ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ


প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ
অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ সম্পর্কে আজকে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো, এ মহান লেখকের বইটি জীবন বাস্তবতার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, নিজের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার জন্য ' অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ ' বইটি পড়ে আমাদের পারিবারিক সামাজিক জীবন রীতির জন্য যে উপদেশ নামা দেওয়া আছে সেগুলো জেনে আমাদের জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে সহজ হবে।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ

জনপ্রিয় এই বুড়িগঙ্গা টিভি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ' অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ ' সম্পর্কে অল্প কথায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে,পাঠকের বুক রিভিউটি, এবং লেখককের দূরদর্শী সম্পূর্ণ চিন্তার বহিঃপ্রকাশ খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে, বুক রিভিউটি তে তথ্যবহুল আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ

অসমাপ্ত আত্মজীবনী-বইটি কেবল একটি আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথা গ্রন্থ নয়, এটিকে একাধারে বলা যায় একটি উচ্চপর্যায়ের সাহিত্যগ্রন্থ-যাতে সুখ আছে,ট্রেজিডি আছে, আছে বিদ্রোহ,বলা যায় রাজনৈতিক গ্রন্থ, ভ্রমণ সাহিত্য বা দর্শন গ্রন্থ, একটি অনন্য ইতিহাস গ্রন্থ যাতে রয়েছে তিনটি(ভারত,পাকিস্তান,বাংলাদেশ) দেশ জন্মের পটভূমি, ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ হাতে জেলে বসে সমস্ত কিছু জীবনী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।তাই বইটি রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে একটি অনবদ্য ঐতিহাসিক দলিল। বইটিতে শেখ বংশের গোড়াপত্তন থেকে শুরু করে ১৯৫৫ সাল বা যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন পরবর্তী ইতিহাস পর্যন্ত বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। জীবনীগ্রন্থটিতে উল্লেখ আছে শেখ মুজিবের আত্মজীবনী গ্রন্থ লেখার পিছনে কারণ, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণার বিষয়টি, বংশপরিচয়, উনার পরিবার, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, রাজনৈতিক জীবন, লাহোর প্রস্তাব, ভাষা আন্দোলন, আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠা, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, নির্বাচনের জয়লাভ, আদমজীর দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যমূলক শাসন, শেখ মুজিবের ভারত, পশ্চিম পাকিস্তান,নয়াচীন ভ্রমণ কাহিনী, রয়েছে তৎকালীন অসংখ্য রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে আলাপচারিতা, বাঙালির কিছু নেতিবাচক সমালোচনা, শেখ মুজিবের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানুষের ভালোবাসা। এতে শেখ মুজিবের নিজস্ব জীবন দর্শন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বইটি শেখ মুজিবের হাতে লিখিত খাতার মূল পান্ডুলিপি থেকে "অসমাপ্ত আত্মজীবনী"নামক গ্রন্থে রূপ দেন তারই সুযোগ্য জ্যেষ্ঠ কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তিনিও কারাগারে বন্দি অবস্থায় বইটির ভূমিকা লেখেন। ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধুর লেখা চারটি খাতা হাতে পেয়ে দীর্ঘশ্রম আর কয়েকজনের সহযোগিতায় ২০১২ সালের জুনে "দি ইউনিভার্সিটি ফ্রেস লিমিটেড" থেকে বইটি প্রকাশ করেন। লেখক বঙ্গবন্ধু ১৯৫৫ সাল বা যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন পরবর্তী পর্যন্ত খন্ড বা অসমাপ্ত জীবনী লিখতে পেরেছিলেন। যেখানে "অসমাপ্ত আত্মজীবনী" বইটির নামের সার্থকতা। এটিতে অখন্ড বাংলা এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ভিত উল্লেখ করা হয়েছে। বইটির শুরুর দিকে আছে শেখ বংশ ও শেখ মুজিবের পরিচয়, বইটি লেখার পিছনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব(বঙ্গবন্ধু ডাকতেন রেনু) এবং সহকর্মীদের অনুপ্রেরণার কথা। বইটির আদ্যোপান্ত তৎকালীন বাংলার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর (বঙ্গবন্ধু ডাকতেন শহীদ সাহেব)কথা উল্লেখ আছে। শেরে বাংলা একে ফজলুল হক কে তিনি হক সাহেব সম্বোধন করতেন।   শেখ মুজিবের শৈশব থেকে রাজনৈতিক চেতনা ও মানুষকে ভালোবাসার চেতনা ফুটে উঠেছে গরীব শিক্ষার্থীদের জন্য মুষ্টি ভিক্ষার চাল সংগ্রহ ও স্কুলের পক্ষে দাবি আদায়ের প্রতিনিধিত্ব করার মাধ্যমে। ভালো খেলোয়াড়দের বেতন ফ্রি করে দিতেন।শিশু মুজিব থেকেই তিনি ছিলেন রাজনীতি সচেতন। নিয়মিত পত্রিকা পড়ে খোঁজ খবর রাখতেন। রাজনীতি চর্চার ক্ষেত্রে তার পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতার সাহেরা খাতুনের উৎসাহ পান। গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে প্রাথমিক সমাপ্ত করে ভর্তি হন কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে। সে কলেজেরই বেকার হোস্টেলের ২৪নং কক্ষ ছিল তার রাজনীতি চর্চার আঁতুড় ঘর। তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার অভিসংবাদিত নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সান্নিধ্যে আসেন তিনি। কিন্তু তিনি সততার প্রশ্নে শহীদ সাহেবকেও যোগ্য জবাব দিতে ভুলেন নি। তারই প্রমাণ পাওয়া যায় বইটির ২৯ নং পৃষ্ঠায় তার প্রতিবাদী ভাষায়, যখন শহীদ সাহেব অযোগ্য আনোয়ার সাহেবকে পদ দিতে চান। শহীদ সাহেব বললেন, "Who are you? you are nobody. প্রতিউত্তরে শেখ মুজিব বললেন, "If I am nobody then why you have invited me? you have no right to insult me. I will prove that I am somebody. Thank you sir. I will never come to you again." পরবর্তীতে শহীদ সাহেব শেখ মুজিবকে সব বুঝিয়ে শান্ত করেন। এরই মাঝে ভারত পাকিস্তান ভাগ হয়। পাকিস্তানের প্রাদেশিক দেশ হিসেবে পূর্ব বাংলায় তথা পূর্ব পাকিস্তানে শুরু হয় শোষণ,বঞ্চনা,অত্যাচারের ইতিহাস। বাংলা কে রাষ্ট্রভাষা আদায়ে জেলে বসেই অলি আহাদকে নেতৃত্ব দিয়ে ভাষা আন্দোলন শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ সময় তার জীবনের ব্রিটিশ আমল থেকে ৪৬৮২ দিন থাকতে হয়েছে জেলেই কারারুদ্ধ যার করুণ দৃশ্য প্রকাশ পায় শিশু কামাল তার পিতা শেখ মুজিবকে না চেনার মাধ্যমে। [caption id="attachment_4464" align="alignnone" width="1224"]অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ[/caption]

অসমাপ্ত আত্মজীবনী বুক রিভিউ

দীর্ঘদিন দেখা না হওয়ায় সন্তানও পিতাকে ভুলে যায়। ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি ও মহিউদ্দিন সাহেব কারাগারে আমরণ অনশন শুরু করেন। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে শক্তিশালী দল আওয়ামী মুসলিম লীগ (পরিবর্তিত নাম আওয়ামী লীগ) প্রতিষ্ঠিত হয়। ভাষা আন্দোলনের পর শেখ মুজিবের সমর্থনে যুক্তফ্রন্টের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়। এমনকি নির্বাচনে জনগণ টাকা কড়ি দিয়ে সমর্থন করেছিল। যার প্রমাণ পাওয়া যায় গরিব বুড়ির চার আনা পয়সা দেওয়ার মাধ্যমে। অর্থাৎ যার যা ছিল তাই নিয়ে এগিয়ে আসে। বাঙালি-অবাঙালি দাঙ্গার মুখে যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙে দেওয়া হয়। শেখ মুজিব বক্তৃতা দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। কিন্তু হক সাহেবকে রাষ্ট্রদ্রোহী এবং শেখ মুজিবকে দাঙ্গাকারী রটানো হয়। আবার জেল হয়। যুক্তফ্রন্টের অনেকে ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে হাত মিলায় মন্ত্রীত্বের আশায়। কিন্তু ১৯৫৫ সালে মামলার রায়ে, শেখ মুজিব কে শান্তিভঙ্গকারী না বলে শান্তিরক্ষাকারী বলা হয়। শেখ মুজিবের চীন,ভারত,পশ্চিম পাকিস্তান ভ্রমণ বইটিকে সাহিত্যের বিশেষ মাত্রা দান করেছে। বইটির শেষাংশে রয়েছে টীকা, বঙ্গবন্ধুর ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত রাজনৈতিক জীবন, জীবনবৃত্তান্তমূলক টীকা এবং নির্ঘণ্ট। বাঙালির পরশ্রীকাতরতা এবং বিশ্বাসঘাতকতা দিকটির সমালোচনা করেন বইটির ৪৭ নং পৃষ্ঠায়। বাঙালির বিশ্বাসঘাতকতাই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রমাণ করেছে রক্ত শ্রাবণের মাধ্যমে ধানমন্ডির ৩২ নং বাড়িটিতে। বঙ্গবন্ধুর কারাগারে বসে অসমাপ্ত আত্মজীবনী লিখলেও তা দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদের জন্য মূলমন্ত্র। এটি শুধু একজন আদর্শবান রাজনৈতিক এর স্মৃতিকথা নয়, উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের স্মৃতি ভান্ডার। যা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা শত শত বইয়ের ঊর্ধ্বে। বইটি বাংলাদেশের আত্মপরিচয় ইতিহাসের ভিত্তি। যেটি মুজিব বেটি শেখ হাসিনার উদ্যোগে বাঙালি ও বিশ্ব উপহার পেয়েছে। বইটি এ পর্যন্ত ১৭টি ভাষায় অনুদিত হয়ে শেখ মুজিবের আত্মজীবন পৌঁছে গেছে লক্ষ প্রাণ থেকে কোটি প্রাণে। মৃত্যুও তাঁকে বিশ্বনেতা হতে দমাতে পারে নাই। ( কৃতজ্ঞ = বুক রিভিউ, আফিয়া সুলতানা একা , বইয়ের নাম:অসমাপ্ত আত্মজীবনী , বইটির লেখক:শেখ মুজিবুর রহমান)

শেষ কথা

মানুষের জীবনে অনেক উত্থান পতন রয়েছে, এই উত্থান পতন চরিত্রগুলো ' অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ ' বইটিতে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে, সুখ দুঃখ হাসি কান্নার জীবনবোধগুলো লেখক তার লেখনীতে তুলে ধরেছে, পাঠক তার নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য এই বইয়ের উপদেশগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বুড়িগঙ্গা

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪

featured Image
অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ সম্পর্কে আজকে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো, এ মহান লেখকের বইটি জীবন বাস্তবতার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, নিজের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার জন্য ' অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ ' বইটি পড়ে আমাদের পারিবারিক সামাজিক জীবন রীতির জন্য যে উপদেশ নামা দেওয়া আছে সেগুলো জেনে আমাদের জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে সহজ হবে।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ

জনপ্রিয় এই বুড়িগঙ্গা টিভি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ' অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ ' সম্পর্কে অল্প কথায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে,পাঠকের বুক রিভিউটি, এবং লেখককের দূরদর্শী সম্পূর্ণ চিন্তার বহিঃপ্রকাশ খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে, বুক রিভিউটি তে তথ্যবহুল আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ

অসমাপ্ত আত্মজীবনী-বইটি কেবল একটি আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথা গ্রন্থ নয়, এটিকে একাধারে বলা যায় একটি উচ্চপর্যায়ের সাহিত্যগ্রন্থ-যাতে সুখ আছে,ট্রেজিডি আছে, আছে বিদ্রোহ,বলা যায় রাজনৈতিক গ্রন্থ, ভ্রমণ সাহিত্য বা দর্শন গ্রন্থ, একটি অনন্য ইতিহাস গ্রন্থ যাতে রয়েছে তিনটি(ভারত,পাকিস্তান,বাংলাদেশ) দেশ জন্মের পটভূমি, ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ হাতে জেলে বসে সমস্ত কিছু জীবনী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।তাই বইটি রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে একটি অনবদ্য ঐতিহাসিক দলিল। বইটিতে শেখ বংশের গোড়াপত্তন থেকে শুরু করে ১৯৫৫ সাল বা যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন পরবর্তী ইতিহাস পর্যন্ত বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। জীবনীগ্রন্থটিতে উল্লেখ আছে শেখ মুজিবের আত্মজীবনী গ্রন্থ লেখার পিছনে কারণ, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণার বিষয়টি, বংশপরিচয়, উনার পরিবার, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, রাজনৈতিক জীবন, লাহোর প্রস্তাব, ভাষা আন্দোলন, আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠা, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, নির্বাচনের জয়লাভ, আদমজীর দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যমূলক শাসন, শেখ মুজিবের ভারত, পশ্চিম পাকিস্তান,নয়াচীন ভ্রমণ কাহিনী, রয়েছে তৎকালীন অসংখ্য রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে আলাপচারিতা, বাঙালির কিছু নেতিবাচক সমালোচনা, শেখ মুজিবের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানুষের ভালোবাসা। এতে শেখ মুজিবের নিজস্ব জীবন দর্শন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বইটি শেখ মুজিবের হাতে লিখিত খাতার মূল পান্ডুলিপি থেকে "অসমাপ্ত আত্মজীবনী"নামক গ্রন্থে রূপ দেন তারই সুযোগ্য জ্যেষ্ঠ কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তিনিও কারাগারে বন্দি অবস্থায় বইটির ভূমিকা লেখেন। ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধুর লেখা চারটি খাতা হাতে পেয়ে দীর্ঘশ্রম আর কয়েকজনের সহযোগিতায় ২০১২ সালের জুনে "দি ইউনিভার্সিটি ফ্রেস লিমিটেড" থেকে বইটি প্রকাশ করেন। লেখক বঙ্গবন্ধু ১৯৫৫ সাল বা যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন পরবর্তী পর্যন্ত খন্ড বা অসমাপ্ত জীবনী লিখতে পেরেছিলেন। যেখানে "অসমাপ্ত আত্মজীবনী" বইটির নামের সার্থকতা। এটিতে অখন্ড বাংলা এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ভিত উল্লেখ করা হয়েছে। বইটির শুরুর দিকে আছে শেখ বংশ ও শেখ মুজিবের পরিচয়, বইটি লেখার পিছনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব(বঙ্গবন্ধু ডাকতেন রেনু) এবং সহকর্মীদের অনুপ্রেরণার কথা। বইটির আদ্যোপান্ত তৎকালীন বাংলার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর (বঙ্গবন্ধু ডাকতেন শহীদ সাহেব)কথা উল্লেখ আছে। শেরে বাংলা একে ফজলুল হক কে তিনি হক সাহেব সম্বোধন করতেন।   শেখ মুজিবের শৈশব থেকে রাজনৈতিক চেতনা ও মানুষকে ভালোবাসার চেতনা ফুটে উঠেছে গরীব শিক্ষার্থীদের জন্য মুষ্টি ভিক্ষার চাল সংগ্রহ ও স্কুলের পক্ষে দাবি আদায়ের প্রতিনিধিত্ব করার মাধ্যমে। ভালো খেলোয়াড়দের বেতন ফ্রি করে দিতেন।শিশু মুজিব থেকেই তিনি ছিলেন রাজনীতি সচেতন। নিয়মিত পত্রিকা পড়ে খোঁজ খবর রাখতেন। রাজনীতি চর্চার ক্ষেত্রে তার পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতার সাহেরা খাতুনের উৎসাহ পান। গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে প্রাথমিক সমাপ্ত করে ভর্তি হন কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে। সে কলেজেরই বেকার হোস্টেলের ২৪নং কক্ষ ছিল তার রাজনীতি চর্চার আঁতুড় ঘর। তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার অভিসংবাদিত নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সান্নিধ্যে আসেন তিনি। কিন্তু তিনি সততার প্রশ্নে শহীদ সাহেবকেও যোগ্য জবাব দিতে ভুলেন নি। তারই প্রমাণ পাওয়া যায় বইটির ২৯ নং পৃষ্ঠায় তার প্রতিবাদী ভাষায়, যখন শহীদ সাহেব অযোগ্য আনোয়ার সাহেবকে পদ দিতে চান। শহীদ সাহেব বললেন, "Who are you? you are nobody. প্রতিউত্তরে শেখ মুজিব বললেন, "If I am nobody then why you have invited me? you have no right to insult me. I will prove that I am somebody. Thank you sir. I will never come to you again." পরবর্তীতে শহীদ সাহেব শেখ মুজিবকে সব বুঝিয়ে শান্ত করেন। এরই মাঝে ভারত পাকিস্তান ভাগ হয়। পাকিস্তানের প্রাদেশিক দেশ হিসেবে পূর্ব বাংলায় তথা পূর্ব পাকিস্তানে শুরু হয় শোষণ,বঞ্চনা,অত্যাচারের ইতিহাস। বাংলা কে রাষ্ট্রভাষা আদায়ে জেলে বসেই অলি আহাদকে নেতৃত্ব দিয়ে ভাষা আন্দোলন শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ সময় তার জীবনের ব্রিটিশ আমল থেকে ৪৬৮২ দিন থাকতে হয়েছে জেলেই কারারুদ্ধ যার করুণ দৃশ্য প্রকাশ পায় শিশু কামাল তার পিতা শেখ মুজিবকে না চেনার মাধ্যমে। [caption id="attachment_4464" align="alignnone" width="1224"]অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ[/caption]

অসমাপ্ত আত্মজীবনী বুক রিভিউ

দীর্ঘদিন দেখা না হওয়ায় সন্তানও পিতাকে ভুলে যায়। ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি ও মহিউদ্দিন সাহেব কারাগারে আমরণ অনশন শুরু করেন। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে শক্তিশালী দল আওয়ামী মুসলিম লীগ (পরিবর্তিত নাম আওয়ামী লীগ) প্রতিষ্ঠিত হয়। ভাষা আন্দোলনের পর শেখ মুজিবের সমর্থনে যুক্তফ্রন্টের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়। এমনকি নির্বাচনে জনগণ টাকা কড়ি দিয়ে সমর্থন করেছিল। যার প্রমাণ পাওয়া যায় গরিব বুড়ির চার আনা পয়সা দেওয়ার মাধ্যমে। অর্থাৎ যার যা ছিল তাই নিয়ে এগিয়ে আসে। বাঙালি-অবাঙালি দাঙ্গার মুখে যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙে দেওয়া হয়। শেখ মুজিব বক্তৃতা দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। কিন্তু হক সাহেবকে রাষ্ট্রদ্রোহী এবং শেখ মুজিবকে দাঙ্গাকারী রটানো হয়। আবার জেল হয়। যুক্তফ্রন্টের অনেকে ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে হাত মিলায় মন্ত্রীত্বের আশায়। কিন্তু ১৯৫৫ সালে মামলার রায়ে, শেখ মুজিব কে শান্তিভঙ্গকারী না বলে শান্তিরক্ষাকারী বলা হয়। শেখ মুজিবের চীন,ভারত,পশ্চিম পাকিস্তান ভ্রমণ বইটিকে সাহিত্যের বিশেষ মাত্রা দান করেছে। বইটির শেষাংশে রয়েছে টীকা, বঙ্গবন্ধুর ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত রাজনৈতিক জীবন, জীবনবৃত্তান্তমূলক টীকা এবং নির্ঘণ্ট। বাঙালির পরশ্রীকাতরতা এবং বিশ্বাসঘাতকতা দিকটির সমালোচনা করেন বইটির ৪৭ নং পৃষ্ঠায়। বাঙালির বিশ্বাসঘাতকতাই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রমাণ করেছে রক্ত শ্রাবণের মাধ্যমে ধানমন্ডির ৩২ নং বাড়িটিতে। বঙ্গবন্ধুর কারাগারে বসে অসমাপ্ত আত্মজীবনী লিখলেও তা দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদের জন্য মূলমন্ত্র। এটি শুধু একজন আদর্শবান রাজনৈতিক এর স্মৃতিকথা নয়, উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের স্মৃতি ভান্ডার। যা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা শত শত বইয়ের ঊর্ধ্বে। বইটি বাংলাদেশের আত্মপরিচয় ইতিহাসের ভিত্তি। যেটি মুজিব বেটি শেখ হাসিনার উদ্যোগে বাঙালি ও বিশ্ব উপহার পেয়েছে। বইটি এ পর্যন্ত ১৭টি ভাষায় অনুদিত হয়ে শেখ মুজিবের আত্মজীবন পৌঁছে গেছে লক্ষ প্রাণ থেকে কোটি প্রাণে। মৃত্যুও তাঁকে বিশ্বনেতা হতে দমাতে পারে নাই। ( কৃতজ্ঞ = বুক রিভিউ, আফিয়া সুলতানা একা , বইয়ের নাম:অসমাপ্ত আত্মজীবনী , বইটির লেখক:শেখ মুজিবুর রহমান)

শেষ কথা

মানুষের জীবনে অনেক উত্থান পতন রয়েছে, এই উত্থান পতন চরিত্রগুলো ' অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ ' বইটিতে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে, সুখ দুঃখ হাসি কান্নার জীবনবোধগুলো লেখক তার লেখনীতে তুলে ধরেছে, পাঠক তার নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য এই বইয়ের উপদেশগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বুক রিভিউ
0:00 0:00
1.0x