নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এক দরিদ্র দিনমজুরের নগদ অ্যাকাউন্টে আসা প্রতিবন্ধী ভাতা ও সরকারি অর্থ বিভিন্ন কৌশলে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ওমর ফারুক মিয়া উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর বিকেল ৩টা ১৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে তাঁর নগদ অ্যাকাউন্টে প্রথম সরকারি অর্থ আসে। এরপর ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ২৭ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ওই অ্যাকাউন্টে আসা সরকারি ও প্রতিবন্ধী ভাতার অর্থ চক্রটি বিভিন্ন নম্বরে স্থানান্তর ও ক্যাশআউটের মাধ্যমে তুলে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ওমর ফারুক মিয়া একজন দরিদ্র দিনমজুর। তাঁর অভিযোগ, নিজের প্রয়োজনের জন্য পাওয়া সরকারি সহায়তার অর্থ তিনি ব্যবহার করতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয়। পরে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ফোন না দেওয়ার জন্য হুমকিসূচক কথাবার্তাও বলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অভিযুক্তদের কয়েকজন নগদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। তবে প্রতারণার সঙ্গে কারা কীভাবে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ওমর ফারুক মিয়া বলেন, “আমি গরিব মানুষ। আমার টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি আমার সব টাকা ফেরত চাই। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে চাই।”
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। ভুক্তভোগীর টাকা উদ্ধারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশের এমন বক্তব্যের পর ভুক্তভোগীর টাকা উদ্ধারে তদন্ত কতটা দ্রুত এগোয় এবং অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।