল ইসলাম রাসেলের (৩২) হাত ধরেছিলেন শম্পা আক্তার। তাদের ৫ বছরের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। কিন্তু স্বামীর অনলাইন জুয়ার নেশা আর শশুর বাড়ির লোভের আগুনে পুড়তে পুড়তে শেষ পর্যন্ত নিভে গেল শম্পার জীবনপ্রদীপ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্বামী মিরাজুল ইসলাম রাসেল দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়ায় হেরে তিনি বিপুল পরিমাণ ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন। এই ঋণের টাকা শোধ করার জন্য শম্পাকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে প্রতিনিয়ত চাপ দেওয়া হতো। টাকা না পেলেই স্বামী রাসেল, শম্পার ওপর চালাতেন অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এমনকি তারা শম্পাকে প্রতিনিয়ত আত্মহত্যা করার জন্য উস্কানি ও প্ররোচনা দিতেন।
ঘটনার দিন রাতেও অনলাইন জুয়া ও টাকার বিষয় নিয়ে শম্পাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে ভোর আনুমানিক ৪:৪৫ মিনিটে জামাতা রাসেল শম্পার বাবাকে ফোন করে জানায়, শম্পা ঘরের ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এখন প্রশ্ন এটাকি আত্মহত্যা না হত্যা করা হয়েছে।
সংবাদ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সফিপুর আহম্মদ নগর চৌরাস্তার ওই ভাড়া বাসায় ছুটে গিয়ে শম্পার নিথর দেহ মেঝেতে শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান। নিহতের গলায়, থুতনির নিচে এবং কানের পাশে স্পষ্ট কালচে আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
চোখের জল মুছতে মুছতে শম্পার বাবা মোঃ অহিদুজ্জামান বলেন, "ওরা আমার মেয়েটাকে বাঁচতে দিল না। নিয়মিত নির্যাতন আর অপবাদ দিয়ে আমার মেয়েটাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল। আমি এই নিষ্ঠুরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যেন আর কোনো বাবার বুক এভাবে খালি না হয়।"
কালিয়াকৈর থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের বাবার পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।