জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের সুবিধাভোগী ক্ষমতাসীন দল বিএনপি জুলাইয়ের চেতনা ভুলে গেছে।
রাজধানীর মহাখালীতে আজ শনিবার ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে’ আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের রক্তের স্মৃতি বাংলার মানুষ ভুলে নাই। কিন্তু ভুলে গেছে জুলাই বিপ্লবের সুবিধাভোগী ক্ষমতাসীন বিএনপি। তারা জুলাইয়ের চেতনা ভুলে গিয়েছে। তা না হলে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বিএনপির এমপিরা (সংসদ সদস্য) বলে, “এত বক্তৃতার দরকার কি? আননেসেসারি জুলাই বক্তৃতার দরকার নাই।” প্রধানমন্ত্রী বসে থাকেন, যে জুলাই বিপ্লব না হলে তারা মন্ত্রী-এমপি হতে পারতো না, সেই পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেন, “এত জুলাই আননেসেসারি বক্তৃতার দরকার নাই।”’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জুলাইয়ের রক্ত ব্যবহার করে যারা ক্ষমতায় গেছে, তারা জুলাইয়ের চেতনাকে ভুলতে বসেছে। তাঁর ভাষায়, ‘এই জাতির প্রতি, জনতার প্রতি, মানবতা-মানুষের প্রতি বিএনপির কোনো দরদ নাই। তারা পার্লামেন্টে এখন বলছে, সংস্কার নয়।’ তিনি বলেন, ‘তারা ভয় পায়—“সংবিধান যদি সংস্কার হয়ে যায়, তাহলে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর হাতে আর ক্ষমতা থাকবে না।” পিএসসি, সরকারি চাকরি, বিচারপতি নিয়োগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়োগের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদী হাসিনা যে ক্ষমতা দেখিয়েছে, সেই ক্ষমতাকে প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি এখন বহাল রাখতে চায়। তাই মৌলিক ব্যাপারে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে।’
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে তাঁর চারপাশের কিছু লোক গণভোটের রায় থেকে বিএনপি সরকারকে ‘পেছনে ও ফ্যাসিবাদের দিকে’ ধাবিত করছে।
বিএনপির ৩১ দফার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘বিএনপি এক দফায় বলেছে, “আমরা সংস্কার কমিশন করব।” ৩১ দফার নবম দফায় বলেছে, সমস্ত দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রের সরকারি, বিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত সমস্ত জায়গায় নিরপেক্ষভাবে যোগ্য লোককে নিয়োগ দেবে তারা। পাঁচ মাসে ক্ষমতায় এসে বিএনপি জেলা পরিষদ, করপোরেশন, বড় বড় বিধিবদ্ধ সংস্থায় সব দলীয় লোককে নিয়োগ দিচ্ছে।’ তিনি যোগ করেন, বিএনপি বলে, ‘জামায়াত মুনাফেকী করছে, বেইমানি করছে।’ এতগুলো কথা দিয়ে কথা না রেখে, জুলাইয়ের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা—এটাকে মুনাফেকী বলব না, এটাকে কি ঈমানদারী বলব আমরা?’