ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

সুখী থাকতে জীবনযাত্রায় আনুন ছোট কিছু পরিবর্তন



সুখী থাকতে জীবনযাত্রায় আনুন ছোট কিছু পরিবর্তন
প্রতীকী ছবি

প্রতিযোগিতার এই বিশ্বে সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। সারাক্ষণ ছুটছে বিভিন্ন উৎপাদনশীল কাজে। দিন শেষে শরীর হচ্ছে ক্লান্ত । সকালে উঠে আবার ছুটছে একই কাজে। দিনের পর দিন এভাবে ছুটতে ছুটতে অনেকেই ক্লান্ত, অবসন্ন এবং পরিশ্রান্ত বোধ করেন। মানসিকভাবেও সুস্থ থাকতে পারেন না। 

‘ইন্ডিয়া টিভি’র  এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজেকে ভালো রাখতে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন প্রয়োজন। এর জন্য সবসময় জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হয় না। এর পরিবর্তে, দৈনন্দিন জীবনে নিয়মিতভাবে ছোট ছোট অভ্যাস যোগ করলে তা ধীরে ধীরে মানসিক সুস্থতা এবং মন শান্ত রাখতে সাহায্য করে। চলুন জেনে নিই কী কী অভ্যাস আপনাকে ভালো থাকতে সাহায্য করে-

নোটিফিকেশনের পরিবর্তে শ্বাস-প্রশ্বাস দিয়ে দিন শুরু করুন আজকের জীবনযাত্রার অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো মানুষ কীভাবে তাদের ফোন দিয়ে দিন শুরু এবং শেষ করে। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্ক্রোলিং এবং নোটিফিকেশন চেক করা একটি নতুন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই অভ্যাস আপনার মানসিক শান্তি অনেকটা নষ্ট করে দেয়। ভালো থাকতে সকালে ঘুম থেকে উঠার সঙ্গে সঙ্গে ফোন হাতে নেওয়ার পরিবর্তে ধীরে ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। ওই প্রতিবেদনে বলছে, সচেতনভাবে করা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়োমে মন শান্ত হয়, মানসিক চাপ কমে এবং শরীর সতেজ শক্তিতে ভরে ওঠে। প্রতিদিন সকালে প্রথমেই এই অভ্যাস করুন দেখবেন ,পুরো দিনটাই অন্যরকম লাগছে।

ধ্যান মনকে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দেয় মানুষ প্রায়ই শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর বেশি মনোযোগ দেয়, কিন্তু মানসিক সুস্থতাকে অবহেলা করে। মস্তিষ্ককে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দেওয়ার জন্য ধ্যান অন্যতম সহজ এবং কার্যকর উপায়। এজন্য প্রতিদিন অন্তত পাঁচ মিনিট নীরবতা পালন শুরু করুন। চোখ বন্ধ করে শান্তভাবে বসে শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোযোগ দিলে তা ধীরে ধীরে আবেগ শান্ত করতে এবং মনকে শিথিল করতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত ধ্যান মানুষকে মানসিকভাবে ধীর হতে সাহায্য করে।

যোগব্যায়াম শরীরে সঞ্চিত মানসিক চাপমুক্ত করতে সাহায্য করে

মানসিক চাপ শুধু মনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি প্রায়ই শরীরে জড়তা, কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়া এবং ক্লান্তির মাধ্যমে শারীরিকভাবে প্রকাশ পায়। যখন আমরা ব্যস্ত থাকি, তখন প্রায়ই শরীরে মানসিক চাপ ধরে রাখি। তখন আমাদের কাঁধ শক্ত হয়ে যায় এবং পিঠে ব্যথা হয়। যোগব্যায়াম শুধু ব্যায়াম নয়, তার চেয়েও বেশি কার্যকর। যোগব্যায়াম এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে গভীরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার সাথে সাথে শরীরকে সচল রাখার একটি উপায়। সকালে মাত্র দশ মিনিটের সাধারণ স্ট্রেচিংও শারীরিক চাপ কমাতে এবং মানুষকে আরও স্থির ও শান্ত অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে।

সচেতনভাবে খাবার খাওয়া  ‘ইন্ডিয়া টিভি’র ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাবার হলো ওষুধ। কিন্তু আমরা এর স্বাদ নিতে অবহেলা করি। অনেকেই ফোনে স্ক্রল করতে করতে, স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে অথবা কাজের তাড়াহুড়োয় খাবার খান। এতে খাবারের স্বাদ ঠিক মতো নিতে পারেন না। সুস্থ থাকতে দিনে একবার সম্পূর্ণ নীরবতায় খাওয়ার চেষ্টা করুন। ধীরে ধীরে চিবান। প্রতিটি গ্রাসের স্বাদ উপভোগ করুন। দেখবেন, মানসিক চাপ ও অন্যমনস্কতার মধ্যে খাওয়া দামি খাবারের চেয়ে সচেতনভাবে খাওয়া ঘরের তৈরি সাধারণ খাবার অনেক বেশি পুষ্টিকর মনে হবে।

ব্যক্তিগত সময়কে অবহেলা করা উচিত নয় মানুষ সারাদিনের কাজকর্মের বিভিন্ন সময়সূচি তৈরি করে কিন্তু নিজেদের জন্য খুব কমই সময় রাখে। কিন্তু ভালো থাকতে নিজের জন্য আলাদা সময় বের করা খুবই জরুরি। সেটা হতে পারে বই পড়া, বাগান করা, গান শোনা বা শুধু একা শান্ত সময় কাটানো। শখ মানুষকে মানসিকভাবে সতেজ হতে সাহায্য করে এবং তাদের মনে করিয়ে দেয় কাজের চাপের বাইরেও জীবন আছে।

কৃতজ্ঞতার সাথে দিন শেষ করুন ঘুমানোর আগে দিনের ইতিবাচক মুহূর্তগুলো নিয়ে ভাবুন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আপনার জীবনে সুন্দর প্রভাব ফেলবে।

ভারসাম্য মানেই পরিপূর্ণতা নয় একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন মানে প্রতিদিন নিখুঁতভাবে জীবনযাপন করা নয়। ভারসাম্যপূর্ণ জীবন সবসময় নিখুঁত হয় না, বরং এটি আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলো সম্পন্ন করার পাশাপাশি জীবনকে পুরোপুরি উপভোগ করতে সাহায্য করে। 

বিষয় : সুস্থ আছেন

বুড়িগঙ্গা

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


সুখী থাকতে জীবনযাত্রায় আনুন ছোট কিছু পরিবর্তন

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

প্রতিযোগিতার এই বিশ্বে সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। সারাক্ষণ ছুটছে বিভিন্ন উৎপাদনশীল কাজে। দিন শেষে শরীর হচ্ছে ক্লান্ত । সকালে উঠে আবার ছুটছে একই কাজে। দিনের পর দিন এভাবে ছুটতে ছুটতে অনেকেই ক্লান্ত, অবসন্ন এবং পরিশ্রান্ত বোধ করেন। মানসিকভাবেও সুস্থ থাকতে পারেন না। 

‘ইন্ডিয়া টিভি’র  এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজেকে ভালো রাখতে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন প্রয়োজন। এর জন্য সবসময় জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হয় না। এর পরিবর্তে, দৈনন্দিন জীবনে নিয়মিতভাবে ছোট ছোট অভ্যাস যোগ করলে তা ধীরে ধীরে মানসিক সুস্থতা এবং মন শান্ত রাখতে সাহায্য করে। চলুন জেনে নিই কী কী অভ্যাস আপনাকে ভালো থাকতে সাহায্য করে-

নোটিফিকেশনের পরিবর্তে শ্বাস-প্রশ্বাস দিয়ে দিন শুরু করুন আজকের জীবনযাত্রার অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো মানুষ কীভাবে তাদের ফোন দিয়ে দিন শুরু এবং শেষ করে। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্ক্রোলিং এবং নোটিফিকেশন চেক করা একটি নতুন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই অভ্যাস আপনার মানসিক শান্তি অনেকটা নষ্ট করে দেয়। ভালো থাকতে সকালে ঘুম থেকে উঠার সঙ্গে সঙ্গে ফোন হাতে নেওয়ার পরিবর্তে ধীরে ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। ওই প্রতিবেদনে বলছে, সচেতনভাবে করা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়োমে মন শান্ত হয়, মানসিক চাপ কমে এবং শরীর সতেজ শক্তিতে ভরে ওঠে। প্রতিদিন সকালে প্রথমেই এই অভ্যাস করুন দেখবেন ,পুরো দিনটাই অন্যরকম লাগছে।

ধ্যান মনকে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দেয় মানুষ প্রায়ই শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর বেশি মনোযোগ দেয়, কিন্তু মানসিক সুস্থতাকে অবহেলা করে। মস্তিষ্ককে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দেওয়ার জন্য ধ্যান অন্যতম সহজ এবং কার্যকর উপায়। এজন্য প্রতিদিন অন্তত পাঁচ মিনিট নীরবতা পালন শুরু করুন। চোখ বন্ধ করে শান্তভাবে বসে শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোযোগ দিলে তা ধীরে ধীরে আবেগ শান্ত করতে এবং মনকে শিথিল করতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত ধ্যান মানুষকে মানসিকভাবে ধীর হতে সাহায্য করে।

যোগব্যায়াম শরীরে সঞ্চিত মানসিক চাপমুক্ত করতে সাহায্য করে

মানসিক চাপ শুধু মনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি প্রায়ই শরীরে জড়তা, কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়া এবং ক্লান্তির মাধ্যমে শারীরিকভাবে প্রকাশ পায়। যখন আমরা ব্যস্ত থাকি, তখন প্রায়ই শরীরে মানসিক চাপ ধরে রাখি। তখন আমাদের কাঁধ শক্ত হয়ে যায় এবং পিঠে ব্যথা হয়। যোগব্যায়াম শুধু ব্যায়াম নয়, তার চেয়েও বেশি কার্যকর। যোগব্যায়াম এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে গভীরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার সাথে সাথে শরীরকে সচল রাখার একটি উপায়। সকালে মাত্র দশ মিনিটের সাধারণ স্ট্রেচিংও শারীরিক চাপ কমাতে এবং মানুষকে আরও স্থির ও শান্ত অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে।

সচেতনভাবে খাবার খাওয়া  ‘ইন্ডিয়া টিভি’র ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাবার হলো ওষুধ। কিন্তু আমরা এর স্বাদ নিতে অবহেলা করি। অনেকেই ফোনে স্ক্রল করতে করতে, স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে অথবা কাজের তাড়াহুড়োয় খাবার খান। এতে খাবারের স্বাদ ঠিক মতো নিতে পারেন না। সুস্থ থাকতে দিনে একবার সম্পূর্ণ নীরবতায় খাওয়ার চেষ্টা করুন। ধীরে ধীরে চিবান। প্রতিটি গ্রাসের স্বাদ উপভোগ করুন। দেখবেন, মানসিক চাপ ও অন্যমনস্কতার মধ্যে খাওয়া দামি খাবারের চেয়ে সচেতনভাবে খাওয়া ঘরের তৈরি সাধারণ খাবার অনেক বেশি পুষ্টিকর মনে হবে।

ব্যক্তিগত সময়কে অবহেলা করা উচিত নয় মানুষ সারাদিনের কাজকর্মের বিভিন্ন সময়সূচি তৈরি করে কিন্তু নিজেদের জন্য খুব কমই সময় রাখে। কিন্তু ভালো থাকতে নিজের জন্য আলাদা সময় বের করা খুবই জরুরি। সেটা হতে পারে বই পড়া, বাগান করা, গান শোনা বা শুধু একা শান্ত সময় কাটানো। শখ মানুষকে মানসিকভাবে সতেজ হতে সাহায্য করে এবং তাদের মনে করিয়ে দেয় কাজের চাপের বাইরেও জীবন আছে।

কৃতজ্ঞতার সাথে দিন শেষ করুন ঘুমানোর আগে দিনের ইতিবাচক মুহূর্তগুলো নিয়ে ভাবুন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আপনার জীবনে সুন্দর প্রভাব ফেলবে।

ভারসাম্য মানেই পরিপূর্ণতা নয় একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন মানে প্রতিদিন নিখুঁতভাবে জীবনযাপন করা নয়। ভারসাম্যপূর্ণ জীবন সবসময় নিখুঁত হয় না, বরং এটি আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলো সম্পন্ন করার পাশাপাশি জীবনকে পুরোপুরি উপভোগ করতে সাহায্য করে। 


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
সুখী থাকতে জীবনযাত্রায় আনুন ছোট কিছু পরিবর্তন
0:00 0:00
1.0x