ভ্রমণ, ব্যবসায়িক কাজ কিংবা জরুরি প্রয়োজনে অনেককেই আবাসিক হোটেলে থাকতে হয়। তবে সামান্য অসতর্কতা কখনও কখনও বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। চুরি, প্রতারণা, গোপনে ভিডিও ধারণ, পরিচয় জালিয়াতি কিংবা নিরাপত্তাজনিত নানা ঝুঁকি এড়াতে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। কয়েকটি সহজ সতর্কতা মেনে চললে আপনার অবস্থান আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
হোটেলে ওঠার আগে অবশ্যই সেটি বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। সম্ভব হলে পরিচিত বা ভালো সুনাম রয়েছে এমন হোটেল বেছে নিন। অনলাইনে রিভিউ দেখে বা পরিচিত কারও পরামর্শ নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। খুব কম ভাড়ার লোভে অপরিচিত বা সন্দেহজনক হোটেলে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
চেক-ইনের সময় নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা অন্যান্য পরিচয়পত্রের তথ্য সঠিকভাবে দিন। অন্যের পরিচয়পত্র ব্যবহার করা বা ভুয়া তথ্য দেওয়া আইনগত সমস্যার কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে হোটেলের রেজিস্টারে নিজের তথ্য ঠিকভাবে লেখা হয়েছে কি না, সেটিও দেখে নিন।
রুমে প্রবেশের পর প্রথমেই দরজা, লক, চেইন লক, জানালা এবং বাথরুম পরীক্ষা করুন। দরজা ঠিকভাবে বন্ধ হচ্ছে কি না এবং বাইরে থেকে কেউ সহজে প্রবেশ করতে পারবে কি না, তা নিশ্চিত করুন। দরজার আই-হোল বা পিপহোল থাকলে সেটিও ঠিকভাবে কাজ করছে কি না দেখে নিন।
মূল্যবান জিনিসপত্র যেমন নগদ টাকা, গয়না, ল্যাপটপ বা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র খোলা জায়গায় রেখে বাইরে যাবেন না। রুমে সেফটি লকার থাকলে সেটি ব্যবহার করুন। লকার না থাকলে প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত মূল্যবান জিনিস সঙ্গে না রাখাই ভালো।
অপরিচিত কেউ দরজায় নক করলে পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে দরজা খুলবেন না। নিজেকে হোটেল স্টাফ পরিচয় দিলেও প্রয়োজনে রিসেপশনে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নিন। কোনো অবস্থাতেই অপরিচিত ব্যক্তিকে রুমে প্রবেশ করতে দেবেন না।
বর্তমানে গোপন ক্যামেরা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। যদিও সব হোটেলে এমন ঘটনা ঘটে না, তবুও অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে রুমের আয়না, টিভির আশপাশ, ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র, চার্জার, ঘড়ি বা অস্বাভাবিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস খেয়াল করে দেখতে পারেন। কোনো কিছু সন্দেহজনক মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানান এবং প্রয়োজন হলে কক্ষ পরিবর্তনের অনুরোধ করুন।
হোটেলের ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকুন। পাবলিক নেটওয়ার্কে ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা গুরুত্বপূর্ণ পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করাই নিরাপদ। প্রয়োজন হলে নিজের মোবাইল ডাটা ব্যবহার করুন।
রুম থেকে বের হওয়ার সময় দরজা ভালোভাবে লক করুন। অনেকেই তাড়াহুড়ার কারণে দরজা পুরোপুরি বন্ধ না করেই বেরিয়ে যান, যা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে রুমে অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ করে রাখুন।
হোটেলের জরুরি বহির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং জরুরি যোগাযোগ নম্বর সম্পর্কে ধারণা রাখুন। অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কীভাবে দ্রুত বের হতে হবে, তা আগে থেকেই জানা থাকলে বিপদে কাজে আসে।
অপরিচিত কারও সঙ্গে নিজের রুম নম্বর, ব্যক্তিগত তথ্য বা ভ্রমণ পরিকল্পনা শেয়ার করবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে নিজের অবস্থান প্রকাশ করাও এড়িয়ে চলা ভালো। এতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত হয়।
হোটেলের কোনো সেবা বা বিল নিয়ে সমস্যা হলে উত্তেজিত না হয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজন হলে বিলের রসিদ সংগ্রহ করুন। কোনো প্রতারণা, চুরি বা অপরাধমূলক ঘটনার শিকার হলে দ্রুত স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
একটি নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই। হোটেল যত ভালোই হোক, ব্যক্তিগত সতর্কতা সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি এড়িয়ে নিশ্চিন্তে ভ্রমণ উপভোগ করা সম্ভব। মনে রাখবেন, নিরাপত্তা শুরু হয় নিজের সচেতনতা থেকেই।