২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর এক বিতর্কিত উদযাপনকে কেন্দ্র করে ইংল্যান্ডে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন আর্জেন্টিনার দুই ফুটবলার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। ইংলিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় তারা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার করতে নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করেছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পর। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন, যাতে লেখা ছিল, ‘দ্য ফকল্যান্ড আইল্যান্ডস আর আর্জেন্টাইন’ (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার)। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ থাকায় ব্যানারটি প্রকাশ্যে আসার পর ইংল্যান্ডে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
ইংলিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ওই ব্যানারের সঙ্গে ম্যাক অ্যালিস্টার ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের নামও জড়িয়ে যায়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও ক্ষোভ বাড়তে থাকে। আরও পড়ুনআরও পড়ুন৯ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় প্যারেদেস
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ভাঙচুর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় লিভারপুলে বসবাসকারী ম্যাক অ্যালিস্টার এবং ম্যানচেস্টারে থাকা লিসান্দ্রো মার্তিনেজ নিজেদের বাড়ির নিরাপত্তায় বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছেন। তাদের পরিবারের সিদ্ধান্তেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে আরও বলা হয়েছে, নিরাপত্তা জোরদারের এই উদ্যোগে দুই ফুটবলারের ক্লাব- লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোনো ভূমিকা রাখেনি। এটি পুরোপুরি খেলোয়াড়দের পারিবারিক সিদ্ধান্ত।
এদিকে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয় ব্রিটিশ রাজনীতিক নাইল গার্ডিনারের এক বক্তব্যের পর। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সাবেক উপদেষ্টা গার্ডিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে দাবি করেন, প্রিমিয়ার লিগে খেলা যেসব আর্জেন্টাইন ফুটবলার ওই ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন, তাদের যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা উচিত।