রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নৌকা মিছিলের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ভুয়া বলে শনাক্ত করেছে কালবেলা। ভিডিওটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবাদকর্মীদের সতর্ক করেছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ। তার বক্তব্যের পর একই দিন সংবাদটির শিরোনাম সংশোধন করে ভিডিওটিকে ভুয়া বলে উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমটি।
রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিটে কালের কণ্ঠে ‘বুড়িগঙ্গার বুকে ব্যানার টাঙিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নৌকা মিছিল’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এতে দাবি করা হয়, ওই দিন সকালে রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন। ভিডিওতে জবি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বলা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও খবর প্রকাশিত হয়।
তবে ভিডিওতে দেখানো স্থানটি বুড়িগঙ্গা নদী নয় বলে দাবি করেন জবি ছাত্রদল নেতা সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ। একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য ও ভিডিও যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ বলেন, "মিছিল কে কেন্দ্র করে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, সংবাদ কর্মীদের সচেতনভাবে সংবাদ প্রকাশ করার আহ্বান। আজকে খেয়াল করে দেখলাম অনেক সংবাদপত্র জবি ছাত্রলীগ বুড়িগঙ্গায় মিছিল করেছে এরকম নিউজ করেছে, ভিডিওটা ভালো ভাবে খেয়াল করলেই দেখা যায় এটাতো বুড়িগঙ্গা নদী নয়ই বরং কোন ছোট খাল হতে পারে। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সবাই সচেতন থাকবেন এটাই আমার প্রত্যাশা।"
পরাগের পোস্টের পর একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটে কালবেলা তাদের প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম সংশোধন করে ‘বুড়িগঙ্গায় ছাত্রলীগের নৌকা মিছিলের ভিডিওটি ভুয়া’ করে। সংশোধিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ভুয়া। কালবেলার ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধানেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভিডিওতে নৌকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানার টাঙিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনী বার্তা দেওয়ার দাবি করা হয়েছিল। তবে কালবেলার ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধানে ভিডিওটির ওই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এদিকে ভিডিওটির স্থান নিয়ে পরাগের আগাম আপত্তি এবং পরবর্তী সময়ে কালবেলার ফ্যাক্ট চেকের মাধ্যমে ভিডিওটি ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য ও দৃশ্যের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।