ইন্টারনেট যুগে শিক্ষা এখন আর শুধু বইয়ের পৃষ্ঠায় সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো বদলে দিচ্ছে শেখার ধরন, তৈরি করছে নতুন নতুন সম্ভাবনা। এমনই এক অনলাইন বিপ্লবের কারিগর হাসান হাবিবুন নবী শোভন, যিনি তার নিজের এবং সহযোদ্ধাদের উদ্যোগে “RDM English School” এর মাধ্যমে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ইংরেজি শেখার স্বপ্ন পূরণ করছেন।
ইউটিউব থেকে অনলাইন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা
নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজ থেকে পড়াশোনা করা শোভনের অনলাইন জার্নি শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে। প্রথমদিকে তিনি কমেডি ও ফানি ভিডিও তৈরি করলেও, ধীরে ধীরে তিনি তার কনটেন্টের ধরন পরিবর্তন করেন। ২০২৩ সালে তিনি ইংরেজি শিক্ষার উপর ভিডিও তৈরি শুরু করেন, যা দ্রুতই জনপ্রিয়তা লাভ করে। মাত্র তিন মাসের মধ্যে তার ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়িয়ে যায়, যা তার অসাধারণ দক্ষতা ও দর্শকদের সাথে সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতার প্রমাণ। বর্তমানে তার ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা সাত লক্ষেরও বেশি, যা তাকে দেশের অন্যতম সফল অনলাইন শিক্ষকের মর্যাদা এনে দিয়েছে।
RDM English School: ইংরেজি শেখার নতুন দুয়ার
শোভনের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হলো তার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম RDM English School, যেখানে দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী নিয়মিত ইংরেজি শেখার সুযোগ পাচ্ছে। তার লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দশ হাজারে পৌঁছানো এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এক লক্ষ শিক্ষার্থীকে ইংরেজি শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া। এটি শুধুমাত্র একটি সংখ্যাগত লক্ষ্য নয়, বরং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক মহৎ প্রয়াস।
সফলতার মূলমন্ত্র: অধ্যবসায় ও লক্ষ্য ঠিক রাখা
শোভনের সাফল্যের রহস্য তার অধ্যবসায়, সৃজনশীলতা এবং লক্ষ্য স্থির রাখার ক্ষমতা। তার ভিডিওগুলোর সহজ, সাবলীল ও মজার উপস্থাপনা শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে। তার উপার্জনের বড় অংশ আসে ইউটিউব, ফেসবুক এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে, যা প্রমাণ করে যে অনলাইন শিক্ষা শুধুমাত্র জ্ঞান বিতরণের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারও হতে পারে।
হাসান হাবিবুন নবী শোভন শুধু একজন উদ্যোক্তা নন, বরং তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম। তার লক্ষ্য শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষাই একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে। তার প্রচেষ্টা শুধু তাকে নয়, বরং পুরো একটি প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শোভন প্রত্যাশা করেন, একদিন তার স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়ে লাখো শিক্ষার্থীকে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে!

