ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাছিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ নূর নবী মোস্তাকিমের বিরুদ্ধে সরকারি প্রণোদনা, বিভিন্ন অনুদান, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও বিদ্যালয়ের অন্যান্য আয়-ব্যয়ের হিসাবে অনিয়ম ও অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে গত ২৫ আগস্ট জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কয়েকজন কর্মচারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ে সরকার প্রদত্ত ৫ লাখ টাকার প্রণোদনা, বিভিন্ন সরকারি অনুদান এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত টিউশন ফির প্রকৃত হিসাব জানতে গত ৫ আগস্ট তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হলেও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন কর্মচারীরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার আগে বিদ্যালয়ের ক্যাশবুক, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিল ভাউচার, অডিট রিপোর্ট ও পরিচালনা কমিটির রেজুলেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণ করা জরুরি। অন্যথায় এসব নথি পরিবর্তন, গোপন বা অপসারণের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, বিদ্যালয়ের সব আর্থিক নথি সংরক্ষণ, অভিযোগকারীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন, নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর শাহজাহান কবির, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর আনোয়ারুল হক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবুল হাসেম, নিরাপত্তাকর্মী শুকলাল রবিদাস ও শামীম, আয়া সোনিয়া আক্তার এবং অফিস সহায়ক সুমন হোসেন।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত রমজান মাসে বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালে নতুন ও পুরোনো বই বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা দুদু মিয়া বলেন, তিনি কয়েকটি ভ্যানগাড়িতে বই নিয়ে যেতে দেখেছেন।
বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী শামীম বলেন, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে তিনি স্টোররুম খুলে দিয়েছিলেন এবং বই নিতে সহযোগিতা করেছেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও সিনিয়র শিক্ষক পারভিনা বেগম জানান, সরকারি বরাদ্দের অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা অবগত নন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানান।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক কর্মচারীদের একাংশ। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা না করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক সৈয়দ নূর নবী মোস্তাকিমকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সবকিছু প্রধান শিক্ষক জানেন।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সৈয়দ ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব পেয়েছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। তবে অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান বলেন, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।