ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

ইবোলা প্রাদুর্ভাবে কঙ্গো ও উগান্ডায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা



ইবোলা প্রাদুর্ভাবে কঙ্গো ও উগান্ডায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
শিশুকে টিকা দিচ্ছে একজন স্বাস্থ্যকর্মী। সংগৃহীত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডা-এ ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে “আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা” হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, ভাইরাসটি এখন প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

রোববার (১৭ মে) ডব্লিউএইচও জানায়, বান্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট এই প্রাদুর্ভাব এখনও বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে না পৌঁছালেও ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে স্থলসীমান্ত থাকা দেশগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের বুনিয়া, রোয়ামপারা ও মংবওয়ালুসহ অন্তত তিনটি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ইবোলায় ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ল্যাব পরীক্ষায় ৮ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও ২৪৬ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শুক্রবার ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটিতে নতুন এ প্রাদুর্ভাবে ৮০ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করে। ১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হওয়ার পর দেশটিতে এটি ১৭তম প্রাদুর্ভাব।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, প্রাথমিক নমুনায় ভাইরাস শনাক্তের হার বেশি হওয়ায় এবং আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় এবারের পরিস্থিতি বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বান্ডিবুগিও প্রজাতির জন্য এখনো নির্দিষ্ট কোনো টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই। ডিআর কঙ্গোর আগের অধিকাংশ প্রাদুর্ভাবে ইবোলার “জাইর” প্রজাতি শনাক্ত হয়েছিল, যার বিরুদ্ধে বর্তমানে বিভিন্ন দেশে টিকা ব্যবহৃত হচ্ছে।

এদিকে উগান্ডার রাজধানী কামপালায় দুই ব্যক্তির শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, দুজনই সম্প্রতি ডিআর কঙ্গো সফর করে দেশে ফিরেছিলেন এবং তারা আলাদাভাবে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিআর কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাতেও একজনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তিনি ইতুরি অঞ্চল থেকে ফিরেছিলেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ সড়কে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আইসোলেশনে নেওয়া এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও। একইসঙ্গে আতঙ্কে সীমান্ত বন্ধ বা বাণিজ্যে কঠোর নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল, ব্যবহৃত সামগ্রী এবং মৃতদেহ থেকেও ছড়াতে পারে। এতে জ্বর, ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয় এবং এটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী হতে পারে।

বিষয় : মহামারি উগান্ডা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বুড়িগঙ্গা

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


ইবোলা প্রাদুর্ভাবে কঙ্গো ও উগান্ডায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডা-এ ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে “আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা” হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, ভাইরাসটি এখন প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

রোববার (১৭ মে) ডব্লিউএইচও জানায়, বান্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট এই প্রাদুর্ভাব এখনও বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে না পৌঁছালেও ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে স্থলসীমান্ত থাকা দেশগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের বুনিয়া, রোয়ামপারা ও মংবওয়ালুসহ অন্তত তিনটি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ইবোলায় ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ল্যাব পরীক্ষায় ৮ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও ২৪৬ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শুক্রবার ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটিতে নতুন এ প্রাদুর্ভাবে ৮০ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করে। ১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হওয়ার পর দেশটিতে এটি ১৭তম প্রাদুর্ভাব।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, প্রাথমিক নমুনায় ভাইরাস শনাক্তের হার বেশি হওয়ায় এবং আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় এবারের পরিস্থিতি বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বান্ডিবুগিও প্রজাতির জন্য এখনো নির্দিষ্ট কোনো টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই। ডিআর কঙ্গোর আগের অধিকাংশ প্রাদুর্ভাবে ইবোলার “জাইর” প্রজাতি শনাক্ত হয়েছিল, যার বিরুদ্ধে বর্তমানে বিভিন্ন দেশে টিকা ব্যবহৃত হচ্ছে।

এদিকে উগান্ডার রাজধানী কামপালায় দুই ব্যক্তির শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, দুজনই সম্প্রতি ডিআর কঙ্গো সফর করে দেশে ফিরেছিলেন এবং তারা আলাদাভাবে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিআর কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাতেও একজনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তিনি ইতুরি অঞ্চল থেকে ফিরেছিলেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ সড়কে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আইসোলেশনে নেওয়া এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও। একইসঙ্গে আতঙ্কে সীমান্ত বন্ধ বা বাণিজ্যে কঠোর নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল, ব্যবহৃত সামগ্রী এবং মৃতদেহ থেকেও ছড়াতে পারে। এতে জ্বর, ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয় এবং এটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী হতে পারে।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
ইবোলা প্রাদুর্ভাবে কঙ্গো ও উগান্ডায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
0:00 0:00
1.0x